বান্ধবী যখন ধর্ষনের স্বীকার

লেখক:- মো.নীল চৌধুরী

পর্ব-১

জয় আর নিহা খুব ভালো বন্ধু,ওরা একে অপরকে ছাড়া যেনো থাকতেই পারে না,তাই আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ি এদেরকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখে, মানে সবাই মনে করে ওদের মধ্যে কিছু একটা আছে।জয় আর নিহা অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ালেখা করে।
জয় আর নিহা প্রতিদিনের মতো আজ ওও একসাথে কলেজে গেলো। নিহা দেখতে সুন্দর, তাই ওর পিছনে ছেলেদের অভাব নাই। একটা বখাটে ছেলে ও নিহার প্রেমে পরে।প্রায় প্রতিদিনকার মতো আজ ও নিহারে রাস্তায় উত্তপ্ত করলো।
নিহার এসব ঘটনার সম্মুখীন হলে আগের মতো আর এতো ভয় হয় না, এমন ছেলেদের কাছ থেকে পেতে পেতে এটা তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে।
-দোস্ত তোর কি এসবে খারাপ লাগে না?(জয়)
-এখন আর খারাপ লাগেনা।
-ওহহ
-জানিস জয় আগে এমন ঘটনার সম্মুখীন হলে রুমে গিয়ে মা-বাবার সামনে খুব কান্না করতাম আর অনেক ভয় পেতাম
-হুমম জানি তো
-হুম একটা মেয়ে সুন্দর হলে কি দোষ?
-আচ্ছা দোস্ত চল এখন ক্লাসের সময় চলে যাচ্ছে
-হুম চল
জয় আর নিহার বাবা খুব ভালো বন্ধু । দুজনের বাবা-ই শেয়ার ব্যাবসা তাই দুজনের সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই ভালো। আর ওদের বাসা এক ফ্লাটেই।
জয় আর নিহা প্রতিদিন একসাথে কলেজে আসে যায়।ধর্ষ নে
।ধর্ষ ন
-আন্টি জয় কই(নিহা)
-ও তো এখনো ঘুমাচ্ছে(জয়ের মা)
-কিহহহ এখনো রেডি হয় নাই?
-না
-আজকে কলেজে বড় একটা অনুষ্টান আছে
-আচ্ছা তুই রুমে গিয়ে ওরে ডেকে উঠা
-আচ্ছা ওরে দেখাচ্ছি মজা

নিহা জয়ের রুমে গিয়ে দেখে জয় ঘুমাচ্ছে……
-এই ছাগল উঠ (নিহা)
-কে?
-তোর জম
-যা ভাগ
এটা বলার সাথে সাথে জয়ের কম্নল টেনে ফেলে দিয়ে টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে জয়ের শরীরে ঢেলে দিয়েছে,পানি দেওয়ার সাথ সাথে জয় শুয়া থেকে উঠে নিহার চুলে টান দিয়ে ধরছে।
-এই চুল ছাড় বলছি(নিহা)
-তোর চুল টাইন্না ছিড়া ফেলমু
-তুই এখনো রেডি হলি না কেন?
-আজকে কলেজ বন্ধ
-ঐ তোরে কে বলছে?
-স্যারে
-চুপ আজকে কলেজে অনুষ্টান
-এর লাইগা ই তো আমার জন্য বন্ধ
-মানে কি?
-কলেজে অনুষ্টান মানে আমার ঘুম দিবস
-তাহলে কি যাবি না?
-আজ ভালো লাগতাছে না,তুই যা আজকে প্লিজ
-আমার ভয় করে
-কেন?
– ঐ যে আমাদের কলেজে একটা ছেলে আছে
-কোন ছেলেটা?
-এমপির ভাগিনা নাকি কি যেনো
-হুম এমপির ভাগিনা
-ঐ ছেলেটা আমাকে আজ ফেবুতে প্রপোজ করছে এর জন্য ব্লক করে দিছি তাই একটু ভয় করতাছে।
-আরে আজ এতো বড় অনুষ্টান এসব ইভটিজিং করার সময় পাবে না।
-তা ও ভয় করতাছে
-আরে ভয়ের কিছু নাই,আর আজকে আমার ভালো লাগতাছে না
-ওকে তাহলে থাক তুই
নিহা জয়ের রুম থেকে রাগ দেখিয়ে বের হয়ে গেছে
নিহা আজ রাগ করে বাসা থেকে একা একা কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে।রাস্তায় ইমন নামে এমপির ভাগিনা টারে সামনে দেখা যাচ্ছে, তাই নিহা রাস্তার অপর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন ইমন এসে নিহারে রাস্তায় থামিয়ে বলল…
-কাল ব্লক করছো কেন?(ইমন)
-এমনি
-এমনি কেন?
-আমার ভালো লাগে নাই তাই ব্লক করছি
-ভালো লাগে না কেন?
-ভালো লাগতে হবে এমন কোন কথা আছে নাকি?
-জয়রে খুব ভাল্লাগে তাইনা?
-মানে?
-জয়ের সাথে টাংকি মারো সেটা বলতাছি
-জয় আমার খুব ভালো বন্ধু
-বন্ধু? হা হা হা
-এখানে হাসার কি আছে?
-তোমার এই উদ্ভট কথা শুনে
-আমরা ভালো বন্ধু
-তাহলে আই লাভ ইউ
-আই হেইট ইউ

