অমল দা ও শিক্ষিত ভুতেরা

অমল দা ও শিক্ষিত ভুতেরা

” কী অমল দা, শুনলাম একটা ভুত তোমায় খুব জ্বালাচ্ছে? ”

পাড়ার ক্লাবে বসে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। গরমের সময় রাতে ঘুম হয় না। তাই পাড়ার ছেলেরা মিলে এই ক্লাবে রাত-ভর আড্ডা দিই। তারপর আড্ডার শেষ হলে কেউ কেউ বাড়ি চলে যায়, আবার কেউ কেউ ক্লাবেই শুয়ে পড়ে। যেহেতু গরমের ছুটি চলছে, তাই লেখাপড়ার চিন্তাটা নেই বললেই চলে। আমাদের মধ্যে কেবল এই অমল দা একটু বয়স্ক গোছের মানুষ। শোনা যায় এক সময় তিনি শিক্ষকতা করতেন। চাকরি টাকরি ছেড়ে এখন বেকার বললেই চলে। আজও আড্ডাটা বেশ জমে উঠেছিলো। আড্ডার বিষয় ভিনগ্রহেও কোনো প্রানী আছে না নেই। স্বভাবতয় যে যার নিজের মন মত যুক্তি দিচ্ছিলো। শুধু কী যুক্তি? এক পর্যায়ে সেটা তর্ক থেকে হাতাহাতিতে গিয়ে থামলো। বিল্টু তর্কে হেরে গিয়ে পেচোর গালে দিলো এক চড় বসিয়ে। পেচোর তো মহারাগ। এইসবের মধ্যে হঠাৎ করেই প্রশ্নটা করলো পটকা। ওর ভালো নাম অবশ্য দীপু। কিন্তু পাড়ার সবাই পটকা বলেই ডাকে। পটকার এমন প্রশ্ন সবাই তো অবাক। কিন্তু একমাত্র অমল বাবুর মুখের কোনো পরিবর্তন লক্ষ করলাম না। তবে কী পটকা যা বলেছে তা সত্য!!

– কী অমল দা? ঘটনা সত্য নাকি?

প্রশ্নটা করলো দেবু।

আমরা সবাই তখন অমল দার দিকে তাকিয়ে আছি। সবার মনেই একটা রোমাঞ্চকর ভাব ফুটে উঠেছে। কিন্তু অমল দাকে দেখলাম, নিঃশব্দে বিড়ি টানছে। উত্তেজিত ভাবটা আর ধরে রাখতে না পেরে বললাম,

– আরে কী হলো বলো, তোমাকে কী একটা ভুত খুব জ্বালাচ্ছে?

কিন্তু এবারও অমল দা কোনো কথা বললো না।

– আহা কী সব বিড়ি টানছো বলো না? এই নেও সিগারেট। এটা ধরাও। আর আমাদের গল্পটা বলো তো।

প্যাকেট থেকে একটা দামী সিগারেট বের করে সেটা অমল দার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললো বিল্টু। বিল্টু যে আজ সকালে শহরে গিয়েছিলো সে খবর আমরা পেয়েছি। আর বিল্টু শহরে গেছে অথচ এক প্যাকেট দামী সিগারেট আনবে না এটা বিশ্বাস করা মুশকিল। এবার অমল দা বিল্টুর হাত থেকে সিগারেটটা নিয়ে ধরালো। তারপর কষে একটা টান দিয়ে কুণ্ডলী আকারে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো,

– পটকা ঠিকই বলেছে, ভুতই বটে।

এই কথা শোনার পর আমাদের অবস্থা চরমে উঠে গেল। সবাই একসাথে বলে উঠলাম,

– ভুত?

– হ্যাঁ ভুত। তবে পুরোনো ভুত।

– সে আবার কেমন?

প্রশ্নটা করলো পটকা ।

– সে আছে একটা গল্প। কিন্তু তার আগে বল বিনিয়মে কী দিবি তোরা?

– বিনিময়?

