Home ছোট গল্প রাগি মেয়ে

রাগি মেয়ে

কামাল সাহেব বাড়িতে আছেন নাকি।কি হলো কথা কানে যায় না।।
কামালঃকি হলো এইভাবে চিল্লান কেন সকাল সকাল
…..আপনার ছেলে আমার বাড়ির জানালার গ্লাস ভাঙ্গছে।
কামালঃমানে কিভাবে
…….আমার বাড়ির সামনে যে মাঠটা আছে ঐ খানে ওরা কয়েকজন মিলে ক্রিকেট খেলতে লাগছিলো আমি মানা করছি যে এখানে খেলা যাবে না জানালার গ্লাস ভাঙ্গবে।।আমার কথা ওরা না শুনে তাও খেলতে লাগে তখন আমি গিয়ে ওদের ব্যাট নিয়ে নিই তখন ওরা চলে যায়।।আর সকালে উঠে দেখি জানালার গ্লাস ভাঙ্গা।
কামালঃআপনার গ্লাসের দাম কত।
…..৯হাজার টাকা
কামালঃখুবই দুঃখের বিষয়
…..তারাতারি আমার গ্লাসের টাকা দিন জরিমানা
কামালঃএ্যা টাকা কি গাছে ধরে।চাইলেই পাওয়া যায় গ্লাস যে আমার ছেলে ভাঙ্গছে তার প্রমান কি।
……এতকিছু শোনার পরও প্রমান চান।।।দেখুন ভালোই ভালোই আমার টাকা দিয়ে দিন
কামালঃপ্রমান সহ নিয়ে আসুন তারপর দিব এখন আসতে পারেন।
……বাবও যেমন ছেলেও তেমন।।


এতক্ষন কি হলো কিছুই বুঝলেন না তো।তাহলে শুনুন আমি নিরব এইবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে(গল্পে)আর উনি মানে কামাল মন্ডল আমার বাবা আর ঐ লোকট। হলো জাকের।।বিকেল বেলা বন্ধুদের নিয়ে ক্রিকেট খেলতে গেছিলাম ওর বাড়ির সামনে।।ঐ একটাই মাঠ আর কোথাও নেই।।আমরা যখন খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি তখন জাকের এসে বলে খেলা যাবে না জানালার গ্লাস ভাঙ্গবে।। তারপর আমরা চলে আসি আর রাতে সবাই মিলে ওর জানালার গ্লাস ভাঙ্গছি আর সকালেই বিচার নিয়ে আসছে।।

বাবাঃএই হারামজাদা উঠ তারাতারি।
আমিঃউমমম কি হয়ছে
বাবাঃকার জানালার গ্লাস ভাঙ্গছিস।
আমিঃমানে আমি আবার কার জানালার গ্লাস ভাঙ্গবো।
বাবাঃজাকের যে বিচার দিয়ে গেলো আর গ্লাসের জরিমানা চাইলো ৯হাজার টাকা।
আমিঃকিহহহ তুমি একটুও দিবা না কে না কে ভাঙ্গছে।
বাবাঃউঠ উঠে ফ্রেস হয়ে কলেজে যা।
আমিঃমা কে বলো।
বাবাঃমানে… কি তোর মা কে বলবো।
আমিঃএই যে এখন যে বল্লা।
বাবাঃআরে হাদারাম বল্লাম যে উঠে কলেজে যা।
আমিাঃওহহ আমি মনে করছি আমাকে উঠে রান্না করতে বলতেছো(উঠে চোখ ঢলতে ঢলতে)
বাবাঃহাহাহহা উঠ।
আমিঃওকে
তারপর ফ্রেস হয়ে এসে টেবিলে বসে আছি আমি আর বাবা একটু পর মা আসলো।।বসে থেকে খাচ্ছি তখন মা বল্ল
মাঃনিরব দেখ বাবা এইসব করা ঠিক না।
আমিঃকি সব করা ঠিক না।
মাঃমনে করিস কিছুই জানি না আমি।
আমিঃদেখ ভাত কিন্তু খামু না বেশী প্যাচাল পারলে।
মাঃবুঝবি একদিন ঠিকি বুঝবি।
আমিঃসেদিন আসুক আগে
মাঃবুঝবি
আমিঃচুপ থাকো তো।।

খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে কলেজে চলে আসলাম।।আজকেও লেট গিয়ে দেখি স্যার ক্লাস নিচ্ছেন আমি দরজার কাছ থেকে বল্লাম।
আমিঃস্যার আসতে পারি।
স্যারঃঘড়িতে তাকিয়ে দেখ কত বাজে।
আমিঃস্যার ১০.৩৫
স্যারঃক্লাস কয়টা থেকে।
আমিঃ১০টা
স্যারঃতাহলে এত লেট কেন।
আমিঃস্যার রাস্তায় অনেক জ্যাম হাটাই যায় না।
স্যারঃকই জ্যাম(আমাদের ক্লাস রুমটা রাস্তার পাশে তাই স্যার জানালা দিয়ে উকি মারলেন।
আমিঃহয়তো এখন ছেড়ে গেছে স্যার।
স্যারঃতুই আর ভালো হলি না হারামজাদা আর একটা সাইকেল কিনতে পারিস না।
আমিঃবাবাকে বলছিলাম মটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য।
স্যারঃএই বয়সে মটর সাইকেল না বাই সাইকেল কেন।
আমিঃবাবা তাই কিনে দিছে মটর সাইকেলের বিনিময়ে।
স্যারঃতাহলে কাল থেকে সাইকেল নিয়ে আসবি ওকে আর যেন লেট না হয়।
আমিঃবাবা না করছে বিশ্ব রোডের উপর দিয়ে সাইকেল চালাতে দিবে না।।।
স্যারঃতাহলে সাইকেল কোথায় চালাস।
আমিঃকোথাও না শুধু রুম থেকে টয়লেট আর টয়লেট থেকে রুম।
স্যারঃ😂😂😂😂বলিস কি(ক্লাসের সবাই হো হো হো করে হেসে দিলো)
আমিঃস্যার আমি কি ভিতরে আসবো না।
স্যারঃআয় আয় তুই আসলেই একটা জোকার।
আমিঃকিহহ বল্লেন স্যার আমি মোটেও এমন না হু।
স্যারঃহাহাহাহা।

আসলে আমি একটু অন্যরকম সবাই কে হাসাতে ভালোবাসি আবার কাউকে কাদাতেও পিচু পা হয়না।ক্লাসের সবার পিছনে গিয়ে বসলাম।স্যার একে একে সবাইকে পড়া ধরতেছে সব ধরা শেষ এখন আমার পালা।
স্যারঃনিরব তুই উঠ।
আমিঃজি স্যার।
স্যারঃপড়া বল।
আমিঃস্যার আপনে কি সাবজ্যাক্ট নিচ্ছেন।
স্যারঃসবাই শোনো হাদারামের কথা আচ্ছা তোর খারাপ লাগে না।। তুই সবার পিছে ওরা তোর থেকে ভালো পড়া পারে (ক্লাসের ফাস্ট ব্যান্চের সবাইকে দেখিয়ে)
আমিঃআমার বাবার বাবা মানে আমার দাদা বলছে নিজের জন্য কারও মনে কখনো আঘাত দিবি না।।সে যেন কখনো তোর জন্য কস্ট না পায়।
স্যারঃসে তো খুব ভালো কথা।।কিন্তু এইখানে এই কথা বল্লি কেন।
আমিঃআমি চায় না আমার জন্য। সৈকত.ইমরান.ফারদিন.বুলবুল ওরা কস্ট পাক(ওরা হলো গুড স্টুডেন্ট)
স্যারঃওরা কেন কস্ট পাবে।
আমিঃআমি যদি ভালো করে পড়ালেখা করি তাহলে ওরা আমার পিছনে পড়ে যাবে আর ওরা মনে খুব কস্ট পাবে।। আর আমি বেচে থাকতে তা হতে দিবো না।
স্যারঃবস তোর সাথে কথা বলে লাভ নেই।।।


ক্লাস শেষে মাঠের মধ্যে বসে আছি।। শালার আজকে আবার মারুফ আসে নি মারুফ আমার বেস্টফ্রেন্ড।।আমি সবার সাথে এমন দুষ্টুমি করি দেইখা ক্লাসের অনেক মেয়ে আমার সাথে লাইন মারতে চায় কিন্তু আমিই পাত্তা দিই না😎😎আমি এমন একজনের অপেক্ষায় আছি।। যে দেখতে বিড়ালের বাচ্ছার মতো দেখা যাবে😂😂😂

ক্লাস করতে ভালো লাগছিলো না তাই বাসায় চলে আসলাম এত তারাতারি বাসায় আসা দেখে মা বল্ল
মাঃকিরে এত তারতারি আসলি কেন।
আমিঃআর বইলো এক শালার জন্য আসতে হইলো।
মাঃমানে
আমিঃআমার এক ফ্রেন্ড অসুস্থ তাই ওকে নিয়ে চলে আসলাম।।আমি আসতে চাইনি স্যার জোর করলো তাই(😂😂😂)
মাঃওহহহ ওকে ভালোভাবে পৌছে দিয়েছিস তো।
আমিঃহ্যা(ঔষধটা ভালোভাবেই কাজে লাগলো)
মাঃযা গোসল করে আয়।
আমিঃকেন করমু সকালেই তো গোসল করে কলেজে গেলাম আর এখন বাজে ১২.৩০।
মাঃওকে না করলি।
আমিঃহুমমম খিদা লাগছে ভাত দাও।
মাঃকেন সকালেই তো ভাত খেলি এখন আবার খাবি।
আমিঃখিদা লাগছে যে।
মাঃতাহলে গোসল করে ফ্রেস হয়ে আয় তারপর।
আমিঃওকে😡😡