ইমনের সাথে আরেকটা ছেলে এসে বলে ইমনরে প্রপোজ কর
-কেন?
-প্রপোজ করবি এবং জড়িয়ে ধরবি
-না ধরলে?
-তোরে ধরবো
-মানে?
-ঐদিকে আয় বলে ইমন হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে তখন নিহা হাত ঝারি দিয়ে রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে ইমনের গালে থাপ্পর বসিয়ে দিলো,ইমন তাখন ওরে জোরে দুই গালে দুইটা থাপ্পর দেওয়া মাত্র নিহা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
নিহা কতক্ষণ পর সে নিজকে একটা রুমে আবিষ্কার করলো। তখন দেখে ওর হাত পা বাধা
-আমি এখানে কেন?(নিহা)
-আদর দিবো বলে এই রুমে এনেছি(ইমন)
-মানে কি?
-মানে আজ তোর রুপের বরাই দেখামু
-প্লিজ ভাই আমার সাথে এসব করবেননা, আর আমি রুপের বরাই করি না
-তাহলে এতদিন আমাকে তোর পিছনে ঘুরালি কেন?
-আমি প্রথম থেকেই আপনার প্রতি ইন্টারেষ্টেড না
-কেনো আমার কি চেহারা খারাপ?(কাক নিজের কন্ঠ অনেক সুন্দর ভাবে তাই কাক সারাদিন চিল্লায়,ইমন ও এখন এমন বলছে)
-ভাইয়া আমি এসব বলি নাই
-তাহলে আমাকে ব্লক মারলি কেন?
-ভাই আমি রাগ কন্ট্রোল করতে পারি নাই তাই স্যরি
-আজ স্যরি তে কাজ হবে না, আজ তোর দেহ চাই, এই বলে নিহার কাপর টেনে ধরছে……….

নিহা অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু সে ব্যর্থ।
একটা জানোয়ার একটা মেয়েকে রুমে পেলে যা করে নিহার সাথে ইমনও তাই করছে।
ইমনের এই সুখের ১০ মিনিটে নিহার সব স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গেছে।
নিহা লোকের ভয় করে রাতে ফিরছে এদিকে তার মা-বাবা টেনশনে শেষ। নিহা দরজায় কলিংবেল চাপার সাথে সাথে ওর মা ওর এমন চেহারা দেখে আতঙ্কিত হয়ে যায়, মা তোর কি হয়ছে রে?তুই আজ এতো দেরি করলি কেন?তোর মোবাইল বন্ধ কেন?নিহা হাউমাউ করে ওর মারে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো

-কিরে মা কি হয়ছে তোর(নিহার মা)
-আমার সব শেষ
-মানে?
-এমপির ভাগিনা আজ আমাকে একটা রুমে যা ইচ্ছা তা করছে(কান্না করতে করতে)
নিহার মা এই কথা শুনে থ মেরে দাড়িয়ে আছে।কতক্ষণ পর নিহার বাবা আর জয় একসাথে খুজতে বের হয়েছিল তারা রুমে এসে এই কথা শুনে জয়ের বাবা ও নির্বাক হয়ে গেছে।

নিহারে গোসল করিয়ে আনার পর ওর রুমে সবাই বসে রয়ছে তখন জয় গিয়ে ওর সাথে কথা বলার সময়…….
-জয় রে তোরে আমি বলছিলাম আমার খুব ভয় করতাছে কিন্তু…………….
চলবে