সবাই অবাক হয়ে এক সাথে বলে উঠলাম। সেটা দেখে অমল দা একটু হাসলো। তারপর বললো,

– হুমম, যদি বিল্টু ওর সিগারেটের প্যাকেট থেকে আরও দুইখানা আমাকে দিতে রাজি হয় তবে গল্পটা তোদের শুনাবো।

কী আর করার। এবার সবাই মিলে বিল্টুকে রাজি করানো শুরু করলাম। প্রথমে রাজি না হলেও পরে সবার জোরাজুরিতে রাজি না হয়ে আর উপায় রইলো না। তার থেকেও বড় কথা হলো, বিল্টু রাজি হচ্ছে না দেখে পটকা তো বলেই বসলো,

– শোন বিল্টু, আজ যদি তোর জন্য আমাদের গল্প ফসকে যায় না, তাহলে ক্লাবে আসলে তোর ঠ্যাং ভেঙে দিবো এই বলে দিলাম।

কি আর করার শেষ পর্যন্ত বিল্টুকে রাজি হতেই হলো। এমনিতেই পেচো ওর উপর চটা, এখন যদি পটকাও চটে যায় তবে আর ক্লাবে কেন এই পাড়ায় থাকায় একটা ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাড়াবে । বলা তো যায় না কখনো কী করে বসে। পেচোটা ভারী রাগী গোছের ছেলে।

আরও দুইটা সিগারেট অমল দার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বিল্টু বললো,

– এই নেও। এবার শুরু করো তো দেখি।

দুই দুইটা সিগারেটের মায়া কী আর এত সহজে কাটতে চায়? বিল্টুর মুখেও একটা বিরক্তকর ভাব ফুটে উঠলো। আগের ধরানো সিগারেটটাতে শেষ একটা টান দিয়ে অমল দা বললো,

– শোন তবে…… এটা অবশ্য গল্প নয়। আমার সাথেই ঘটে যাওয়া কাহিনী। তোরা তো জানতিই যে আমি এক সময় স্কুলে মাষ্টারী করেছি। তো একবার গেলাম এদোপুর গ্রামে। নাম যেমন এদো গ্রামটাও ঠিক তেমনই। সব ঘর বাড়ি ছনের তৈরি। দশ গ্রাম মিলে ঐ একটাই স্কুল। ছেলে-মেয়েরা পায়ে হেটেই আসতো। যদিও ছেলে মেয়ে বললাম, কিন্তু মেয়ে নেই বললেই চলে। আর ছাত্রই তো নেই। তিন চার জন নিয়ে কোনো মতে স্কুলটা চালু রাখা আরকি। স্কুলটা গ্রামের শেষ প্রান্তে একটা বিরাট বট গাছের নিচে। টুল-বেঞ্চের বালাই নেই। মাটিতেই বসে বসে পাঠদান হতো আরকি।

– আহা অমল দা, আসল ঘটনায় আসো তো।

অমল দার কথার মাঝখানে হঠাৎ করেই বলে উঠলো পেচো। আর বলার একটু পর পরই একটা ঠাস করে শব্দ হলো। দেখলাম পেচো গালে দুই হাত দিয়ে বসে আছে। বুঝলাম এ কাজ নিশ্চয় পটকার। মনে মনে একটু হাসিই পেল। কিন্তু এই সময় হাসা যাবে না। বলা তো যায় না, যদি অমল দা রেগে মেগে চলে যায়।

– চুপ চাপ গল্প শোন। বলো অমল দা, তারপর কী হলো?

বললো, পটকা।

– তো যাই হোক, এক বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টি হলো। সাথে ঝড়, গ্রামের অনেকের বাড়ির ছাল উড়ে গেল। কারও কারও পুরো বাড়িই। আর তার সাথে স্কুলটাও গেল। এমনিতেই ছাত্র হয় না, তার উপর এখন স্কুলের ঘরই নেই। কি করবো ভাবছি। গ্রামের লোকজনেরও অবস্থা খারাপ। কে দিবে টাকা? সবারই একই অবস্থা। এবার বুঝি স্কুলটা আর চলে না। কিন্তু না, কয়েকদিন পরই কয়েকটা ছেলে আসলো। দিনে নয়, রাতে। বয়স তোদের মতই। এসেই বললো,