তারপর গোসল করে এসে খাইলাম খেয়ে দেয়ে দিলাম এক ঘুম।এক ঘুমে বিকাল ৪টা দেখি মারুফ ফোন করছে।
আমিঃকি কস।
মারুফঃকামরুল কাকার দোকানে আয়।
আমিঃওকে।
তারপর উঠে মুখে পানি দিয়ে কাকার দোকানে গেলাম গিয়ে দেখি কি যেন নিয়ে ঝগড়া বাদছে মারুফের সাথে।আমি গিয়ে
আমিঃকিরে এত চ্যাতস কেন(মারুফকে)
মারুফঃআরে দেখ না ঐ শালা বলে কি।
আমিঃকি বলে।
মারুফঃআমাকে নাকি হাত পা ভেঙ্গে দিবে
আমিঃমানে কেনো।
মারুফঃআজ কলেজে না গিয়ে রিয়া কে নিয়ে ঘুড়তে গেছিলাম তখন ঐ হালায় দেখছে তাই।
আমিঃওহহহ…..ঐ কি করবি ওর হ্যা আর রিয়া তোর কি হয়(ওকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে)
>>>দেখ নিরব তোর সাথে আমার কোনো শত্রুতা নেই সো তুই চলে যা।
আমিঃঠাস ঠাস শালা তুই আমাকে চলে যেতে বলিস জানিস ও আমার কি হয় কলিজার দোস্ত।
>>>রিয়াকে আমি ভালোবাসি খুব।।।তাই বলছি রিয়াকে ছেড়ে দে।
আমিঃরিয়া কি তোকে ভালোবাসে।
>>>না
আমিঃঠাস শালা তাহলে তোর সাহস হয় কি করে
>>>দেখ নিরব তুই কিন্তু ভালো করছিস না।।এমন এক দিন আসবে সেদিন মা বলে চিৎকার দিতেও পারবি না(বলেই চলে গেলো)
মারুফঃশালা যদি কিছু করে আবার।
আমিঃআমার বালডা করবে ও(ঐ হালা সেলিম এলাকাই একটু ভাব লই বেশি খাজা টাজা খায় সবাই ওকে ভয় পায়।।কিন্তু সবাই তো জানে বাপের উপরে বাপ আছে আমি এই ভালো এই খারাপ)
মারুফঃকাকা দুকাপ চা দাও।
>>>কি হয়ছেরে গ্যাদাইনা
আমিঃতুমি এতক্ষন তাহলে কার বালডা শুনলা😂😂😂
>>>আসলে ভালো করে শুনতে পাইনি
মারুফঃতোমার শোনা লাগবো না তুমি চা দাও।
>>>ওকে
তারপর দুজন মিলে আড্ডা দিলাম অনেকক্ষন কিছুক্ষন পর সৈকত আর বুলবুল এলো আর তখন আমরা ৪জন মিলে কেরাম খেলতে লাগলাম তখন সৈকত বল্ল।
সৈকতঃদোস্ত তুই কলেজে থেকে চলে আসার পর নতুন একটা মাইয়া ভর্তি হয়ে গেলো।
আমিঃকিহহ সত্যি বলছিস।
সৈকতঃহুমমম যা দেখা যায় মাইরি একদম দানাকাটা পরির মতো।
মারুফঃএইবার তাহলে দোস্ত ঐটাকেই পটায়া ফেল।
আমিঃইসস কলেজ থেকে এসেই তাহলে ভুল করলাম।
বুলবুলঃসেই রাগি ফারদিন শুধু নাম জিগাইছিলো আর বলে কি জানস।
আমিঃকি বলে।
বুলবুলঃবলে তোরে নাম বলার জন্য আমি এইখানে আইছি যা ফট।।।আর ফারদিন তো ভয়ে শেষ।
আমিঃঐ মেয়েটা কি গুন্ডি নাকি।
বুলবুলঃঐ রকমি ভাব চোখে ইয়া বড় সানগ্লাস।
আমিঃওহহ কালই দেখা যাবো নি(তখনি ফোনটা বেজে উঠলো বের করে দেখি বাবার ফোন)
আমিঃহ্যা বলো।
বাবাঃকত বাজে দেখছিস।
আমিঃপরে দেখমুনি এখন খেলতেছি ফোন রাখো।
বাবাঃহারামজাদা ১০টা বাজে আর তুই বলতেছিস পরে দেখমুনি ২মিনিট লেট করলে গেট বন্ধ তোর জন্য(বলেই ফোন কেটে দিলো)
আমিঃএই তোরা থাক আমি গেলাম বাবা ফোন দিছে।
মারুফঃআমরা আর থাইকা কি করমু চল সবাই।
বুলবুলঃহুম চল।
তারপর সবাই যার যার বাড়িতে চলে আসলাম।আমি তো দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া আইতেছি কারন বাবা বলছে ২মিনিটের মধ্যে না আইলে গেট বন্ধ।।অনেক জুরে দৌড়াচ্ছি মনে হচ্ছে কত যে বিপদের মধ্যে আছি।।ঠাস ওরে আল্লাহ ধপাস কইরা পইরা গেছি ক্যারে আমার মোবাইলটা আবার কই গেলো অন্ধকারে খুইজা পাচ্ছি না।।অনেক খোজার পর পেলাম। তারপর শরীরের ময়লা ঝেরে গেটের কাছে এসে দেখি ভিতর থেকে বন্ধ হায় আল্লাহ এখন কি করমু।। আমি একটা বাচ্ছা ছেলে এত রাতে কই থাকমু।।।জোরে জোরে ধাক্কাতে লাগলাম আর মা কে ডাকতে লাগলাম
আমিঃমা ও মাগো মইরা গেলাম তারাতারি গেট খোলো আহ কত বড় বড় মশা।।।আমারে তুইলা নিয়া গেলো মশা মা ও মা।। (তখনি গেট খুল্ল বাবা)
বাবাঃএই নে ধর (একটা মশারি দিয়ে)
আমিঃএইটা কি করমু আর আমার খুব ঘুম পাচ্ছে ঘুমামু(যেই না ঢুকতে যামু তখনি বাবা হাত দিয়ে আটকে দিলো)
বাবাঃএই মশারি টাঙ্গিয়ে বাহিরে শুয়ে থাক তোর আজকে আমার বাড়িতে যায়গা নাই।
আমিঃও আব্বা আব্বারে তুমি কি আমার সৎবাবা নাকি।
বাবাঃচুপ কর বেয়াদব (তখনি মা আসলো)
মাঃআরে ওকে ভিতরে আসতে দাও না কেন।
বাবাঃওকে সেই কখন বলছি বাড়িতে আয় আর ও আসছে এখন।
মাঃএই বয়সে ছেলেরা একটু এমন করেই।
বাবাঃএই তোমার কারনে আজ ওর এ অবস্থা(বলেই চলে গেলো)
মাঃআয় গিয়ে ঘুমা।
আমিঃওকে(এতক্ষন সেই মশারি শরীরে জরিয়ে নিয়ে আছিলাম যে মহিলা মশা মাইরি। আমাকে যে ভাবে ধর্ষণ করতে লাগছিলো মশারির ভিতর না গেলে আমাকে আত্নহত্যা করতে হতো😂

পরেরদিন সকালে যথা সময়ে আমি আর মারুফ কলেজে আসলাম।এসে দুজন বসে আছি।।। কি নাকি একটা মেয়ে আইছে হেইডারে দেখতে হইবো না।।কিছুক্ষন পর একটা মেয়ে প্রবেশ করলো চোখে ইয়া বড় সানগ্লাস।আমি উঠে তার সামনে গেলাম।
আমিঃহায় আমি নিরব
….তো
আমিঃনা কিছু না।
….তাহলে সামনে দারাই আছেন কেন(ধমক দিয়ে)
আমিঃওহহ সরি(কি মেয়ে রে বাবা কিন্তু চেহারাটা সেই ঝাক্কাস)
একি মেয়েটা আমাদের ক্লাস এ ঢুকলো তার মানে সেইম ইয়ার।আমিও ক্লাস এ ঢুকলাম তখন মেয়েটা রাগি লুক নিয়ে বল্ল
…..কি ব্যাপার আপনি আমার পিছু নিচ্ছেন কেন আর ক্লাস রুমেও ঢুকে গেলেন।
আমিঃআরে এইটা আমার ক্লাস রুম
…..ওহহ তার মানে আমরা একই ক্লাসে।
আমিঃহুমম আপনার নাম কি
……নিলা
আমিঃঅনেক সুন্দর নাম
নিলাঃধন্যবাদ।
আমিঃআমি বলিকি আপনার সানগ্লাসটা একটু খুলবেন
নিলাঃমানে(সানগ্লাসটা খুলে আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে)
আমিঃ……..(কিছু না বলে একটানা চেয়ে আছি)
নিলাঃও হ্যালো
আমিঃহ্যা (মামা দেখেই প্রেমে পড়ে গেলাম)নিলা গিয়ে বসলো আর আমিও ওর কাছাকাছি বসলাম একটুপর মারুফ আসলো।
মারুফঃশালা আমাকে রেখেই চলে আসছোস।
আমিঃদোস্ত মেয়েটাকে সেই ভালো লাগছে মনে হয় ঐ তোর ভাবি হবে।
মারুফঃহাহাহা যে ভাব দেখছোস।
আমিঃআরে ব্যাটা বুঝস না ক্যান নিরবের বউ বলে কথা একটু ভাব না নিলে চলে।
মারুফঃহাহাজাজ😁😁😂😂
আমিঃচুপ কর শালা(অনেক জরে বলে উঠলাম। দুজন কথা বলতে বলতে কখন যে স্যার ক্লাসে আসছে বুঝতেই পারিনি।।।আমার চিৎকার শুনে স্যার আমার কাছে আসলো)
স্যারঃএই নিরব উঠ।
আমিঃজি স্যার(দারিয়ে)
স্যারঃশালা বল্লি কাকে।
আমিঃকই কাউকে না।
স্যারঃতাহলে আমি কি শুনলাম আর স্যার ক্লাসে আসলে যে সালাম দিতে হয় তা জানিস না।
আমিঃআসলে স্যার সালাম দিছি তো প্রতিদিন দিতে হয় দেইখা প্রথম দিন একেবারে ১মাসের তা দিয়ে রাখছি।
স্যারঃশুনো হাদারামের কথা(বলেই পাছার উপর দিলো এক বারি আর সবাই খিল খিল করে হেসে ফেল্ল নিলাও আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হাসছে ওর হাসিটা অনেক সুন্দর)
আমিঃস্যার আমার বাবা বলে হারামজাদা আর আপনি বলেন হাদারাম কাহিনি কি একটু বলবেন প্লিজ(এই কথা শুনে সবাই জোরে জোরে হাসতে লাগলো)
স্যারঃচুপ কর বাজান এখন মন দিয়ে পড়।
আমিঃএইতো আমার মার মতো কথা বলছেন।
স্যারঃতোর সাথে আর কথা বলতে চাই না পড়।
আমিঃওকে।।

ক্লাস শেষে আমি আর মারুফ বের হলাম নিলাও বের হলো নিলা নতুন তাই ওর কোনো ফ্রেন্ড দেখতে পাচ্ছি না একাই বসে আছে।আমি কাছে গেলাম।
আমিঃএকা একা কেন।
নিলাঃএকা থাকবো না তো কি করবো।
আমিঃআচ্ছা আপনি এত মেজাজ নিয়ে কথা বলেন কেন।
নিলাঃজানি না।
আমিঃআপনার কি বয়ফ্রেন্ড আছে।
নিলাঃদেখুন আমি কেনো এইসব কথা আপনাকে বলবো।
আমিঃওকে আমাকে না বল্লেন তাহলে ওকে বলেন(মারুফকে দেখিয়ে দিয়ে)
নিলাঃইউ সেটআপ।
আমিঃসরি সরি।
নিলাঃআমার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই(নরম শুরে বল্ল)
আমিঃকেন।
নিলাঃকোনো ছেলে কথা বলতেই সাহস পায় না আবার প্রেম।
আমিঃআপনি যে লেডি গুন্ডি তাই😂😂😂
নিলাঃকিহহ বল্লি শয়তান ছেলে(বলেই আমাকে মারতে লাগলো)
আমিঃআরে এমনি বলছি এমনি।
নিলাঃতুমিই প্রথম আমার সাথে এত কথা বলতেছো।
আমিঃতাই(তুমি করে বল্ল।।।মামা কাম হইবো মনে হয়)
নিলাঃহুমম আমরা যেহেতু একই ক্লাসে সো তুমি করে বলি কেমন।
আমিঃহুমমম সেটাই তো আমি চাই।
নিলাঃমানে।
আমিঃনা কিছু না।।


তারপর বাসায় চলে আসলাম এসে ফ্রেস হয়ে দিলাম এক ঘুম।।এক ঘুমে সন্ধা ৬টা।মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো।
মাঃনিরব এই নিরব।
আমিঃহুমম বলো।
মাঃএখন উঠ রাত হয়ে গেছে।
আমিঃহুমম
তারপর উঠে ফেসবুকে লগইন করলাম করেই দেখি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট ছিলো ৯৯৯ আর হয়ে গেছে ১০০০।আসলে ফেসবুকে মাঝে মাঝে গল্প লিখি তো তাই।।।। ফ্রেন্ড লিস্টে গিয়ে দেখি একটা মেয়ে আইডির নাম”পাগলের বউ”আইডিটার নাম দেখে মনে মনে হাসলাম।কি যেন মনে করে তার প্রফাইলে গেলাম।।গিয়ে দেখলাম অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো তাই এক্সিপ্ট করলাম আর সাথে সাথেই মেসেজ।
….এত ভাব কিসের হ্যা
আমিঃ….(কিছু না বলে মেসেজের দিকে চেয়ে রইলাম।।আমি আবার কখন ভাব নিলাম)
…..এই ছ্যারা আমি নিলা তোর ভাব কিন্তু ছুটাই দিমু(কিছু রাগি ইমুজি দিয়ে)
আমিঃনিলা কোন নিলা(মনের মধ্যে কেমন যেন ফুরফুরে বাতাস বইতে লাগলো নিলা নামটা শুনে)
নিলাঃআরে আমি আজ কলেজে দুজন গল্প করলাম যে।
আমিঃওহহ লেডি গুন্ডি
নিলাঃঐ চুপ একদম চুপ।
আমিঃআচ্ছা কিন্তু তুমি আমার আইডি পেলে কই।
নিলাঃআমি তোমার সব গল্পই পড়ি কিন্তু জানতাম না যে তুমি।
আমিঃএখন জানলে কেমন করে।
নিলাঃহাদারাম তোমার পিক আপলোড দিছো না সেইটা দেখে।।।।আমি তোমার প্রত্যেকটা গল্পের প্রেমে পরে গেছি।।খুব ইচ্ছে ছিলো তোমার সাথে মিট করার।
আমিঃআমার গল্পের প্রেমে পড়ছো আমার প্রেমে পড়নি।
নিলাঃনাহহহহ।

নিলার সাথে ফেসবুকে চ্যাট করতেছি আর মিটি মিটি হাসছি।আমার রুমে কখন যে আব্বা ঢুকে আমার কাছে দারাইছে সেটা বুঝতেই পারিনি।
বাবাঃবাহ বাহা কি চমৎকার।
আমিঃকে কে(ভয় পেয়ে)
বাবাঃতোর ড্যাডি।
আমিঃওহহ তুমি কখন আসছো।
বাবাঃএত খুশি খুশি লাগে কেন তোর ভাব বেশি সুবিধার না।
আমিঃহাহাহহ আব্বা।
বাবাঃযতই ইয়ে টিয়ে করো আমি কোনো টাকা দিতে পারবো না।
আমিঃওকে না দিলা আমার ড্যাডি দিবে টাকা হাহাহ😂😂
বাবাঃহাহাহা আয় খেতে অনেক রাত হয়ছে।
আমিঃহুমম তুমি যাও আমি আসছি(আব্বা আমার বন্ধুর মতো খুব মজা করি দুজন নিলার থেকে বিদায় নিয়ে খেতে আসলাম)