পর্ব-২

নিহারে গোসল করিয়ে আনার পর সবাই ওর রুমে বসে আছে তখন জয় ওর সামনে যাওয়ার সাথে সাথে……
-জয় তোরে আমি বলছিলাম আমার খুব ভয় করতাছে কিন্তু তা তুই শুনলিনা, নিহার চোখের পানিগুলো টপাটপ গাল বেয়ে পড়তাছে(নিহা)
-নিহা আমারে তুই মাফ করে দিস, আমি জানিনা তোর সাথে এমন কেউ করবে(জয়)
-মা তোমরা এখান থেকে একটু যাও
সবাই চলে যাওয়ার সাথে সাথে…
– জয় আমার সব স্বপ্নগুলো শেষ হয়ে গেলো রে
-তোর কোন কিছু শেষ হয়নি
– জীবনে অনেক কিছু করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু সেগুলো বোধ হয় আর হবে না
-তোর সব হবে,তুই গতকাল যেমন ছিলি এমন থাকবি সবসময়
-কিভাবে আমার সব হবে?
-তুই পড়ালেখা চালিয়ে যা
-আর পড়বো না
-ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা আর মাত্র ১২ দিন আছে তাই বলছি তুই পরীক্ষা দে
-না দিবো না
-কেন দিবিনা?
-আমি শিক্ষিত হয়ে কি লাভ? আমাকে এখন কেউ জেনেশুনে বিয়ে করবে?
-তুই তোর লক্ষে পৌছা তারপর তোর পিছনে সবাই লাইন লাগবে
-আমিতো সবাইরে চাইছিলাম না, আমি শুধু একজন অগুছালো ছেলেটারে চাইছিলাম, জানিস জয় ওরে আমি খুব ভালোবাসতাম কিন্তু এই কথাটা বলা হয়নি তার আগেই আমার নামের আগে ধর্ষিতা টাইটেল টা বসে গেল
-আরে কি বলছিস এসব? তোর কিছু হবে না, আর যেই শালা এসব বলবে তার হাত পা ভেঙ্গে ফেলব
-কয় জনের ভাঙ্গবি?
-যত জন বলে
-এখন আমাকে একটু একা থাকতে দে
-আচ্ছা, আর শোন এখন বসে বসে শামসুর রাহমানের শ্রীকান্ত উপন্যাসটা পড় তাহলে একটু ভাল্লাগবে
-আমার কিছুই ভাল্লাগেনা
-আচ্ছা এখন বসে বসে স্লো বলিউমে আতিফ ইসলামের গানগুলো শোন তাহলে ভাল্লাগবে
-আচ্ছা এখন তুই যা


জয় ওর রুমে এসে শুয়ে শুয়ে এসব ভাবতাছে,আমার জন্য নিহা আজ ধর্ষিত হয়ছে,আমি কেন আজকে গেলাম না, আজকে যদি আমি যেতাম তাহলে হয়তো ঐ মানুষরূপে জানোয়ার গুলে আজ সুযোগ পেত না।
জয় নিজের কাছে নিজকে অপরাধি মনে হয়তাছে। এসব ভাবতে জয়ের চোখ দিয়ে অশ্রু পরতে লাগলো।তখন নিহার মা জয়ের রুমে প্রবেশ করে লাইট লাগিয়ে দেখে জয় নিশব্দে কান্না করতাছে।
-এই জয় (নিহার মা)
-জয় হঠাৎ লাফ দিয়ে চোখের পানি না দেখে মতো চোখের পানি মোছার বৃথা চেষ্টা করলো
-কিরে তুই কান্না করিস কেন?
-আন্টি ওর এসবের জন্য আমি দায়ি
-মানে?
-আজ যদি নিহার সাথে কলেজে যেতাম তাহলে হয়তো এমন কিছু ঘটত না,এই কথা শুনে নিহার মা ও কান্না করে দিছে।
জয় তখন নিহার মা রে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করছে আর বলতাছে আন্টি আমাকে ক্ষমা করে দাও(কান্না করতে করতে)
-আরে পাগল তুই ও তো আমার ছেলের মতো,এখানে তোর কোন দোষ নাই।ঐ জানেয়ারগুলো দায়ী এসবের জন্য। আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেনা।এখন ফ্রেশ হয়ে নিহারে একটু খাওয়াই দিয়ে যা
-কেনো ও খাচ্ছে না?
-না ও নাকি আর খাবেনা
-কই আসো