– মাষ্টার মশাই, স্কুলটা আমরা ঠিক করতে চাই। তবে হ্যাঁ তার জন্য আপনাকে কথা দিতে হবে যে আমাদের সবাইকে আপনি পড়াবেন।

আমার কাজই তো পড়ানো। তাহলে কথা কেন দিতে হবে? তবুও স্কুলটা যেহেতু ওরা ঠিক করবে তাই দিলাম কথা। আর যাই হোক, তবুও তো স্কুলটা চালু হবে।

ওরা কিন্তু ওদের কথা রাখলো। কয়েক রাতের মধ্যেই সব কিছু ঠিক ঠাক করে চলে গেল। রাতে কাজ করার উদ্দেশ্য একটাই, কেউ যেন না জানতে পারে। আমিও এই বিষয়ে আর কোনো কথা বলিনি। যাওয়ার সময় বললো,

– এখন আমরা যাচ্ছি। কয়েকদিন পর আবার আসবো।

– দিনে?

– না রাতে। দিনে আমরা কাজ করি। তাই সময় পাই না।

এইবার বুঝলাম যে কেন কথা দিতে বলেছিলো। কী আর করার, কথা যখন দিয়েছি, তখন তো আর না করা যায় না।

গ্রামের লোকজন ভাবলো হয়তো আমিই স্কুলটা আবার ঠিক ঠাক করেছি। এবার ছাত্র আরও কিছু বাড়লো। দিব্যি চলছিলো আবার। ঐ যে রাতের ছাত্রগুলোর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। এক দিন রাতে খাবার খেয়ে শুতে যাবো এমন সময় দরজায় টোকার শব্দ। এত রাতে কে আসলো ভাবতে ভাবতে দরজাটা খুললাম। আর খুলেই দেখি সেই চার পাঁচ জন দাড়িয়ে আছে। সবার কাঁধেই একটা করে ব্যাগ ঝুলানো। বুঝলাম ওরা পড়তে এসেছে।

– এত দিন পর যে?

– আর বলবেন না মাষ্টার মশাই, সবার জন্য বই সংগ্রহ করতে দেরি হয়ে গেল।

– কিন্তু রাতে পড়বে কীভাবে? আলো তো নেই।

– সে ব্যবস্থাও আমরা করে রেখেছি। আপনি চলুন।

কি আর করার। গেলাম ওদের পিছন পিছন। আমার বাড়ি থেকে স্কুলটা একটু দুরে। একটা মাঠ পেরিয়ে যেতে হয়। স্কুলের ঘরের কাছাকাছি যেতেই শুনতে পেলাম ভেতরে অনেক লোকের কথার শব্দ। ভেতরে একটা আলোও জ্বলছে বলে মনে হলো। গিয়ে দেখি কম হলেও জনা পঞ্চাশেক ছাত্র বসে আছে মাটিতে। আর মাথার উপর একটা আলো জ্বলছে। আলোটা যে কিসের সেটা বুঝতে পারলাম না। কারণ এর আগে আমি এমন আলো দেখিনি। পড়ানো শুরু করে দিলাম। তখনও ভাবিনি যে আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে।

এইটুকু বলেই অমল দা থামলো। তারপর আরও একটা সিগারেট ধরিয়ে টানতে শুরু করলো। গল্পের তখন টান টান অবস্থা। কী হয় না হয়। ভাবতেই শরীরে একটা রোমাঞ্চ ভাব ফুটে উঠছে। কিন্তু অমল দার সেদিকে কোনো লক্ষ্যই নেই। সে আপন মনে সিগারেট টানছে।

– আহ, অমল দা, থামলে কেন? তারপর কী হলো বলো।

উত্তেজিত হয়ে কথাটা বললাম আমি।

শুনে অমল দা বললো,

– আহ, এত তাড়া কিসের? সিগারেটটাতে একটু আরাম করে টান দিতে দিবি না নাকি? শোন, সিগারেটে মন না দিলে নেশাটা ঠিক জমে না বুঝলি।