খাওয়া দাওয়া করে দিলাম এক ঘুম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে কলেজে আসলাম এসে দেখি নিলা অনেকগুলো ছেলের মাঝে হাসাহাসি করছে। মুহুর্তে বুকের বা পাশে কেমন যেন কেপে উঠলো মনে হয় ভুমিক্প বয়ে গেলো।।আমি যে নিলাকে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলছি।আমি মাঠির দিকে তাকিয়ে নিলার পাশ কাটিয়ে আসতে লাগছি তখনি নিলার ডাক।
নিলাঃএই যে রাইটার।
আমিঃহ্যা(দারিয়ে)
নিলাঃকই যাচ্ছো।
আমিঃক্লাসে।
নিলাঃআমি যাবো না(বলেই ওদের থেকে আমার কাছে আসলো)
আমিঃতোমার নাকি কোনো বন্ধু নেই।
নিলাঃহুমম ছিলো না।। তবে এখন হয়ছে
আমিঃওহহহ(কেমন যেন চাপা কস্ট অনুভব করলাম)
নিলাঃহুমম চলো।
আমিঃহুমম।
ক্লাসে এসে দেখি আরও অনেক টাইম আছে এইদিকে মারুফ ও আসছে না।নিলাকে কি প্রপোজ করে দিবো নাকি।।কিন্তু এই দুইদিনে কিভাবে বলি আবার ভয় ও করছে ওর যেতগুলা ছেলে বন্ধু দেখলাম কখন আবার কে প্রপোজ করে দেয় এই সব মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে।তখনি নিলার পাশে এসে বসলো।
নিলাঃকি ভাবো হুমম।
আমিঃকই কিছু না তো।
নিলাঃসত্যি করে বলো।।আমি সিওর তুমি কোনো একটা চিন্তা করছো।
আমিঃকি আজব বল্লাম তো কিছু না।
নিলাঃঐ শালা বল।। আমি কিন্তু শুনেই ছারমু।
আমিঃপাগল নাকি তুমি কি আমার দুলাভাই নাকি
নিলাঃহুমম বল তারাতারি।
আমিঃসত্যি বলবো।
নিলাঃমিথ্যা বল্লে খুন করে ফেলবো(আমার মুখের উপর ঘুষি নিয়ে)
আমিঃআমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলছি I love you(চোখ বন্ধ করে এক নিশ্বাসে বলে ফেল্লাম)
নিলাঃকি বল্লা আবার বলো(লাজুক ভাবে)
আমিঃকই কিকি বল্লাম(ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে)
নিলাঃতুমিও ভয় পাচ্ছো।
আমিঃকই নাতো।।আমি তোমাকে ভালোবাসি।
নিলাঃএই প্রথম কেউ আমাকে প্রপোজ করলো I love you too.
আমিঃইয়াহু(বলেই লাফ দিলাম আর নিলা হাসতে লাগলো)
নিলাঃক্লাসের সময় হয়ে গেছে ঐ দেখো সবাই আসছে এখন আমার ব্রাঞ্চে যাই।
আমিঃওকে যাও।

নিলা ওর সিটে গেলো আর মারুফ আসলো ও আসার সাথে সাথেই।
আমিঃদোস্ত কাম হইয়া গেছে(জরিয়ে ধরে)
মারুফঃআরে ব্যাটা কি কাম হয়ছে।
আমিঃএইদিকে আয় কানে কানে বলি শালার স্যার তো আবার আমার কথাই বেশি শুনে।
মারুফঃহাহা বল।
আমিঃনিলাকে আজ প্রপোজ করে দিয়েছি আর রাজিও হয়ছে।
মারুফঃসত্যি তাহলে খাওয়াবি কবে।
আমিঃআজ বিকালে।
মারুফঃওকে।

একটুপর স্যার আমার কাছে এসে বল্ল।
স্যারঃকি রে হাদারাম আজ তোকে এত খুশি খুশি লাগে কেন।
আমিঃস্যার কাম হইয়া গেছে।
স্যারঃমানে কি কাম হয়ছে।
আমিঃতাই তো কি কাম হয়ছে।
স্যারঃআমি তোর বন্ধু হয় নাকি যে আমার সাথে মজা করবি।
আমিঃস্যার কি যে বলেন না।।।আমি আসলে এমনই।কিন্তু আপনি বার বার শুধু আমার কাছেই আসেন।
স্যারঃআসলে আমারও তোর সাথে মজা করতে ভালো লাগে।।।তুই খুব ভালো জানিস তোর মতো যদি আমার একটা ছেলে থাকতো তাহলে আমার খুব ভালো হতো।
আমিঃকি বলেন আমার আব্বা বলে যে “হে আল্লাহ এ তুমি কেমন ছেলে দিছো আমাক”আর আপনি কি বলতেছেন।
স্যারঃতুই খুব রসিক টাইপের।
আমিঃতাহলে আপনার মেয়ের জামাই বানান আমাকে(কথাটা বলে নিলার দিকে তাকালাম।। ওরে বাবা মনে হলো ওখান থেকেই আমাকে খেয়ে ফেলবে)
স্যারঃহাহহাহাহা মায়া তো তোর থেকে অনেক বড়।।ছোট হলে অবশ্যই দিতাম।
আমিঃস্যার আমার আইডির বিও তে কি লেখা আছে দেখছেন।
স্যারঃনা তো।
আমিঃলেখা আছে(সিনিয়র আপুদের প্রতি ক্রাস….ক্লাসের সবাই একসাথে বলে উঠলো আর আমি তো পুরাই হা হয়ে গেলাম)
স্যারঃতাই নাকি।। ওকে অনেক গল্প করলাম এবার সবাই মন দিয়ে পড়ো।


ক্লাস শেষে আমি আর নিলা বসে আছি।দুজন কথা বলতেছি এমন সময় একটা ছেলে এসে নিলাকে বল্ল।
…..নিলা তোমাকে ইমরান ডাকে।
নিলাঃওকে আসতেছি।
আমিঃইমরান কে।
নিলাঃআমার বেস্ট ফ্রেন্ড।
আমিঃওহহ এখন তার কাছেই যাবা তাই তো।
নিলাঃহুমম।।।যাবো আর আসবো।
আমিঃওকে।(নিলা চলে গেলো আর আমি ভাবতে লাগলাম।।। আমি কি কোনো ভুল মানুষকে ভালোবাসতেছি)

কি ব্যাপার নিলা এখনো আসছে না কেন।উফ আর সয্য হচ্ছে না।।কিছুক্ষন পর নিলা আসলো।
নিলাঃছরি বাবু ও কিছুতেই ছারতে ছিলো না তবুও জোর করে আসলাম(আমার কাধে মাথা রেখে)
আমিঃওহহ(মাত্র দুইদিন হলো কথা বলতেছি এখন যদি ঐ ছেলেদের সাথে মিশতে না করি তাহলে হয়তো আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে।।।।ওকে যে আমি খুব ভালোবাসি)
নিলাঃরাগ করো না প্লিজ ওরা শুধু আমার বন্ধু আমি তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলছি।
আমিঃহুমম আমিও বাসি(যাক কথাটা শুনে ভালো লাগলো)
নিলাঃশুনো আজ বিকালে আমাকে নিয়ে একটু লেকের পাড়ে ঘুড়তে যাইবা।
আমিঃসত্যি ওকে।
নিলাঃহুমম আমার বাবু(বলেই গাল টেনে দিলো)
আমিঃআচ্ছা একটা কথা বলি।
নিলাঃএকটা না যত ইচ্ছে বলো।
আমিঃনা একটাই বলবো।
নিলাঃহুমম বলো।
আমিঃতুমি আমাকে প্লিজ বাবু বলবা না। এই বাবু ডাকটা আমার একদম ভালো লাগে না।
নিলাঃহাহাহাহা ওকে।
আমিঃহুমম।।চলো বাসায় যাই।
নিলাঃহুমম

তারপর আমি আর নিলা বাসার দিকে রওনা দিলাম।।বাসায় আসতে ১০মিনিটের মতো সময় লাগে।। আমাদের বাসা থেকে নিলাদের বাসা অনেকটাই দুরে।আমাদের বাসার কাছ দিয়েই নিলাদের বাসায় যেতে হয়।।তো আমি আর নিলা আসতেছি যখন আমাদের বাসার কাছে আসছি তখন দেখি আব্বা চেয়ার নিয়ে রাস্তার কাছে বসে আছে।আব্বাকে দেখে আমার ব্যাগটা পিছন থেকে সামনে নিয়ে আসলাম আর মুখটা ঢেকে নিলাম।আমার এমন অবস্থা দেখে নিলা বলে উঠলো।
নিলাঃজানো এইভাবে মুখ ডাকতেছো কেন(এইটা যে আমাদের বাসা নিলা তা জানে না)
আমিঃচুপ কর পড়ে বলছি(আস্তে করে বল্লাম)
নিলাঃখুব পানি পিপাসা লাগছে।।চলো এই বাসা থেকে পানি খেয়ে আসি।
আমিঃনা না বাসায় গিয়ে খেও(ছ্যামরি কই কি)
নিলাঃনা খুব পিপাসা পাইছে এই রোদের ভিতর আসতে আসতে।তুমি থাকো আমি খেয়ে আসছি(বলেই নিলা বাসার ভিতর ঢুকে গেলো।আর আমি আব্বার দিকে পাছা দিয়ে দারাই আছি তখনি আব্বা বলে উঠলো)
বাবাঃস্যার দারাই আছেন কেন বসেন বসেন।(চেয়ার থেকে উঠে)
আমিঃওহহ আব্বা তুমি কখন আসছো আর রাস্তায় কি ভিতরে যাও।
বাবাঃমেয়েটা কিন্তু হেব্বি রে।
আমিঃসত্যি বলছো.
বাবাঃহুমম কিন্তু ভিতরে গেলো কেন।ও জানে না এইটা তোর বাসা।
আমিঃনা।
বাবাঃতা বাসায় না গিয়ে কই যাইতেছিলি।
আমিঃনিলাকে পৌছে দিতে।
বাবাঃওহহ থাক গিয়ে দেখি মেয়েটা কি করছে(বলেই আব্বা ভিতরে ঢুকে গেলো আর আমি চেয়ারে বসলাম।।কিছুক্ষন পর নিলা আসলো এসেই সে কি ঝারি)
নিলাঃশয়তান। বাদর ফাজিল এইটা তোদের বাসা আর আমাকে বলিস নি।।।।সামনে আমার শ্বশুর বসে ছিলো তাকে সালাম ও করতে পারলাম না।
আমিঃছরি পানি খাইছো এখন চলো।
নিলাঃতোর যেতে হবে না।তুই থাক (বলেই হনহন করে চলে গেলো।আর আমি ভিতরে গিয়ে)
আমিঃকই গেলা দাদার ব্যাটা বের হও তারাতারি(অনেক জরে জরে বল্লাম)
বাবাঃজি স্যার বলুন।
আমিঃকেন নিলাকে বলতে গেলা যে এইটা আমাদের বাসা।
বাবাঃমেয়েটাকে খুব ভালো লাগছে রে তাই কথা বলতে গেছিলাম।।আর কথা বলার এক পর্যায়ে সব বলে দিছি।
আমিঃওহহহহ।।।ভালো করছো।আম্মু কই
বাবাঃরান্না করে।
আমিঃএখন আবার কিসের রান্না।
বাবাঃআরে আনিকারা আসতেছে।
আমিঃআব্বা হেইডা আবার কেডা।
বাবাঃআরে হাদারাম তুই চিনবি না এই প্রথম আসতেছে তাই তো রাস্তায় বসে আছি।আমার মামাতো বোনের মেয়ে।
আমিঃতার মানে আমার ফুফাতো বোন তাই না।
বাবাঃহুমমমম।যা গিয়ে ফ্রেস হয়ে নে।
আমিঃওকে।

তারপর ফ্রেস হয়ে দিলাম এক ঘুম।ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো।না দেখেই রিসিভ করলাম।
আমিঃহ্যালো।
…..কই তুই তারাতারি আয়।
আমিঃউমম(ঘুমের মধ্যে)
…..উম কি তারাতারি আয়।
আমিঃআব্বা ও আব্বা দেখো তো কে ফোন দিছে(সেই লেভেলের ঘুম ধরছে কিছুতেই ছারতেছে না)
বাবাঃকই দেখি দে।
আমিঃউমমম(বলেই আব্বার কাছে ফোনটা দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম)
বাবাঃহ্যালো কে বলছেন।
……আংকেল আমি নিলা।
বাবাঃওহহহ কিন্তু মা নিরব তো ঘুমাচ্ছে।।।।ও একদম মরার মতো ঘুমায়।
নিলাঃপ্লিজ ওকে একটু ডেকে উঠান।
বাবাঃআচ্ছা দেখতেছি।
নিলাঃপ্লিজ।
বাবাঃওকে।তুমি ফোন রাখ ওকে তুলে ফোন দিচ্ছি।
নিলাঃহুমম ওকে।