-নিহা এই নিহা(জয়)
-বল(মন খারাপ করে)
-আয় খেতে বসবি
-খাবো না
-কেন খাবিনা?
-না খেতে খেতে মরে যাবো
-এখন একটা থাপ্পর দিবো
-দে আমারে থাপ্পর দে, আমাকে মেরে ফেল, ঐ কুত্তার বা**রা আমাকে কেনো একবারে মারলো না, আমি এখন কোন মুখে বাচবো
-তুই নিহা হয়ে বাচবি
-এই কথা জানার পর কি আমাকে সমাজ মেনে নিবে?
-মানবে না কেন?
-কারন আমি একটা ধর্ষিতা
-তোরে একটা বখাটে ছেলে এসব করছে তাতে তুই ভেঙ্গে পরলে ওরে শাস্তি দিবে কে?
-আল্লাহ ছাড়া ওদের শাস্তি দেওয়ার মতো কেউ নাই
-হুমম এটা-ও ঠিক
-এখন আমার ভালো লাগছে না
-ওকে এখন লক্ষী মেয়ের মতো ঘুমিয়ে থাক

জয় নিহার রুম থেকে ওর রুমে গিয়ে এসব ভাবতে লাগলো , যেই মেয়েটা সারাদিন চিল্লা-চিল্লি করতো আজ সে এতটাই নিরব যেটা নির্বাক মানুষের সাথে তুলনা করা যায়,যেই নিহার চুল গুলো গুছানো করে রাখতো এখন নিহার চুল গুলো পাগলের মতো করে রাখছে।
আচ্ছা ওরে কেনো মানুষ ধর্ষিতা বলবে? ওরা ওদের চারপাশ কি দেখে না?
যেই পুরুষরা বলবে ও ধর্ষিতা সেই পুরুষটা বাসায় গিয়ে বলে ধ্যাত্তেরি তোর ভালোবাসা, তুই আগে শাড়ি খোল।
এটা কি ধর্ষন না?
জোরপূর্বক কাউকে যৌনতায় বাধ্য করা সেটা কি ধর্ষন নয়?
এসব ভাবতে ভাবতে জয় ঘুমিয়ে যায়
সকাল সকাল জয়ের ঘুম ভেঙ্গে যায়, জয় নিহার রুমে গিয়ে দেখে নিহা ঘুমাচ্ছে। মনে হয় কতক্ষণ আগে ঘুমাইছে,নিহার চেহারাটা কত নিষ্পাপ।
ঘুমন্ত অবস্থায় নিহারে এত সুন্দর লাগতাছে যা বলে প্রকাশ করার মতো না।”সেই নারী ই তো প্রকৃত সুন্দর যে নারী ঘুমেও সুন্দর ”
জয় টেবিলের উপর একটা ডায়েরি দেখতে পেলো।
জয় ডায়েরী টা হাতে নিয়ে কয়েক পৃষ্টা পাল্টানোর পর যা দেখলো তাতে জয় বিশ্বাস করতে পারলো না………..
চলবে