– সে না পরে হবে, তুমি বলো তো।

বললো বিল্টু।

– তোদের জ্বালায় দেখি….
এমন ভাবেই কয়েকদিন কেটে গেল। ওরা রাতে আসে পড়ে আবার চলে যায়। কোথায় থেকে আসে আর কোথায় যায় সেটা প্রশ্ন করলো কোনো উত্তর দেয় না। এইবার, আমার কেমন জানি সন্দেহ হলো। ভাবলাম ওরা যখন চলে যাবে, তখন ওদের পিছন পিছন যাবো। তারপর দেখবো আসলে ওরা কোন গ্রামের। কিন্তু সত্যি বলতে কী সাহস হচ্ছিলো না। এখন আর রাতে বাড়িতে যাওয়া হয় না। স্কুলের ঘরেই থাকি। দিনের বেলা বাড়িতে যাই শুধু খাওয়া দাওয়া করতে। গ্রামের সবাই জানে যে আমি রাতে স্কুলের ঘরে থাকি তাই আলো জ্বলে। কেউ কোনো সন্দেহ করলো না। ও হ্যাঁ, একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। ওরা বলেছিলো যে, কেউ যেন এইসব না জানে। জানলেই নাকি বিপদ। বিপদটা ঠিক কিসের সেটা বুঝতে পারিনি তখন। মাস খানেক কেটে গেল। মনের ভেতর তখন কৌতুহল চরমে পৌছে গেছে। এর রহস্য আমাকে বের করতেই হবে।

একদিন পড়ানো শেষ করে ওরা চলে গেল। আমিও অন্ধকারে ওদের পিছু নিলাম। দেখলাম ওরা নদীর দিকে যাচ্ছে। চাঁদের আলোয় তখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে পথ-ঘাট। কিন্তু ওরা আমাকে দেখতে পারলো না। নদীর দিকটায় বেশ কিছু বড় বড় গাছ। তো সেই গাছের আড়ালে আড়ালে-আড়ালে চলতে শুরু করলাম। ওরা নদীর পাড়ে গিয়ে দাড়ালো। ভাবলাম ওপারে যে গ্রামটা আছে সবাই বুঝি সেখান থেকেই আসে। কিন্তু ঘাটে কোনো নৌকা দেখলাম না। পার হবে কীভাবে? কিন্তু তারপরই যে দৃশ্যটা দেখলাম তাতে আমার সারা শরীরে কাটা দিয়ে উঠলো। নৌকা নয়, বরং সবাই হেটে হেটে নদী পার হয়ে যাচ্ছে। নদীতে তখন অনেক পানি, কিন্তু কারোরই গা ভিজলো। তাড়াতাড়ি চলে আসলাম স্কুলের ঘরে। বুঝতে আর বাকি রইলো না যে ওরা কারা। কেন ওরা দিনে আসে না। কারণ ভুতেরা দিনে বের হতে পারে না।

– ওরা ভুত ছিলো?

ভয় ভয় কণ্ঠে প্রশ্ন করলো পেচো। পেচো এতক্ষণ চুপ করে ছিলো। এবার আর চুপ করে না থাকতে পেরে প্রশ্নটা করেই বসলো। প্রশ্নটা শুনে অমল দা এক প্রকার খেকিয়েই উঠলো। তারপর বললো,

– তো? কোনো মানুষের সাধ্য এটা? তুই পারবি হেটে হেটে নদী পার হতে?

অন্য সময় হলে হয়তো ক্লাব ঘরে হাসির রোল পড়ে যেত। কারণ পেচো হেঁটে তো দুরের কথা সাঁতার কেটেও নদী পার হতে পারবে না। পারবেই বা কী করে, পেচো তো সাঁতারই জানে না। কিন্তু এখন কেউ হাসলো না। সবাই হা করে তাকিয়ে থাকলাম। আমাদের সামনে যে অমল দা বসে আছে, সে কী না ভুত পড়িয়েছে!! এই অমল দা তো সেই অমল দা, যাকে গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা অমলা বলে ডাকে। এই মানুষটা যে এত বড় কাজ করেছে, সেটা তো রাষ্ট্র হয়ে যাওয়া কথা।

-তারপর তারপর? তারপর কী হলো?