বাবাঃনিরব এই নিরব উঠ।
আমিঃউমম
বাবাঃউমম কি তারাতারি উঠ নিলা পাগল হয়ে যাচ্ছে।
আমিঃউমম কোন নিলা।
বাবাঃকি আজব ভুত টুত আবার ধরলো নাকি। উঠ।
আমিঃআর একটু।
বাবাঃএখন উঠ(মুখের উপর পানি ঢেলে দিলো আর আমি লাফ মেরে উঠে বসলাম)
আমিঃকত বাজে।
বাবাঃ৫.৩০ দিনের বেলা কেউ এইভাবে ঘুমায় নাকি।
আমিঃকিছু টাকা দাও।
বাবাঃদারা দিচ্ছি(বলেই আব্বা ওর রুমে চলে গেলো আর আমি মুখে পানি দিয়ে রেডি হয়ে দারাই আছি)
বাবাঃএই নে।
আমিঃহুমম দাও।(তখনি দেখি নিলার ফোন)
নিলাঃশালা নিরব্বা তুই শুধু আমার কাছে তোর ঠ্যাং ভেঙ্গে দিবো।
আমিঃওরে আল্লাহ রে আমার তো হাত পা কাপছে তোমার কথা শুইনা।
নিলাঃতারাতারি আসো লেকের পাড়ে।
আমিঃওকে ময়না।

তারপর তারাতারি করে লেকের পাড়ে গেলাম।গিয়ে দেখি নিলা ঘাসের উপর বসে আছে।আমি গিয়ে ওর পিছনে দারালাম সামনে গেলে হয়তো থাপ্পড় মারতে পারে।পিছন থেকে বলে উঠলাম।
আমিঃউফ তুমি এইখানে আর আমি খুজে খুজে ক্লান্ত।
নিলাঃসোনার টুকরা তাহলে আইছো(আমার থুথনিতে হাত দিয়ে)
আমিঃহুমমম।
নিলাঃকান ধর।
আমিঃমানে কেন।
নিলাঃতার দুইটা কারন (১)তুই এখন মিথ্যা কথা বলছোস(২)তোকে ফোন করছিলাম আর তুই বাবার কাছে দিছোস তাই।
আমিঃমাফ করে দে বইন আর এমন হবে না।
নিলাঃকুত্তা কি বল্লি।কান ধর তারাতারি।
আমিঃহুমম ধরছি(বলেই কান ধরে দারাই থাকলাম)

আমিঃআর কতক্ষন কান ধরে দারাই থাকবো।
নিলাঃআর একটু।
আমিঃদুর বাল।
নিলাঃছি ছি কি বলো।এখন ছাড়ো।
আমিঃওকে(রাগ করে অন্য দিকে তাকাই থাকলাম)
নিলাঃদেখো কি সুন্দর জায়গা তাই না।
আমিঃহুমমমম।
নিলাঃচলো ঐ দিকটাই বসি।
আমিঃওকে।

তারপর দুজন বসে আছি আমি কোনো কথা বলছি না।নিলা আমার কাধে মাথা রাখলো আর বল্ল।
নিলাঃকথা বলো না কেন।
আমিঃভালো লাগছে না।
নিলাঃকেনো।
আমিঃজানি না।
নিলাঃতাহলে চোখ বন্ধ করো।
আমিঃকেন।
নিলাঃদরকার আছে বন্ধ করো।
আমিঃহুমমমম।
নিলাঃউম্মাহহহ।
আমিঃকি করলা এইটা(চোখ বন্ধ করার সাথে সাথেই নিলা আমার গালে চুমু দিলো)
নিলাঃএখন ভালো লাগতেছে।
আমিঃআর একটা দিলে ভালো লাগবে।
নিলাঃচুপ বিয়ের পর যত চাও ততই দিবো।
আমিঃহুমমমম।
নিলাঃজানো নিরব তোমাকে আমি খুব ভালোবেসে ফেলছি।।
আমিঃআমিও।
নিলাঃহুমম দারও কে যেন ফোন দিছে(বলেই ফোনটা রিসিভ করলো)
নিলাঃহ্যা ইমরান বল।
ইমরানঃকি করিস।
নিলাঃনিরবের সাথে আছি।
ইমরানঃওহহ ওকে পরে কথা হবে।
নিলাঃহুমম ওকে।
আমিঃএত তারাতারি কথা বলা শেষ হলো।
নিলাঃআজব তো তাহলে কতক্ষন কথা বলবো।
আমিঃঅনেক সময় হয়ছে এখন বাসায় চলো।
নিলাঃওকে চলো।
আমিঃকি হলো উঠছো না কেন।
নিলাঃআমাকে একটু কোলে করে নিয়ে যাও।
আমিঃওরে আল্লাহ আমার মতো চিকনা তোমার মতো তেলের ব্যারেল রে কোলে নিতে পারবো।
নিলাঃআমি তেলের ব্যারেল তাই না।।।। তুমি যদি আমাকে কোলে না নাও তাহলে আমি উঠমু না হু(বলেই মুখটা বাংলার ৫বানিয়ে রইলো)
আমিঃএকি বিপদে পরলাম।।।।প্লিজ সোনা অন্য একদিন নিবো এখন চলো হেটে যাই।
নিলাঃ……(কোনো কথা না বলে চুপ করে রইলো)
আমিঃওকে নিচ্ছি(বলেই কোলে তুলে নিলাম)
নিলাঃএই তো আমার জানুটা(বলেই গলা জরিয়ে ধরলো…আর আমি ওকে কোলে করে লেকের পাড় থেকে রাস্তায় নিয়ে আসলাম।।।নিলা আমার মুখের দিকে হা কইরা তাকাই আছিলো।। আমার কেমন যেন লজ্জা লজ্জা লাগছিলো)
নিলাঃবাসায় গিয়ে ফোন দিয়ো কেমন।
আমিঃহুমমম।।

তারপর নিলা ওর বাসায় চলে গেলো আর আমি রাস্তা দিয়ে হাটতেছি।।।হাটতে হাটতে কামরুল কাকার দোকানে এলাম। এসে দেখি মারুফ.সৈকত সবাই বসে আছে।আমি কাছে যেতেই।
মারুফঃপ্রেমে পড়লে সবাই বেইমান হয় রে।।।
সৈকতঃতাই তো দেখছি।
আমিঃকি রে কে আবার বেইমান হলো।
মারুফঃজানো না দুদু খাও দুদু হ্যা।
আমিঃদেখ আমি মোটেও বেইমান না।
মারুফঃনিলাকে পেয়ে আমাদের তো ভুলেই গেছিস।।।আর সবথেকে বড় কথা আজ আমাকে তোর খাওয়ানোর কথা ছিলো।
আমিঃওহহ তাই তো।।।ওকে তোরা কি খাবি নে।
মারুফঃকাকা একটা স্পিড আর একটা বেনসন দাও।
সৈকতঃআমাকেও দাও।
আমিঃবুলবুল তুই কি নিবি নে।
বুলবুলঃআমি তো বেনসন খাই না তাই আমাকে একটা মোর দাও।
আমিঃতাহলে ওকে স্পিড দিও না কাকা।
কাকাঃহাহাহাহহা নিরব তুই আজ শেষ।
আমিঃনা কিসের শেষ আমারি তো সব কলিজার দোস্ত।।।
মারুফঃকথা কওয়ার টাইম নাই তারাতারি দাও।
কাকাঃহাহাহা দিচ্ছি।

সবাই অনেক মজা করে খেলাম।খাওয়ার পর বিল দিতে গিয়ে দেখি আর একটাকাও পকেটে থাকে না।।। সব দিয়ে দিলাম।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ৮টা বাজে তাই বাসায় চলে আসলাম।এসে সোজা আমার রুমে। রুমে ঢুকেই গেন্জিটা খুলতেছি তখনি একটা মেয়েলি কন্ঠে বলে উঠলো।
……আপনার লজ্জা সরম নাই নাকি।
আমিঃএই কে কে(ভয় পেয়ে)
……হাহাাহহাহা ভিতু কোথাকার(বলেই হাসতে লাগলো)
আমিঃকি আজব এই কেডা আপনি আর আমার রুমে কি করছেন।
……আমি আনিকা তোমার ফুফাতো বোন।
আমিঃওহহ তুমিই তাহলে আনিকা।
আনিকাঃহুমমম এতক্ষন কই আছিলা(সমবয়সি তাই তুমি করে বলছে)
আমিঃবন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলাম।
আনিকাঃসেই কখন থেকে একা একা বসে আছি।
আমিঃকেন মা আছে না।
আনিকাঃতার সাথে কি গল্প করবো।
আমিঃচলো খেয়ে নিই।
আনিকাঃহুমম।

তারপর আমি গিয়ে দেখি ফুফু ফুফা সবাই বসে আছে। আমাকে দেখেই বলে উঠলো।
ফুফুঃহায় নিরব কত বড় হয়ে গেছে(আমার মাথায় হাত দিয়ে)
আমিঃহুমমম কেমন আছো।
ফুফুঃভালো বাবা তুই।
আমিঃহুমম ভালো।।।ফুফা কেমন আছেন।
ফুফাঃআল্লাহ রাখছে ভালোই।(তখন আব্বা বলে উঠলো)
বাবাঃসবাই বসো খেতে।
আমিঃহুমমম।

তারপর সবাই মিলে খেতে লাগলাম।।খাওয়া শেষে আমি আর আনিকা আমার রুমে বসে থেকে ল্যাপটপে নাটক দেখছি তখন মা আসলো আর বল্ল।
মাঃনিরব তোর বাবা ডাকে।
নিরবঃহুমম আসছি।।
মাঃহুম।

তারপর আমি আর আনিকা গেলাম গিয়ে দেখি সবাই সোফায় বসে আছে।আমিও গিয়ে বসলাম।
বাবাঃনিরব তোর ফুফু কি বলে।
আমিঃকি বলে।
বাবাঃআনিকা কে বিয়ে করতে বলে।।তারজন্যই ওরা আসছে।
আমিঃকিহহহ(লাফ মেরে উঠলাম)
ফুফুঃদেখ বাবা তোকে আমার খুব ভালো লাগে তাই তো আনিকার জন্য তোকে বেছে নিয়েছি।(এই কথা শুনে আনিকা লজ্জায় উঠে গেলো)
বাবাঃকি করবি এখন।
আমিঃবাবা তুমি একটু আমার রুমে আসো।(বলেই আমার রুমে চলে আসলাম।।তারকিছুক্ষন পর বাবা আসলো)
বাবাঃকি হয়ছে।
আমিঃতুমি জানো না আমি নিলাকে খুব ভালোবাসি।
বাবাঃহুমম জানি তো কিন্তু দেখ তারা কত আশা নিয়ে আসছে।
আমিঃআর তাছাড়া আমার কি বিয়ের বয়স হয়ছে।
বাবাঃআমি বলেছিলাম।।।তবুও শোনে নি তোকে নাকি আনিকার জীবনসঙ্গি করবেই।।।একটু ভেবে দেখ(বলেই চলে গেলো আর আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম)

আমি এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।মাথাটা ব্যাথা করছে।তাই ঠাস করে শুয়ে পড়লাম।তারকিছুক্ষন পর ফোনটা বেজে উঠলো।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি নিলা।।। রিসিভ করলাম না। কেটে দিলাম।আবার দিলো এইবার ধরলাম।
নিলাঃকি তোমার সমস্যা কি।
আমিঃঅনেক বড় সমস্যা।
নিলাঃকি হয়ছে তোমার। তোমার কথা এমন শোনা যাচ্ছে কেন।
আমিঃবাবা আমাকে বিয়ে করতে বলে।
নিলাঃমানে কাকে বিয়ে করতে বলে।
আমিঃআমার ফুফাতো বন আনিকা কে।
নিলাঃনাহ এ কখনো সম্ভব না। আমি তোমাকে ছাড়া বাচবো না নিরব(বলেই হাউমাউ করে কেদে দিলো)
আমিঃআরে পাগলি কাদছো কেন।।আমি তো ওকে বিয়ে করবো না।
নিলাঃচলো আমরা পালায়া যাই।
আমিঃমাথা খারাপ।
নিলাঃহুমম তুই যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করস তাহলে তোকে খুন করে ফেলবো(কাদো কাদো গলায়)
আমিঃকি করো এখন।
নিলাঃকিছু না..শুনো কালই আমাদের বাসায় তোমার বাবা কে পাঠাবা।যে ভাবে হোক।
আমিঃএখন ফোন রাখ আমাকে একটু ভাবতে দাও।
নিলাঃওকে।

