Home ছোট গল্প একজন অসহায় ছেলের লজ্জাবতী বউ

একজন অসহায় ছেলের লজ্জাবতী বউ

Two love shape on the wooden floor over blur background

এই তুমি আমাকে ধরেছ কেন?
ছাড় আমায়!
-কি মুশকিল আমি আবার
তোমাকে ধরলাম কখন!
-ইশশ! নেকা , আরো যাও
ঐ দিকে যাও।
-ওকে বাবা ওকে যাচ্চি।
..
এই হল নিতু আর কায়সারের
রোজকার রাতের ঝগড়ার এক
অংশ। সবে দিন বিশে’ক
হবে বিয়ে হয়েছে।
নিতু খুবই লাজুক একটা
মেয়ে। নিজের গাঁ এ কেউ
হাত দিলেই তার রক্ষে নেই।
..
রাতের বেলায় ঘুমাতে গেলে
দু জন দু দিকে ফিরে ঘুমায়। বিছানার
মাঝখানে ইয়া বড়
একটা কোল বালিশ, ভারত পাকিস্তানের
বর্ডার।
.ভুল বশত কায়সার এর হাত যদি ঐদিকে
যায় তাহলেই শুরু
হয় রোজকার রাতের ঝগড়া।
..
কায়সার ছেলেটা এমনিতেই
বিছানায় গড়া গড়ি দেওয়ার
স্বভাব। ছোট বেলা থেকেই
তার এক সমস্যাঃ রাতের বেলায়
বালিসে মাথা দেখলেও, সকাল বেলায়
বালিসে পা দেখে।
মানে গড়াতে গড়াতে পা এর স্থলে মাথা
আর মাথার স্থলে পা।
..
ভাগ্যিস ছেলেটা লঙ্গিটা ভাল
গিট্টু দিতে জানে। না হলে যে গড়া গড়ি
করে একে বারে বিপদসীমা অতিক্রম
করে ফেলত এত দিনে। আর তার লাজুক
বউয়ের সামনে তখন Pk সাজা লাগতো।
..
একদিন কায়সার গোসল করে
বের হয়ে কাপড় পড়ছিল।
এমন সময় নিতুর আগমন।
নিতু তাকে এই অবস্থায় দেখে
একে বারে মাথা ঘুরে অঙ্গান।
..
মাথা ঘুরে অঙ্গান হওয়ায় বাড়ি সবাই
চিন্তিত হয়ে পড়ল। কারন সবে ১০ দিন হল
বিয়ে হয়েছে।এত তাড়াতাড়ি কেমনে
সম্ভব???। [অন্য কিছু মিন করেছি , বুঝে
নিবেন]
..
পরে সবাই অঙ্গান হওয়ার
ঘটনা জানতে পেরে হাসিতে
হাসিতে একেবারে মাটিতে
গড়া গড়ি।
..
কায়সার শুয়ে শুয়ে ভাবছে।
শালা এত্ত দিন বিয়ে হল, এখনও বউটার
হাত কেমন তাও দেখতে পারি নি।
কি যে করি। এদিকে নিতু
এসেই কোলবালিশটা নিয়ে
বর্ডার পেতেছে।
..
এ তো বিরাট একটা সমস্যা। এই সমস্যা
সমাধান করতে কায়সার তার চিকুন আলী
মামাকে
খবর দিল।
..
একে বারে খাঁটি বাংলার মানুষ। তিনি
বাটা জুতার দোকানে গেলেও
দামাদামি করে।
তার ভয়ে বাটা দোকানের মালিক
শ্রমিক সব পোলাপলি খেলে। তাহলে
বুঝেনই কি মার্কামারা লোক।
..
সব ঘটনা মামা শুনে ,ঐ দিন ঘুমাতে যায় ।
রাতের বেলায়
মামা নিতুকে ভুতে ভয় দেখায়।
নিতু ভয় পেয়ে বর্ডার ক্রস করে কায়সার
এর বুকে মাথা রেখে
তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে যায়।
..
পরদিন সকালে কায়সার দেখে
তার বুকের উপর নিতু ঘুমিয়ে
আছে।সে ভয়ে কাঁপতে থাকে।
সে মনে করল এটা বোধ হয়
তার গতকাল রাতে গড়াগড়ির ফসল।
..
কিন্তু না ঘুম ভেঙ্গেই নিতু কায়সারের
দিকে তাকিয়ে
একটু লজ্জা ময়ী হাসি দিয়ে
চুটে চলে যায়।
..
সকালে মামা ভাগনে পুরা
ঘটনা টা নিয়ে হাসতে হাসতে
গামছা ড্যান্স দিতে লাগল।
এমন সময় দরজার আড়ালে
থেকে সব শুনে নিতু।
..
ঘরে ঢুকতেই মামা কেটে পড়ল। কায়সার
অসহায় ছেলের মত তাকিয়ে আছে।
কিছুক্ষন পর নিতু মুচকি হাসতে লাগল।
..
আজ বিছানায় আর কোলবালিশ দেখা
যায় নি। দু জন দু জনাকে জড়িয়ে ধরে
চাঁদ দেখছে।
আরো কত কি হবে আজ রাতে!! যা দেখে
চাঁদটা লজ্জায় মেঘের আড়ালে লুকিয়ে
যাবে।
আর মামুর বেটা চিকুন আলী
আড়ি পেতে সব শুনছে আর তার জুলেখা
বানুর কথা ভাবছে।
আহ.. একেই বলে ভালবাসা।