প্রশ্নটা অবশ্য আমিই করলাম। কারণ পরের ঘটনা শোনার জন্য আর দেরী সহ্য হচ্ছিলো না।

– তারপর আর কী, জানতে পারলাম ওরা মানুষ না ভুত। আগের মতই ওরা আসতো। আর আমি পড়াতাম।

– ওরা ভুত জেনেও তুমি পড়ালে? ভয় করলো না?

অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো দিপু। অবশ্য শুধু দিপুই না, আমরা সবাই বেশ অবাক হলাম।

– হ্যাঁ পড়ালাম। শোন, একজন মাষ্টারের কাছে সবাই ছাত্র বুঝলি? আর ভয় প্রথম প্রথম করতো, কিন্তু ওরা তো আমার কোনো ক্ষতি করছে না। তাই পরে ভয়টা কেটে গেছে।

– তারপর?

প্রশ্ন করলো পেচো।

– ওদের আরও দুই বছর পড়ালাম। একেবারে শিক্ষিত করে তবেই ওদের ছেড়েছি। ভেবে দেখলাম শিক্ষিত ভুত হলে আমাদেরই সুবিধে। ওরা বোঝে, আর যাই হোক কারো ক্ষতি বা ভয় দেখাতে হলেও মনের মধ্যে একটা দ্বিধা কাজ করে। তখন আর কাউকে ভয় দেখাতে পারে না, শিক্ষিত বলে কথা।

– তাহলে এখন কোন ভুত তোমাকে জ্বালাচ্ছে বললে না তো?

– সেখান থেকে চলে আসার পর আর কখনো যাইনি। কিন্তু ওদের মধ্যে একটা ভুত কেমন করে যেন আমার খোজ পেয়েছে। খুজতে খুজতে এখানে চলে এসেছে। ওর আবদার হলো, আমি যেন ওর ছেলেটাকে পড়াই।

এবার যেন আরও অবাক হওয়ার পালা। সবাই এক সাথে বলে উঠলাম,

– তোমাকে বললো এই কথা?

– হ্যাঁ, বললো।

-তুমি কী করবে ভেবেছো?

– তা এখনো ঠিক করিনি। তবে দেখি কী করা যায়। আচ্ছা আজ তাহলে উঠি রে। অনেক রাত তো হলো।

কথাটা বলতে বলতে আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাড়ালো অমল দা। আমরা তখনো অবাক হয়েই বসে আছি। ঘোর যেন কাটছেই না। চোখের সামনে যেন দৃশ্যগুলো ভেসে ভেসে উঠছে।

– আচ্ছা অমল দা, তোমাকে সেই স্কুলে বেতন দিতো কে? আর খাওয়া দাওয়া কোথায় করতে সেটা তো বললে না।

অমল দা এতক্ষণে দরজার কাছটায় গিয়ে দাড়িয়েছে। বিল্টুর কথায় পিছন ফিরে তাকালো। তারপর একটু হেসে বললো,

– কখনো শুনেছিস? গল্পের গরু ঘাস খায়?

তারপর হাসতে হাসতে চলে গেল। তার মানে এটা অমল দার গুল ছিলো? সবাই ভয়ে ভয়ে বিল্টুর দিকে তাকালাম। বেচারার তিন তিনটা সিগারেট শেষ করেছে অমল দা। বেশ কিছুক্ষণ ক্লাব ঘরটা স্তদ্ধ হয়ে রইলো কারো মুখে কোনো কথা নেই। হঠাৎ করেই কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই টাস করে একটা শব্দ হলো। দেখলাম, পটকা গালে হাত দিয়ে বসে আছে। বিল্টু তখনও রাগের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। অমল দা কে সিগারেট না দিলে সেই তো বিল্টুর ঠ্যাং ভাঙতে চেয়েছিলো।