নিলার সাথে কথা বলা শেষে। ফোনটা বুকের উপর রেখে শুয়ে রইলাম তখন আনিকা রুমে আসলো আর….
আনিকাঃতুমি খুশি হও নি।
আমিঃঅনেক খুশি হয়ছি। এই দেখো ড্যান্স করতেছি(একটু ড্যান্স করে)
আনিকাঃএইভাবে কথা বলছো কেন।।তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে না।
আমিঃদেখো আমি নিলাকে অনেক ভালোবাসি অনেক।
আনিকাঃআমিও যে তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
আমিঃমানে তোমার সাথে দেখা হলোই আজ।
আনিকাঃহুমমম আম্মুর কাছে তোমার একটা ছবি আছে আর সেইটা আমি প্রতিদিন বুকে নিয়ে ঘুমায়।।আর সমসময় দেখি।
আমিঃবাবাবা।।আমি যখন সিংগেল ছিলাম তখন কই আছিলা।
আনিকাঃপ্লিজ আমাকে মেনে নাও।
আমিঃদেখো আমার নিলাই সব।। আমার জীবন থাকতে তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না।
আনিকাঃ……..(কিছু না বলে কাদতে লাগলো)
আমিঃকি আজব কাদছো কেন।
আনিকাঃতুমি সত্যি আমাকে বিয়ে করবা না(চোখের পানি মুছতে মুছতে)
আমিঃএ জীবন থাকতে না।
আনিকাঃওকে তাহলে আমি আমার ভালোবাসার ভাগ এখনি নিয়ে নিব(বলেই দরজা লাগিয়ে দিলো)
আমিঃমানে দরজা লাগাচ্ছো কেন।
আনিকাঃকোনো মানে টানে নাই(বলেই আমার উপর উঠে বসলো)
আমিঃপ্লিজ আনিকা পাগলামি করো না।
আনিকাঃখুব ভাব বেশি আপনার তাই না(বলেই ওর বুকের ওরনা টা শরিয়ে ফেল্ল)
আমিঃকি আশ্চর্য কি করছো এইসব।
আনিকাঃকিছু না বাবু(বলেই আমার ঠোটের সাথে ওর ঠোট লাগিয়ে দিলো)
আমিঃঠাস। ঠাস বেয়াদব মেয়ে কোথাকার।
আনিকাঃমারো আরও মারো তবুও তোমাকে ছারছি না(কাদো কাদো গলায়)
আমিঃশর এখান থেকে(উপর থেকে ফেলে দিয়ে।।আর আমি উঠে যেই না দরজা খুলতে যাব তখনি আনিকার চিৎকার)
আনিকাঃমামা মামাগো আমাকে বাচাও(জোরে জোরে কাদছে আর চিল্লাচ্ছে…আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম যখন ওর শরীরের কাপড় টান দিয়ে ছিড়ে ফেল্ল।।।ওর চিৎকার শুনে সবাই আসলো)
বাবাঃকি হয়ছে মা দরজা খুল।(তখন আমি দরজা খুলে দিলাম।আর সবাই ভিতরে ঢুকলো।ঢুকে দেখে আনিকা ভয়ে কাপছে আর কাদছে(অভিনয় করতেছে)আমি তখন বের হতে যাব তখন আব্বা বের হতে দিলো না।)
বাবাঃকি হয়ছে মা তোমার এমন অবস্থা কেন।
আনিকাঃমামা আআআমি।(তুতলাচ্ছে।।।আনিকা তুই সেরা অভিনেত্রী হতে পারবি)
বাবাঃহ্যা বলো।
আনিকাঃআমি রুমে এসে দেখি নিরব শুয়ে আছে। আর আমি ওর কাছে বসে পড়ি তখন ও আমাকে(এইটুকুই বলেই কেদে দিলো)
বাবাঃআরে কি হয়ছে সেটা তো বলো।
আনিকাঃআমি তোমাকে বলতে পারবো না।
বাবাঃতুই দেখ(আনিকার মা কে বল্ল)
ফুফুঃকি হয়ছে মা।
আনিকাঃআমি বলেছিলাম বিয়ের পড়ে ঐসব হবে কিন্তু নিরব না শুনে আমার সর্বনাশ করে দিলো।
ফুফুঃছি ছি নিরব তুই এমনটা করতে পারলি।
আমিঃবিশ্বাস করো আমি কিচ্ছু করিনি।
বাবাঃতুই আমার ছেলে ভাবতেই ঘৃনা হচ্ছে(বলেই ঠাস। করে একটা চড় মারলো)
আমিঃবিশ্বাস করো বাবা আমি কিচ্ছু করিনি(চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেলো)
বাবাঃতুই এখনি আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যা(বলেই ঘাড় ধাক্কা দিলো।আর মার সাথে ধাক্কা খেলাম)
আমিঃমা ও মা বিশ্বাস করো।
মাঃআনিকা তো তোর বউই হতো তাহলে কেন এমনটা করলি।
আমিঃকিচ্ছু করিনি আমি কিচ্ছু করিনি(কাদতে কাদতে বসে পড়লাম)
ফুফাঃযা হবার তা হয়ছে এখন কাজি ডেকে ওদের বিয়ে দেওয়া হোক।
আমিঃমানি না আমি। আমার জীবন থাকতে ঐ মেয়েকে আমি বিয়ে করবো না।।।। (তখনি বাবা ঠাস ঠাস ঠাস করো আরও চড় মারলো)
বাবাঃকরবি না মানে।।।তুই বিয়ে না করলে ওর কি হবে।
আমিঃতোমরা বিশ্বাস করো।।আমি ওর কিচ্ছু করিনি।
বাবাঃএকটা বাটাম নিয়ে আসো তো(মাকে বল্ল)
মাঃআমি নিরব কে বুঝিয়ে বলছি।
বাবাঃহুমম বুঝাও।
মাঃদেখ বাবা এখন তুই যদি ওকে বিয়ে না করিস তাহলে ওর কি হবে।
আমিঃবিশ্বাস করো আমি কিচ্ছু করিনি(চিল্লাইয়া বল্লাম)
বাবাঃদারা.. (বলেই আব্বা একটা বাটাম নিয়ে আসলো।।আর অনেক মারলো।। কেউ বাবাকে আটকালো না।।।সবাই আমাকে ঘৃনা করছে)
ফুফুঃআহা এখন মেরে কি হবে তারচেয়ে কাজি ডাকো।
বাবাঃহুম যাচ্ছি।

বাবা চলে গেলো কাজি ডাকতে।আর আমি ফ্লোরে শুয়ে পড়লাম।।।সারা শরীর ব্যাথায় চিনচিন করছে।মা আমার কাছে এসে হাউমাউ করে কেদে দিলো।।আর আনিকা মিটি মিটি হাসছে হয়তো ওর মিশন সাকসেসফুল হবে বলে।।।।।কিন্তু আমি নিরব বেচে থাকতে ওকে বিয়ে করবো না।।।।চোখ দুটু ঝাপসা হয়ে আসছে।।খুব ব্যাথা করছে।তখন মা আমাকে খাটে শুইয়ে দিয়ে মলম লাগিয়ে দিলো।।।তখন আনিকা আমার কানের কাছে এসে বল্ল।
আনিকাঃছরি বাবু বিয়ের পর অনেক অনেক আদর দিয়ে সব ব্যাথা ভুলিয়ে দিবো।।আর দেখলে তো কেমন করে তোমাকে আমার করে নিলাম।
আমিঃ……..(কিচ্ছু বলতে পারছি না।।কথা বের হচ্ছে না।।।ইচ্ছে হচ্ছিলো ঠাস করে একটা চড় মারি)

সবাই রুম থেকে বের হয়ে গেলো।শুধু ঐ ডাইনি ছাড়া। আমি শুয়ে আছি আর আনিকা পাশে বসে আছে কিচ্ছু বলছে না।রাত অনেক হয়ছে কারও চোখে ঘুম আব্বা গেছে কাজী ডাকতে।আল্লাহই জানে কাজি আসার পর কি হবে।আমার মাথাটা ঝিম মেরে আছে।কিছুক্ষন পর আমার প্যান্ট টা কেপে উঠলো মনে হয় কেউ ফোন দিছে।আমি কোনো রকম প্যান্ট থেকে ফোনটা বের করলাম করে দেখি নিলার ফোন এত রাতে পাগলিটা ঘুমাইনি।আমার ফোনের স্কিনে বড় বড় করে জান লেখাটা ভেসে উঠলো।আনিকা তা দেখতে পেয়ে। আমার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে রিসিভ করলো।হয়তো ওর এখন পাওয়ার আছে পরিবারের সবাই এখন ওর দলে।।।।এই ডাইনি টা একদিনে আমার জীবনটা নরগ করে দিলো।
আনিকাঃহ্যালো… আপনি কেমন মেয়ে হ্যা অন্যের বাসর করতে দেন না(অনেক রেগে রেগে বল্ল)
নিলাঃমানে এই তুমি কে।।আর কার সাথে বাসর করতেছো(আমি শুধু ওদের কথপকথন শুনতেছি।।।একটু যে উঠে বসবো তাও শরীরে বল নেই)
আনিকাঃনিরব আমার জান।।। কিছুক্ষন আগে আমাদের বিয়ে হয়ছে(আনিকার এই কথাটা শুনে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেলো।।না জানি পাগলিটা এখন কি করে)
নিলাঃঅসম্ভব কখনই আমার নিরব এমন কাজ করবে না।।।নিরবকে ফোন দাও।
আনিকাঃও এখন কথা বলবে না।
নিলাঃপ্লিজ দাও(কান্না করে দিয়ে)
আনিকাঃপ্লিজ ডিস্টার্ব করবেন না।। বাসর করতে দিন।
নিলাঃওকে।


এইদিকে নিলা কেদেই যাচ্ছে এত রাতে নিরবের ফোন অন্য একটা মেয়ে রিসিভ করে এইসব বল্ল।নিলা সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে নিলো।।আর অঝরে কাদতে লাগলো।।কি করবে নিরবকে যে খুব ভালোবাসে।ওর কান্না কিছুতেই থামছে না।

আনিকাঃকেমন দিলাম বাবু।
আমিঃ……(কথা বলতে পারছি না।এমন মারাই মারছে।। শুধু অঝরে চোখের পানি ফেলছি।চোখের পানিতে বালিস ভিজে গেছে)
আনিকাঃউহ আর সহ্য হচ্ছে না।মামা যে কখন আসবে(তখনি আব্বা কাজী নিয়ে হাজির।।রাত অনেক হয়েছে।আব্বা আমার কাছে এসে আমাকে উঠাতে লাগলো। কিন্তু পারলো না তখন আব্বার মনে ভয় ঢুকে গেলো নিরবের কিছু হলো না তো।তার একমাত্র ছেলে বলে কথা।আব্বা আমাকে ডাকতে লাগলো)
বাবাঃনিরব এই নিরব কথা বল(তখন আমি ঙ্গ্যান হারিয়ে ফেলি)
মাঃবাবা উঠ উঠ(কেদে দিয়ে)
বাবাঃআমি ডাক্তার কে ফোন করছি(বলেই ডাক্তার কে ফোন করলো।।।বাড়ির কাছের ডাক্তার দেখেই এত রাতে আসতে বাধ্য হলো)
ফুফাঃআগে দেখেন কোনো মতে কবুলটা বলতে পারে নাকি।
বাবাঃআরে দেখছো যে কথাই বলছে না।।।।


কিছুক্ষন পর ডাক্তার আসলো এসে আমার পার্লস চেক করলো।তারপর আমাকে স্যালাইন দিয়ে রাখলো।আর কিছু ঔষধ লিখে দিয়ে চলে গেলো।।

বাবাঃকাজি সাহেব তাহলে আজ তো আর বিয়ে হবে না মনে হয়।আমার ছেলেটার কি অবস্থা(বলেই কেদে দিলো)
কাজিঃহুমমম বাবাজি আগে সুস্থ হোক তারপর।
ফুফাঃআর একটু অপেক্ষা করুন প্লিজ।
কাজিঃনা না আজ আর হবে না।আমি আসি কামাল সাহেব।
বাবাঃহুমম দেখেশুনে যাইয়েন।। আর কাল সকাল সকালই চলে আইসেন।
কাজিঃহুমম ওকে।

তারপর কাজি চলে গেলো।আর আমার পাশে আব্ব। বসে থেকে কাদতে লাগলো।এই প্রথম তার ছেলেকে মারলো।এর আগে কখনো মারে নি।।আমরা বাপ ব্যাটা বন্ধুর মতো ছিলাম।।আর মা আমার হাত পা টিপে দিচ্ছে।।সারা রাত কেউ আমার রুম থেকে বের হয়নি।।সবাই আমার রমেই আছিলো।