পর্ব:৩/শেষ পর্ব

জয় টেবিলের উপর একটা ডায়েরী দেখতে পেলো।জয় ডায়েরী টা হাতে নিয়ে কয়েক পৃষ্টা পাল্টানোর পর যা দেখলো তাতে জয় বিশ্বাস করতে পারলো না।
ডায়েরীর লেখা-
এই জয় তোরে দেখলে আমার শরীরে এমন অনুভূতি হয় কেন রে?
তোর চেহারা দেখলে মনে হয় এখনি তোরে ভালবাসি এই কথা বলি। তুই জানিস সকাল সকাল কেনো তোর রুমে যায়? তুই জানবি কিভাবে? আমি শুধু তোর বোকা বোকা চেহারাটা দেখতে চাই।আর তোর এই চেহারা দেখলে মনে হয় আমার মেকআপ বক্সটা এনে হনুমানের মতো সাজিয়ে দেই।আল্লাহ জানে তোরে কখন এই কথা টা বলতে পারবো। তোর ও কি আমার জন্য কোনো ফিলিংস আসে না?
সাহিত্যিকদের কথা আছে” দুইটা ছেলে মেয়ে কখনো ভালো বন্ধু হয়ে থাকতে পারেনা” আমিও ঠিক পারিনাই। আচ্ছা আমি যেদিন মুখ ফোটে বলতে পারবো সেদিন আমায় মেনে নিবি তো?
নাকি তুই আবার অন্য কোনো মেয়েকে পছন্দ করোছ, যদি কখনো এমন হয় তাহলে তোর চুলগুলো টেনে ছিড়ে ফেলমু।তুই শুধু আমার। তোর সাথে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে চায়।
“ভালোবাস শব্দটা সবসময় নতুন, কখনোই তা মলিন হয় না, এর রং ধূসর নয় কিংবা বর্নহীনও নয়, যা আছে তা রংধনুর রঙে রাঙ্গানো। হোক না সেটা অনেক বিভেদ, তারপরেও ভালোবাসা শুধুই ভালোবাসা। সবকিছুর পর বলবো শুধুই তোরে ভালোবাসি”
এসব দেখে জয় নির্বাক হয়ে গেছে, সে কি করবে কিছুই মাথায় আসছে না।ডায়েরীটার শেষদিকে লেখাটা আবার এই রকম…….
জয় জানিস তোরে অনেক ভালোবাসি রে।কিন্তু সেই ভালোবাসাটা আর প্রকাশ করতে পারলাম না।
একটা মেয়ের সবচেয়ে দামি জিনিস হচ্ছে ইজ্জত,যেটা বাসর ঘরে একটা মেয়ে স্বামীর হাতে উঠিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আমি ব্যর্থ হলাম।তোরে আমি আর বলতে পারলাম না ।
আগে তোরে দেখলে মন চাইতো তোর সাথে সারাক্ষণ কাটাই আর এখন তোরে দেখলে নিজের কাছে নিজকে ছোট মনে হয় কারন আমি একজন ধর্ষিতা।
আমি বলবনা যে তোরে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি কিন্তু মা-বাবার পরেই তোরে এত্তো ভালোবাসি।
জানিস আমার ইচ্ছা ছিলো আমাদের মেয়ে হলে তোর নামের সাথে নাম মিলিয়ে জয়া রাখবো কিন্তু সেটা আর হলো না। তোরে ভালোবাসার কথা বলে ঠকাতে পারবো না,কারন একটা মেয়ে হিসাবে যা থাকার তা আর আমার কাছে নেই,ঐ হিংস্র ছেলেটা আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিলো।জানিস সব প্রপোজ রিজেক্ট করছি কেন?
কারন তোর মতো বোকা ছেলের প্রেমে সেই ক্লাস টেন থেকেই প্রেমে পড়ছি।


এগুলো পড়ে জয়ের চোখে পানি এসে পরছে।
তখন পিছনে তাকিয়ে দেখে নিহা ওর সামনে। নিহা আর জয় দুজনের চোখেই পানি।
-এটা দে(নিহা)
-কেনো?
-এমনি
-আমাকে ভালোবাসিস?
-না
-মিথ্যা বলিস কেন?

-ভালোবাসি না
-তাহলে এ ডায়েরী কি মিথ্যা?
-হ্যা
-নিহা তুই তো ইচ্ছা করে এসবে যাস নাই তাহলে তুই কেন তোর স্বপ্ন ভাঙ্গবি?
-সবার সব স্বপ্ন পূরন হয় না
-চেষ্টা করলেই হয়
-জয় তুই বুঝার চেষ্টা কর এখন যদি তোর সাথে আমার তেমন কিছু হয় তাহলে তুই ঠকবি।
তোকে দেওয়ার মতো আমার কাছে কিছু নাই।
-একটা মানুষের কাছে কি শুধু দেহ ই থাকে?
-(চুপ)
-আমি তোর পবিত্র মন টা চাই,
সারাজীবন কাটাবো তোর সাথে
-এগুলো করুনা করছিস?
-করুনা না রে
-তাহলে
-, আমি তোর রাজ্যের রাজা হবো,তোর সাথে সারাজীবন কাটাবো
-জয় এগুলো আবেগের কারনে বলছিস,এই মোহ কয়দিন পর কেটে যাবে
-আবেগ ও না মোহ ও না, তোর সাথে থাকতে চাই বেস্ট ফ্রেন্ড+বর হিসাবে
– এই ধর্ষিতার সাথে সত্যিই থাকতে চাস?
-আরেকবার যদি এই কথা টা শুনি তাহলে থাপ্পর দিমু
-দে
তখন জয় নিহারে কাছে টেনে আলতো করে কপালে চুমু খেয়ে বুকে টেনে নেয়
-কখন ও ছারবি না তো?(নিহা)
-তুই ছারলেও আমি ছারবোনা
তখন নিহা একটু শব্দ করে কেদে দেয়। এই কান্না টা মোটেও কষ্টের কান্না না।এই কান্নাটা তো দুজন দুজন কে পাওয়ার কান্না।
জয় হউক এমন নিষ্পাপ ভালোবাসার