সকালে যখন আমার ঘুম ভাঙ্গলো।তখন দেখি সবাই জাগনা।।হয়তো কেউ ঘুমাইনি।আমি উঠে বাহিরে আসলাম।।শরীরটা এখনো হালকা দুর্বল।। নিলাকে ফোন দিলাম।সাথে সাথে রিসিভ করলো।
আমিঃচলো আমরা পালাবো।
নিলাঃবাসর কেমন করলেন।
আমিঃকি বলছো।
নিলাঃকেন এমন করলে আমার সাথে(কেদে দিয়ে)
আমিঃএখন কথা বলার টাইম নেই।।আমি আসছি তুমি রেডি হয়ে আসো পরে সব বলবো।
নিলাঃওকে।

তারপর আমি যেইনা গেট দিয়ে বের হবো তখনি আব্বা বলে উঠলো।
বাবাঃকই যাস।
আমিঃদোকানে
বাবাঃতারাতারি আসিস কাজি আসতেছে।
আমিঃ……(কিছু না বলে বেরিয়ে পড়লাম…গিয়ে দেখি নিলা রাস্তায় দারাই আছে।আমাকে দেখেই জরিয়ে ধরলো আর আমি আউ বলে চিৎকার করলাম)
নিলাঃকি হয়ছে তোমার(ছেড়ে দিয়ে)
আমিঃএই দেখো(গেন্জিটা তুলে দেখালাম)
নিলাঃওরে আল্লাহ(বলেই কেদে দিলো)
আমিঃএখন চলো সময় নেই।
নিলাঃহুমম চলো।

দুজন হাটতেছি পকেটে এক টাকাও নাই।এখন কি করি।।।মারুফ কে ফোন করলাম।ফোন দিতেই রিসিভ।
আমিঃদোস্ত অনেক বড় সমস্যা হয়ে গেছে।
মারুফঃআরে কি হয়ছে সেটা বল।
আমিঃশোন তাহলে(তারপর সব বল্লাম)
মারুফঃকিহহ এত বড় ঘটনা আর আমাকে একবারও বল্লি না।
আমিঃকেমনে বলবো মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিলো না।
মারুফঃএখন কই তুই।
আমিঃনিলাকে নিয়ে পালাছি রাস্তায়।
মারুফঃভালো করছোস টাকা পয়সা আছে কি(এটাই হলো বন্ধু)
আমিঃনারে একটাকাও নাই।
মারুফঃএকটু ওয়েট কর।
আমিঃকেন
মারুফঃ……(কোনো কথা বল্ল না।। লাইন কেটে দিলো)


কিছুক্ষন পর ফোনের মেসেজের রিংটন টা বেজে উঠলো।ওপেন করে দেখি ১০.০০০ টাকা বিকাশে দিছে।।।তখনি মারুফের ফোন।
মারুফঃপাইছোস টাকা।
আমিঃহুমম রে।।তোর মতো বন্ধু হয় না।
মারুফঃকথা না বলে তারাতারি যা।
আমিঃওকে দোস্ত দোয়া করিস।
মারুফঃহুম যা

আমরা দুজন সিরাজগঞ্জ রোড থেকে গাড়িতে উঠলাম।।।কই যাবো তার কোনো ঠিক নেই।।যাই হোক মনের মানুষকে নিজের করে পেলাম তো।। চন্দ্রা নামবো।।গাড়ি চলতে লাগলো।।নিলা আমার কাধে মাথা রেখে আছে।


এইদিকে
বাবাঃসর্বনাশ হয়ে গেছে।
মাঃকি হয়ছে।
বাবাঃতোমার ঘুণধর ছেলে পালিয়েছে।।।এখন এই মেয়েটার কি হবে।।
মাঃতুমি সত্যি বলছো তো।
বাবাঃতা নয়তো কি।(তখনি আনিকার বেরিয়ে আসলো)
আনিকাঃকিহহ নিরব পালিয়েছে।
বাবাঃহ্যা রে মা।
ফুফাঃআমি জানতাম এমনটা হবে।এখন আমার মেয়ের কি হবে।
আনিকাঃকিছুই হবে না।।।আমি বুঝতে পারছি জোর করে কখনো ভালোবাসা হয় না।
বাবাঃমানে।
আনিকাঃআসলে আমি নিরব কে খুব ভালোবেসে ফেলছিলাম।।তাই ওর সাথে(তারপর যা যা করছে সব বল্ল)
ফুফাঃঠাস ঠাস তোর মতো মেয়ে আমার ভাবতেই ঘৃনা হচ্ছে।
বাবাঃছি ছি ছি তোমার জন্য আমার ছেলেটাকে কতই না মারলাম(বলেই কাদতে লাগলো)
মাঃনা জানি আমার বাজান টা কোথায় আছে। কি খায়ছে সকালে।
ফুফুঃচল বাসায় তোর মতো মেয়ের এইখানে চলবে না(আনিকার ঘাড় ধরে)
ফুফাঃছরি ভাইজান।আমরা আর এই মুখ আপাদের দেখাবো না(বলেই সবাই চলে গেলো)
মাঃও গো নিরবকে একটু ফোন করো।। কই আছে ছেলেটা।
বাবাঃএই মুখ নিয়ে কিভাবে ওর সামনে যাব কিভাবে(কাদতে কাদতে)
মাঃতারাতারি ফোন করো।
বাবাঃফোন কালো তালিকায় রাখছে।
মাঃতাহলে যলদি চলো মারুফের কাছে যাই।
বাবাঃহ্যা চলো।

তারপর মা আর আব্বা মারুফের কাছে আসলো।এসে দেখে মারুফ রেডি হচ্ছে কলেজে যাওয়ার জন্য।
বাবাঃমারুফ তুই তো জানিস নিরব কোথায়।
মারুফঃআপনারা যে এতটা পাষান হবেন তা আমার জানা ছিলো না।
বাবাঃহ্যা রে আমরা আসলেই পাষান।।।বল না আমার নিরব কোথায়।
মারুফঃজানি না(বলেই চলে যেতে লাগলো আর মা ওর হাত ধরে মিনতি করে বল্ল)
মাঃপ্লিজ বাবা বলো আনিকা সব সত্য বলে দিয়েছে।
মারুফঃসকালে যাওয়ার সময় শুধু আমি ১০হাজার টাকা দিয়েছিলাম কোথায় যাবে তা বলে নি।
মাঃফোন করে আসতে বলো।
মারুফঃহ্যা আন্টি করছি(বলেই মারুফ আমাকে ফোন করলো)

আমি নিলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি তখনি মারুফের ফোন।
আমিঃহ্যা রে বল।
মারুফঃকই তুই।
আমিঃএলেঙ্গা।
মারুফঃতারাতারি বাড়ি চলে আয়।
আমিঃকেনো।
মারুফঃআনিকা সব সত্য কথা বলে দিছে।।
আমিঃসত্যি।
মারুফঃহ্যা এই নে আন্টি কথা বলবে।
আমিঃহ্যা দে(তারপর মার কাছে ফোনটা দিলো)
মাঃবাবারে তারাতারি আয়(কেদে কেদে)
আমিঃআমি এখনি আসছি মা(আমার তো সেই আনন্দ লাগতাছে)
আমিঃআব্বা কই আব্বার কাছে দাও।
মাঃসে তো কেদেই যাচ্ছে কথা বলবে না।তুই তারাতারি আয়।
আমিঃওকে।



তারপর আমরা বাস থামিয়ে এলেঙ্গাতে নেমে গেলাম।তারপর রোডের উদ্দেশ্য আবার রওনা দিলাম।।নিলা তো মহা খুশি।।


নিলাকে সহ বাসায় ঢুকলাম।ঢুকার সাথে সাথেই।মা এসে জরিয়ে ধরলো।
মাঃআমিও বিশ্নাস করিনি রে আমার নিরবকে।
আমিঃরাখ তো সে সব কথা।আব্বা কই।
মাঃরুমে আছে।
আমিঃওকে(তারপর আমি রুমের মধ্যে গেলাম গিয়ে দেখি আব্বা বসে আছে। আমাকে দেখেই।
বাবাঃআমাকে মাফ করে দে বাপ(বলেই জরিয়ে ধরলো)
আমিঃকিসের মাফ হুমম আগে আমাদের বিয়ে দাও তারপর মাফ😂🤣
বাবাঃহ্যা রে বাপ অবশ্যই।।।।আমিও চাইতাম নিলার সাথে তোর বিয়ে দিতে কিন্তু মেয়েটা এমন অভিনয় করলো তাতে সব কিছু শেষ করে দিলো।
আমিঃরাখ তো শয়তান মেয়েটার কথা।(আমি আর আব্বা বাহিরে আসলাম আর নিলা এসে বাবাকে সালাম করলো)
বাবাঃআমি আজকেই যাবো তোমাদের বাসায়।
আমিঃতারাতারি যাও।
বাবাঃহুমম চলো।
আমিঃনিলাও যাবে নাকি।
বাবাঃহুমমম।
আমিঃওকে যাও।

তারপর আব্বা নিলাকে নিয়ে ওদের বাসায় গেলো।

আর আমি পেটপুরে খেলাম।।অনেক সকালে উঠছিলাম তাই ঘুম ভালো হয়নি। তারউপর আবার বাটামের বারি।।তাই গিয়ে শুয়ে পড়লাম।.শুতেই চোখ লেগে গেলো।।ঘুম ভাঙ্গলো আব্বার ডাকে।
বাবাঃনিরব এই নিরব তারাতারি উঠ।
আমিঃহুমমম(উঠে)
বাবাঃকালই তোদের বিয়ে।
আমিঃসত্যি।
বাবাঃহুমম কারন তার মেয়ে যে চলে গেছে তা গ্রামের সবাই জেনে গেছিলো তাই তারা কালই বিয়ে দিতে চায়।
আমিঃওহহহ।
বাবাঃকালই বিয়ে কিন্তু এত তারাতারি কি ভাবে কি করবো।
আমিঃএখনি ডেকোরেটর। আনো আর সমস্থ বাড়ি সাজাও নিরবের বিয়ে বলে কথা।
বাবাঃহাহাহাহ তা তো অবশ্যই।থাক বাপ আমি এখন যাই(বলেই আব্বা চলে গেলো আর আমি উঠে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ৫টা বাজে)

আমি উঠে কাকার দোকানে চলে গেলাম।গিয়ে দেখি সবাই বসে আছে
আমিঃদোস্ত কাল আমার বিয়ে।
সৈকতঃকি কস এইগুলা।
আমিঃহুমম।সত্যি
সৈকতঃতাহলে চল সবাই(বলেই সবাই উঠে গেলো সাথে মারুফ ও গেলো)
আমিঃআরে কোথায় যাস তোরা(কেউ কিছু বল্ল না সবাই চলে গেলো আর হতাস হয়ে বসে পড়লাম)
কাকাঃকি রে সত্যি কি তোর বিয়ে।
আমিঃহুমম কাকা নিলার সাথে।
কাকাঃতাহলে দোকান বন্ধ করি।
আমিঃকেনো।
কাকাঃআরে ভাতিজির বিয়ে বলে কথা আগেই যাইতাম আর কি।
আমিঃহাহাহাহা কাকা হুমম যাইবা।
কাকাঃভাই কই।
আমিঃডেকোরেটর আনতে গেছে।
কাকাঃওহহহ।

একা একা অনেক্ষন বসে থাকলাম।।সবাই আমার সাথে এমন করলো কেন।।কিছুই বুঝতে পারলাম না।।কত ভালোবাসি ওদের আর ওরা আমার বিয়েতে মজা না করে চলে গেলো।খুব কস্ট হচ্ছিলো নিজেকে কেমন এতিম এতিম লাগতেছে।।অনেক রাত হয়ছে এখন বাসায় যেতে হবে।তাই বাসায় আসতেছি।। বাসার কাছে আসতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম।। কারন আমার বাসা থেকে সাউন্ড বক্সের শব্দ হচ্ছে আর গান বাজতেছে।।এইগুলা আবার কে আনলো।ভিতরে গিয়ে তো আমি আরও অবাক কারন সবগুলা হারামি ড্যান্স করতেছে।আমার মনটা আবার ভালো হয়ে গেলো। তাহলে ওরা এইটা আনার জন্য তখন চলে আসলো।আমি যেতেই আমাকে এক টান দিয়ে নাচাতে শুরু করলো।।আমি নাচতে পারি না তবুও হালকা নাচতেছি।।পুরো বাড়ি ডেকোরেটর দিয়ে সাজাচ্ছে আত্নীয়স্বজন আসতে শুরু করেছে।।।পুরো বাড়ি একদম মাতিয়ে তুলছে সবাই।।।এর মাঝে নিলার কথা একবারো মনে হয়নি।।মা বাবা কেউ দেখছি না সবাই যার যার মতো ব্যাস্ত।সারা রাত কেউ ঘুমাইনি অনেক মজা করলাম সবাই।.


এখন আমি বিয়ে করতে যাবো।সব গুলা বন্ধুরা অনেক সুন্দর করে সাজাচ্ছে আমাক।।নিলাদের বাড়ি যেহেতু কাছেই তাই আব্বা ঘোড়ার গাড়ি আনছে।।।আব্বার অনেক ইচ্ছে ছিলো ঘোড়ার গাড়ি করে বিয়ে করাবে আমাকে।। আল্লাহ আমার আব্বার ইচ্ছা পুরুন করলো।।।আমি ঘোড়ার গাড়িতে বসে রওনা দিলাম।।।।কিছুক্ষন যাওয়ার পর আমার টুপ টা পড়ে গেলো।আর মারুফ সেটা আবার দিলো আর বল্ল।
মারুফঃশালা রশি দিয়ে বেধে রাখ।
আমিঃহাহাহাহ🤣😂ব্যাটা রাজ করতে আইছি।।।।(রাজাদের মতো ভাব নিলাম একটু)
মারুফঃহাহাা।


কিছুক্ষন পর আমরা নিলাদের বাসায় চলে আসলাম।নিলাদের বাড়িও অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়ছে।।আমি লাফ মেরে নেমে পড়লাম আর তখনি সৈকত বলে উঠলো।
সৈকতঃআর কি করলি এইটা তারাতারি আবার উঠে বস।
আমিঃকেনো।
সৈকতঃআরে কথা কম বল তারাতরি উঠ।
আমিঃওকে(তারপর আবার তারাতারি করে উঠে বসলাম)

কিছুক্ষন পর দুইটা মেয়ে এসে আমাকে কোলে করে নামালো।হয়তো নিলার ভাবি হবে।।।আাহা কি মজা আর শালার আমি কি না আগেই নেমে পড়ছিলাম।।।তখন সৈকতের দিকে তাকালাম ও মারলো এক চোখ।।।।।সাবাস দোস্ত সাবাস মনে মনে বল্লাম।
আমরা সবাই ভিতরে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে বিয়ে সম্পুর্ন করে আবার ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে আসলাম।


এখন আমি বন্ধুদের সাথে কাকার দোকানে।সবাই মিলে মজা করতেছি নিলা যে আমার জন্য বউ হয়ে বসে আছে সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই।
মারুফঃদোস্ত তুই আড্ডা দে আমি ভাবির কাছে যাই(বলেই সবাই হাসতে লাগলো)
আমিঃহাহাহাহা আমার বউ মানে তোর ভাবি আর তোর বউ মানে আমার বউ তাই নারে।
মারুফঃযা শালা তারাতারি যা।
আমিঃদোস্ত গিয়ে কি করমু।
সৈকতঃাহহাহ😂🤣😂তোর কিছু করা লাগবো না যা করার নিলাই করবো নি যে রাগি হাহাহা।
আমিঃচুপ থাক আমি গেলাম।
মারুফঃহুমম যা(বলেই একটা কি যেন পকেটে গুজে দিলো আমি না দেখেই চলে আসলাম)


বাসর ঘড়ের দরজার কাছে এসে দারাই আছি।ভিতরে ঢুকতে কেমন যেন লাগছে।।তবুও ঢুকলাম ঢুকে দেখি নিলা পা ঝুলিয়ে বসে আছে।
আমিঃআজব এইভাবে বসে আছো কেন।
নিলাঃআর কত তোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
আমিঃএখনো এইভাবে কথা বলবা।
নিলাঃদারাই না থেকে আমার কাছে আসো।
আমিঃহুমম তা তো অবশ্যই(ওর কাছে গিয়ে)
নিলাঃএখন সবকিছু তারাতারি খুলো।
আমিঃমানে কার কি খুলবো।
নিলাঃতোমার সবকিছু খুলো আমার আর সহ্য হচ্ছে না(বলেই আমার পান্জাবিটা খুলে ফেল্ল)
আমিঃকি আজব এমন করছো কেন।
নিলাঃকোনো কথা হবে না(বলে আমার পায়জামা টা খুল্ল নিচে শুধু ছোট প্যান্ট ছাড়া)
আমিঃপ্লিজ স্টপ।
নিলাঃচুপ (বলেই স্যান্ডেল গেন্জিটা খুলে ফেল্ল)
আমিঃপ্লিজ নিলা এমন করছো কেন(নিলার মাঝে আবার পেত্নি এলো নাকি।আমার ভয়ে হাত পা কাপছে)
নিলাঃএখন ঐটা(বলেই আমার প্যান্টা খুলবে তখনি আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে দুরে চলে আসি আর ও হাসতে থাকে)
নিলাঃহাহাহাহ😁😂ভয় পাইছো।
আমিঃহুমমম।

আমিঃআচ্ছা নিলা এমন করলে কেন
নিলাঃএমনি
আমিঃচলো ওযু করে এসে নামায পড়ি।
নিলাঃহুমম চলো।
তারপর দুজন ওযু করে এসে নামায পড়লাম।।নামায পড়া শেষে নিলাকে বল্লাম।
আমিঃখুলো।
নিলাঃকি খুলবো।
আমিঃতোমার কিছু খুলতে হবে না আমি খুলছি(বলেই নিলার শাড়িটা খুলে ফেল্লাম)
নিলাঃকি হচ্ছে এইসব।
আমিঃবিড়াল মারবো।
নিলাঃআমি কি বিড়াল নাকি।
আমিঃসেটা পড়ে বুঝতে পারবে।
নিলাকে একটান দিয়ে আমার বুকে নিয়ে আসলাম।নিলা অনেক জরে জরে নিশ্বাস ফেলছে।আমি আরও জোরে জরিয়ে ধরলাম।আস্তে আস্তে নিলার দিকে ঝুকতে লাগলাম নিলা চোখ বন্ধ করে ফেল্ল।তারপর আমি নিলার ঠোট আমার দখলে নিয়ে নিলাম অনেকক্ষন পর ছাড়লাম।ছাড়ার পর নিলা কেমন করে যেন আমার দিকে তাকালো আমি ওকে নিয়ে খাটে শুয়ে পড়লাম।নিলার বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গে কিচ করতে লাগলাম।একসময় নিলা আমাকে অনেক জরে জরিয়ে ধরলো তার আমি ঐটা করতে লাগলাম।।


সকালে।
নিলাঃএই উঠ তারাতারি।
আমিঃউমম আব্বা যাও তো আর একটু(ঘুমের ঘুরে)
নিলাঃআমি আব্বা না তোমার বউ।
আমিঃদুর কি কও না।আমি আবার বিয়ে করলাম কবে।(রাতে ঘুম হয়নি তাই ঘুম ভাঙ্গছে না)
নিলাঃওরে আল্লাহ উঠ আমি নিলা।
আমিঃকিহহ নিলা তুমি কখন আসছো(লাফ মেরে উঠে)
নিলাঃপাগল হলে নাকি।।।কাল আমাকে বিয়ে করে আনলে আর এখনই মনে নাই।
আমিঃওহহহ নিলাকে না অনেক সুন্দর লাগতো কিন্তু তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন(আসলে আমার পাগলিটা ভেজা চুলে দারিয়ে আছে ওর পেট দেখা যাচ্ছে)
নিলাঃওহহ একদিনেই এই কথা(অভিমানি গলায় বল্ল)
আমিঃহুমম(বলেই এক টান দিয়ে বুকে নিলাম)
নিলাঃকি করছো বাহিরে অনেক লোক তারাতারি উঠ।
আমিঃএকটু আদর করি।
নিলাঃরাতে মন ভরে নি।
আমিঃনা(বলেই ওর ঠোটে কিচ করতে যাব তখনি নিলা বলে উঠলো)
নিলাঃদেখো খালি পেটে এইগুলা খেতে নেই
আমিঃহাাাহাহা তাই।
নিলাঃহুমম উঠ।
আমিঃওকে।

তারপর উঠে ফ্রেস হয়ে আব্বার সাথে কাজ করতে লাগলাম কারন নিলাদের বাড়ি থেকে লোকজন আসবে।আর নিলা রুমে বসে আছে প্রতিবেশিরা নতুন বউ দেখতে আসতেছে।।কিছুক্ষন পর হারামি বন্ধুরা আসলো এসে সবাই কাজে লেগে গেলো।সবাই একটা প্লান করে আসছে কেউ আজ আর সিংগেল থাকবে না সবাই ডাবল হয়ে যাইবে।কিছুক্ষন পর মারুফ এসে বল্ল।
মারুফঃরাতে কেমন বিড়াল মারলি।
আমিঃদোস্ত প্রথমে আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম।।সৈকতের কথাই ঠিক হতে যাচ্ছিলো।
মারুফঃকি হয়ছিলো।
আমিঃআমি যেই না ভিতরে ঢুকছি তখনি নিলা(তারপর সব বল্লাম)
মারুফঃ😁😁😂😂।(সবগুলা হারামি ৩২টা দাত বের হাসতে লাগলো)
সৈকতঃহাহাহ😁দেখছিস তো আমার কথাই ঠিক।
আমিঃহ রে।

১২টার দিকে নিলাদের বাড়ি থেকে সবাই আসলো।।তারপর আমরা ওদের আপ্পায়ন করে। রাতে যখন আমি আর নিলা ওদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রেডি হলাম।।।। কিছুক্ষন পর আমরা নিলাদের বাসায় গেলাম।।



এইভাবে কেটে গেলো অনেকগুলা দিন।আমার আব্বা মা নিলাকে খুব ভালোবাসে।নিলাও নিজের বাবা মায়ের মতো দেখে।খুব সুখেই দিন কাটছিলো আমাদের।দুজন একসাথে কলেজে যেতাম।।নিলার এখনো সেই বন্ধুগুলা আছে মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলে।আমি কিছু বলি না যে ও তো আমার বউই।।
একদিন আমি কলেজে যাইনি একটা কাজের জন্য আব্বা এক জায়গায় পাঠাইছিলো নিলা একাই গেছিলো।।তো আমি আসতে রাত হয়ে গেলো।রাত ৭টার সময় এসে দেখি নিলা বাসায় নেই।তাই মা কে ডাক দিলাম।
আমিঃ মা ও মা।
মাঃকি হয়ছে রে বাবা।
আমিঃনিলা কোথায়।
মাঃও তো কলেজ থেকে এখনো আসে নি।
আমিঃমানে কোথায় গেছে।
মাঃতা তো বলতে পারবো না।কেন তোকে বলে যায় নি।
আমিঃনাহ আমি দেখছি(বলেই আমার রুমে চলে আসলাম)।
কেমন যেন নিলার উপর অনেক রাগ হচ্ছে।ফোনটা বের করে নিলাকে ফোন দিলাম।প্রথম বার ধরলো না তারপর আবার দিলাম তখনোও ধরলো না তিনবারের বার ধরলো।
আমিঃকোথায় তুমি।
নিলাঃজান আমি এক ফ্রেন্ডের জন্মদিনে আসছি।।একটুপরই চলে আসবো।
আমিঃকাকে বলছো তুমি যে জন্মদিনে গেছো।
নিলাঃআজব কাকে বলবো আবার।
আমিঃকেন বলার মতো কেউ নেই।
নিলাঃএকটুপরই আসতেছি।(বলেই ফোন কেটে দিলো)

নিলা ফোনটা কেটে দিলো।আর আমি শুয়ে পড়লাম তার কিছুক্ষন পর মা আসলো এসেই বল্ল।
মাঃকি রে বউমা কই গেছে।
আমিঃওর বন্ধুর জন্মদিনে আসতেছে।
মাাঃওহহহ(বলেই চলে গেলো)
তারকিছুক্ষন পর নিলা আসলো।
আমিঃএকটু আমাকে বলে গেলে কি হতো জানো কতটা টেনশনে ছিলাম।
নিলাঃছরি জান আসলে হুট করে চলে গেছি তো তাই।
আমিঃহুমম ওকে।

এরকম নিলা মাঝে মাঝে এমন করে আমাকে না বলেই এমনি এক বন্ধুর সাথে ঘুড়তে যায়।কিছু বলতে পারি না খুব যে ভালোবাসি ওকে।।


৩বছর পর আমি একটা ভালো জব পেয়েছি।প্রতিদিন নিলা আমার গলায় টাই বেধে দেয় আর আমি কপালে একটা চুমু দিয়ে অফিসে যাই।দুজনের ভালোবাসার কোনো কমতি নেই।একদিন আমি অফিস থেকে বাড়ি আসার পথে দেখি নিলা কয়েকটা ছেলে বন্ধুর সাথে হাসাহাসি করছে।সেটা দেখে আমার মাথা পুরাই হট হয়ে গেলো।না আর না কিছু একটা করতেই হবে।বাড়িতে আসা মাত্রই আব্বা বল্ল।
বাবাঃনিরব বউমা সেই সকালে বের হলো এখনো এলো না কই গেছে রে।
আমিঃআসলে আব্বা(এখন কিভাবে বলি যে ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে)
বাবাঃবল কই গেছে বউমা ছারা বাড়িটা কেমন ফাকা ফাকা লাগে।
আমিঃনিলার কোন বন্ধু যেন হসপিটালে তাই দেখতে গেছে(মিথ্যা কথা বল্লাম)
বাবাঃওহহহ।

আমি আমার রুমে চলে আসলাম।এসে ভাবতে লাগলাম নিলা তো আমাকে খুব ভালোবাসে তাহলে কেন এমন করে।।।নাকি প্রেম করে বিয়ে করছি বলে এমন করছে।একটুপর মা রুমে আসলো।
মাঃকি হয়ছে রে বাবা(মাথায় হাত দিয়ে)
আমিঃকই কিছু না তো।
মাঃসবি বুঝিরে বাপ।
আমিঃকেন এমন করে ও।
মাঃআজ আসলে ওকে বুঝিয়ে বল।
আমিঃহুমম তুমি যাও।
মাঃহুমম।

মা চলে গেলো আর আমি ফ্রেস হয়ে এসে সোফায় বসে পড়লাম।তারকিছুক্ষন পর নিলা আসলো এসেই আমার কাছে ধপাস করে বসে পড়লো আর বল্ল।
নিলাঃকখন আসছো।
আমিঃ…….(কিছু না বলে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলাম)
নিলাঃআমি কি এলিয়েন নাকি যে এইভাবে তাকিয়ে আছো।
আমিঃকই গেছিলি।
নিলাঃকিহহ আমাকে তুই করে বলছো।
আমিঃযেটা বলছি তার উত্তর দে।
নিলাঃইমরানের সাথে ঘুড়তে গেছিলাম।।তুমি তো ঘুড়তে নিয়ে যাও না তাই।
আমিঃউঠ।
নিলাঃমানে।
আমিঃউঠতে বলছি উঠ।
নিলাঃএমন করছো কেন(কেদে দিয়ে)
আমিঃকাপড় চোপড় গোছা।
নিলাঃমানে।
আমিঃদেখ যা বলছি তাই কর।
নিলাঃকি হয়ছে সেটা তো বলো(ভয় পেয়ে)
আমিঃআগে যা বলছি তাই কর।
নিলাঃপ্লিজ এমন করো না।
আমিঃআর একটা কথাও না।


তারপর নিলা কাদতে কাদতে ওর সব কাপড়চোপড় ব্যাগে ভরলো।
আমিঃচল এখন।
নিলাঃকোথায়(কান্না করতে করতে)
আমিঃচল।
তারপর নিলাকে নিয়ে ওদের বাড়িতে আসলাম।এসে গেটের কাছ থেকেই আমি চলে আসলাম আর বল্লাম।
আমিঃযেদিন আদর্শবান স্ত্রী হতে পারবি সেদিন আসিস(বলেই চোখ মুছতে মুছতে চলে আসলাম)
নিলাঃপ্লিজ আামকে রেখে যেও না প্লিজ(কেদে কেদে)

চলে আসলাম রেখে।আল্লাহই জানে নিলাকে ছাড়া কেমন করে থাকবো।খুব যে ভালোবাসি ওকে।কিন্তু ওর ব্যাবহার দিনদিন এতই অসহ্য লাগছিলো যে আর সহ্য করতে পারলাম না।যদি আব্বার কথামতো বিয়ে করতাম তাহলে হয়তো আজ আমার এমন হতো না।নিজের ইচ্ছেমতো বিয়ে করে আজ আমার এই অবস্থা।।বাসায় এসে রুমের দরজা লাগাইয়ে কাদতে লাগলাম।নিলা শুধু ফোন করতেছে ওর একেকটা ফোন আমার কাছে বিষাক্ত লাগছিলো তাই ফোনটা বন্ধ করে রাখলাম।।যাকে এতটা ভালোবাসি তাকে ছাড়া কিভাবে থাকবো। কিছুক্ষন পর দরজা খুলে দেখি আব্বা মা দারাই আছে।আমি সোজা আব্বাকে জরিয়ে ধরে কাদতে লাগলাম।
আমিঃআমি অনেক বড় ভুল করেছি।
বাবাঃকাদিস না বাপ।দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমিঃহবে না।
বাবাঃকে বলছে এই দেখ আমাকে শুধু ফোন করে কাদতেছে(বাবার ফোনটা দেখিয়ে)
মাঃএকটা বাচ্ছা মেয়ের সাথে এমন পাগলামি করতেছিস কেন বাবা।
আমিঃকি করবো বলো।
বাবাঃযা আজ থাক কাল নিয়ে আসিস যা।
আমিঃনা বাবা আমি আর আনবো না।
বাবাঃহাহাহা পাগল দেখা যাইবো নি(বলেই আব্বা চলে গেলো)
মাঃযা বাপ ফ্রেস হয়ে আয়।
আমিঃহুমমমম।

তারপর ফ্রেস হয়ে এসে শুয়ে পড়লাম।চোখে শুধু আমার জানটার কথা মনে পড়ছে মাত্র কিছুক্ষন হলো নাই তাই বুকটা ফেটে যাচ্ছে।।যাই হোক হালকা কিছু খেয়ে একটা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।আমার ফোনটা বন্ধই ছিলো।সকালে মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো।
মাঃনিরব এই নিরব।
আমিঃউমম
মাঃঅফিসে যাবি না।
আমিঃহুমমম।
মাঃউঠ তারাতারি।
আমিঃহুমম উঠছি।

তারপর উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাকে ডাক দিলাম।
আমিঃনিলা নিলা কই গেলা।
মাঃকই তোর নিলা কাল ওকে না রেখে আসলি।
আমিঃওহহহ(মনটা খারাপ হয়ে গেলো।তখনি আব্বা বের হয়ে বল্ল)
বাবাঃএকদিনেই এরকম থাকতে যখন পারবি না তাহলে কেন রেখে আসলি।
আমিঃসব ভুলে যাব সব(বলেই অফিসে চলে আসলাম)

আমি হালকা কিছু খেয়ে অফিসে চলে আসলাম।অফিসে এসেও কাজে মন দিতে পারছি না শুধু নিলার কথা মনে পড়ছে।অনেক কস্টে কাজে মন দিলাম।কাজ করতে করতে কখন যে ২ টা বেজে গেছে বুঝতেই পারিনি।প্রতিদিন লান্চের সময় নিলা ফোন দিয়ে খাওয়ার কথা বলে দিতো হয়তো আজকেই ফোন দিছিলো। ফোন বাসায় রাখে আসছি।সবাই খেতে গেছে শুধু আমি ছাড়া।অনেক খুদা লাগছিলো তাই খেতে আসলাম।খেয়ে আবার কাজে মন দিলাম।।অফিস ছুটি হলো ৫টাই।বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে সোফায় বসে আছি তখনি আব্বা রুমে আসলো।।
বাবাঃদেখ মেয়েটা পাগল হয়ে গেলো।আর তোর ফোন বন্ধ কেন।
আমিঃএমনি।
বাবাঃদেখ মনে হয় এই একদিনেই নিলা সবটা বুঝতে পারছে।
আমিঃভালো।
বাবাঃযা এখন গিয়ে নিয়ে আয়।
আমিঃছরি বাবা পারবো না।
বাবাঃদেখ তুই ও কস্ট পাচ্ছিস মেয়েটাকেও কস্ট দিচ্ছিস।
আমিঃকই আমি তো কস্ট পাচ্ছি না(আসলে আমার ভিতরটা ফেটে যাচ্ছে নিলাকে না দেখতে পেয়ে)
বাবাঃআবার ফোন দিছে কথা বল।
আমিঃআব্বা তুৃমি যাও তো এখান থেকে(আমার ও ইচ্ছে হচ্ছে কথা বলতে)
বাবাঃতোর ফোন অন কর।
আমিঃনাহ।
বাবাঃঅন করতে বলছি(রেগে)
আমিঃহু করছি(আমি আবার আব্বাকে ভয় পাই)
বাবাঃনিলা ফোন দিলে কথা বলিস।ও যদি বলছে যে তুই কথা বলিসনি তাহলে!..)
আমিঃতাহলে কি।
বাবাঃসেটা পরে জানতে পারবি(বলেই আব্বা চলে গেলো আর আমি ফোনটা অন করলাম।আর সাথে সাথেই নিলার ফোন।মাত্র একদিন হলো নাই তাই মনে হচ্ছে কতবছর হলো যে নাই।।এইগুলা ভাবতে ভাবতে কলটা কেটে গেলো।আবার দিলো তখন রিসিভ করলাম)
আমিঃহ্যালো।
নিলাঃ…….(কিছু বলছে না শুধু ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে)
আমিঃকথা না বল্লে রাখছি।
নিলাঃআমাকে একবার বুঝিয়ে বল্লে কি হতো।
আমিঃআপনি বুঝেন না। যে স্বামি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের সাথে মেশা যাবে না।
নিলাঃআর কখনো এমন হবে না (কান্না করতে করতে)
আমিঃকাল ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিবো সাইন করে নিয়েন।
নিলাঃকিহহহ না নিরব না আমি তোমার দুইটা পায়ে পড়ি প্লিজ এমন করো না।
আমিঃ………(ওর কান্না শুনে আমার ভিতরটা পুরে যাচ্ছে)
নিলাঃশুধু একবার ক্ষমা করে দাও।আর কখনো কারও সাথে মিশবো না।প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও।
আমিঃওকে রেডি থাইকেন আসছি।
নিলাঃউম্মমাহ জানপাখি(একটা হাসি দিয়ে)

তারপর আমি নিলাদের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।রিকশা করে গেলাম যেন তারাতারি করে যেতে পারি।গিয়ে দেখি পাগলিটা গেটের কাছে সবকিছু নিয়ে দারাই আছে। আমি কাছে যেতেই দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরে কেদে দিলো।
নিলাঃপ্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও(কান্না করতে করতে)
আমিঃহুমম ঠিক আছে।
নিলাঃএকটু হেসে বলো।
আমিঃহাহাাহহা হয়ছে।
নিলাঃচলো ভিতরে।
আমিঃনা যাবো না।
নিলাঃআরে আম্মু সবকিছু রেডি করে রাখছে।
আমিঃনা এখন যাব না তারাতারি বাসায় চলো।
নিলাঃদেখ আম্মু কিন্তু রাগ করবে।
আমিঃআচ্ছা চলো।
নিলাঃহুমম আসো।

তারপর শশুড় বাড়ি থেকে খাওয়া দাওয়া করে নিলাকে নিয়ে রাতে বাসায় ফিরলাম।নিলা বাসায় ঢুকেই মা কে জরিয়ে ধরে কেদে দিলো।
নিলাঃখুব মিচ করছি তোমাকে এই একদিনে।।।
মাঃপাগলি মেয়ে একটা।
নিলাঃআব্বু কই।
মাঃশুয়ে আছে।
তারপর নিলা আব্বার রুমে গিয়ে আব্বাকেও জরিয়ে ধরলো আর বল্ল।
নিলাঃজানো বাবা এই একদিনে তোামদের খুব মিচ করছি।
বাবাঃহাহাহা পাগলি।


আমি রুমে এসে শুয়ে পরলাম।কিছুক্ষন পর নিলা আসলো এসেই আমার পায়ের কাছে বসলো আর।
নিলাঃসব সময় এইখানেই জায়গা দিয়ো তাই হবে আমার(আমার পায়ের উপর মাথা রেখে)
আমিঃআরে কি করছো।তুমি থাকবে এই জায়গায়(বলেই বুকে জরিয়ে নিলাম)
নিলাঃখুব ভালোবাসি তোমাকে খুব।
আমিঃহুমমম পাগলি।আসো একটু আদর করি।
নিলাঃদারাও দরজা লাগিয়ে আসি(বলেই নিলা বেরিয়ে পড়লো।মানে আমাকে ফাকি দিলো)
আমিঃকই গেলা।
নিলাঃআসি সোনা।

নিলা চলে গেলো আর আমি ফেসবুকে চ্যাট করতে লাগলাম।কিছুক্ষন পর নিলা আসলো।
আমিঃএত দেরি করলে কেন।
নিলাঃমা বাবা কে খেতে দিছিলাম।
আমিঃএকটা আদর্শবান স্ত্রী তার স্বামিকে জান্নাতে নিতে পারে জানো।
নিলাঃহুমমম এখন থেকে নামাজ পরবো।।আর কারও সাথে মিশবো না(বলেই জরিয়ে ধরলো)
আমিঃহুমমম।।।এখন হয়ে যাক তাহলে ওয়ান ডে ম্যাচ।
নিলাঃওরে আল্লাহ ওয়ানডে না টি টুয়েন্টি।
আমিঃহাহাহা কেন।
নিলাঃওয়ান ডে তো অনেক বড়।আমি পারবো না।
আমিঃহাহাহা ওকে আসো টি টুয়েন্টিই খেলি।
নিলাঃহুমম।


তারপর আমি আর নিলা মেতে উঠলাম টি টুয়েন্টি খেলায়।।।পরবর্তি খেলা দেখতে আমার সাথেই থাকুন ধন্যবাদ সবাইকে।।