ফাজিল মেয়ে

খালতো বোনের বিয়ে আজ।সবাই এক হয়েছি অনেক মজা করলাম ধীরে ধীরে খালাতো বোন নিজের পরিবার এর থেকে বিদায় নিলো অনেক কান্না করলো।জানিনা মেয়েরা বিয়ের সময় এতো কান্না করে কেন।
বিয়েটা হয়ে গেলো পরেরদিন দুলাভাই এবং আপুকে নিয়ে আসার পালা।রওনা হলাম আনার জন্য।ততোক্ষনে পরিচয়টা দিয়ে দেই আমি সোহান বাবা মায়ের এক মাত্র সন্তান।ভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হয়ে পড়া শুরু করেছি এখন।আর কিছু জানার দরকার নেই।
অবশেষে পৌছে গেলাম বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছে বাড়িটা।চারিদিকে তাকাতে তাকাতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ একজনের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম।ধাক্কাটা অনেক জোড়েই লাগছে।
উঠে দাড়িয়েছি আমি ভাবলাম কোনো খুটির সাথে ধাক্কা খেয়েছি এখন দেখি একটা মেয়ের সাথে খেয়েছি।ধাক্কাটা এমন ভাবে খেয়েছি যে চোখে সরষে ফুল দেখতাছি।চোখটা ভালো করে মুছে তাকিয়ে দেখে আমি অবাক।
-কোন শয়তান ছেলেরে আমায় ধাক্কা মারলো। ইসস একটা মেয়েকে এভাবে কেউ ধাক্কা দেয়??কোমড় টাই ভেঙ্গে গিয়েছে।(মুখে রাগের ছাপ)
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে সেও অবাক।
-শয়তান বাদর ছেলে তুই এখানে??(অনেক রেগে গিয়ে)
-শয়তানি বান্দরিনি মেয়ে তুই এখানে কি করছিস??
আসলে মেয়েটাকে আগে থেকে চিনি।আসল ঘটনা টা বলি চলে যাই ফ্লাসব্যাক এ,,,,,
বাসে বসে ভার্সিটিতে যাচ্ছি।দুই সিট দখল করে নিয়ে বসে আছি।একটা মেয়ে এসে আমায় বললো ভাইয়া একটা ছিট ছেড়ে বসুন আমিও বসবো।মাথা এমনি ঠিক ছিলো না ভাইয়া বলায় মাথা হয়ে গেল গরম।সালার এমনি কপালে গার্লফ্রেন্ড জোটে না আরো সবাই ভাইয়া বলে ডাকে মনে হয় নিজের ভাই।
আমি শুনেও না শোনার ভান করে বসে রইলাম মেয়েটা আবার বললো ছিটটা ছেড়ে দিতে আমি এবার বললাম আমি ছিট ছাড়বো না আপনি দাড়িয়ে থাকেন।
আমার কথা শুনে এবার মেয়েটা রেগে গেলো।
-বাস কি আপনার নাকি যে ছিট ছাড়বেন না??
-হুমম আমার আমি কিনেছি।আপনার কোনো প্রবলেম??
-তোদের মতো বদমাস ছেলেদের জন্য রাস্তা ঘাটের আজ এই অবস্থা।
তুই তুকারি শুনে মাথা আরো হ্যাং হয়ে গেলো।মেয়েটার গালে ঠাশশশশশ করে একটা চড় মেরে দিলাম।মেয়েটা চড় খেয়ে দেখি রেগে আগুন বাসের সবাই আমাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।
-তুই আমার গায়ে হাত তুললি জানিস আমি তোর কি হাল করতে পারি??
-যা পারিস কর আমার কিছুই হবে না।
আমি শুধু মনে মনে ভাবছি যে চাপা মারছে ভাবছে চাপা দিয়ে আমায় দমিয়ে রাখবে জানেনা তো আর আমিও কম না।আমাদের ঝগড়া দেখে কন্টাক্টার চলে আসলো।
-এখানে কি হয়েছে আর আপনারা ঝগড়া করছেন কেন??
-দেখুন না উনি দুটো সিট নিয়ে বসে আছেন আর একটা ছিঠ ছেড়ে দিতে বলছি তাই দিচ্ছে না।
-এই আপনি ওনাকে একটা ছিট দিন বসতে।
আমি জানি এমন হবে তাই কন্টাক্টারকে বললাম আমি দু সিটের ভাড়া দিবো।আরো বললাম আমার পায়ের সমস্যা পা গুছিয়ে এক জায়গায় রাখতে পারছি না তাই দু সিট নিবো।এটা শুনে কন্টাকৃটার আর কিছু বললো না মেয়েটাও দেখি এবার একটু চুপ হয়ে গিয়েছে।
হয়তো আমার পায়ের অবস্থা খারাপ এর কথা শুনে।আমি মনে মনে ভাবছি যাক প্লান কাজ করেছে আমি মনে মনে শুধু হাসছি কারন এমনি এমনি আমার সাথে ঝগড়াটা করে ভাব নেওয়ার নিলো কিন্তু অবশেষে পারলো না।
মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি মুখে টেনশনের ছাপ আমিও আমার মুখে এমন ভাব আনলাম যেন মনে হয় আমার পায়ে সত্যি সমস্যা আছে।একটু পরে দেখি মেয়েটা আমায় ডাক দিয়ে সরি বললো।আমিও বললাম এরপর থেকে কারন যেনে ঝগড়া করবেন।
ভার্সিটির সামনে আসার পর বাস দাড়িয়ে যায়।আমি নামলাম খুড়িয়ে খুড়িয়ে মেয়েটাও নামলো দেখলাম আমাদের ভার্সিটিরই স্টুডেন্ট।মেয়েটা আমায় ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু সব ভেস্তে গেলো যখন আমার বন্ধু মিদুল।
-একিরে তুই এমন করে হাঠছিস কেন তোর তো পা ঠিক ই আছে??
কথাটা শুনে পাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা আবার রেগে ভয়ংকর রুপ ধারন করেছে আমি তা দেখে এক দৌড়ে নেই।
এই ছিলো ঘটনা এখন বর্তমানে আসা যাক।
আমি বান্দরিনি বলতেই আমায় তাড়া করলো আমি আবার দৌড় শালার জীবনে আর কতো দৌড়ানি খাবো কুত্তার দৌড়ানি পর্যন্ত খেয়েছি আর এখন কুত্তির দৌড়ানি খাচ্ছি।কোনো মতে পালিয়ে বেচেছি।
একটু পর আপুর কাছে গেলাম।গিয়ে দেখি শয়তান মেয়েটা সেখানেই আপুর কাছে বসে আছে।আমায় দেখে আপুর কানে কানে কি যেন বললো আমি বুঝতে পারলাম না।আমি আপুর কাছে গিয়ে বসলাম।
-কেমন আছিস আপু??
-ভালো আছি তুই??
-আমিও ভালো।ওই মেয়েটা কে??
-আমার ননদ।কেন কি হয়েছে??
-কিছু হয়নি।
একটু পর মেয়েটা এলো আমায় দেখে দুষ্টামির হাসি দিলো বুঝলাম না কিছুই হাতে দেখলাম সরবত।
-এই নিন খেয়ে নিন কিছু খাননি হয়তো??
মেয়েটা এতো করে সাধছে অবশ্য পিপিসাও লেগেছে কিছু না বলে খেয়েই নিলাম।কিন্তু খাওয়ার একটু পরেই বুঝতে পারলাম আসল রহস্য।পেটের মধ্যে বিশ্বযুদ্ধ লেগে গেলো।কি করবো আপুর থেকে তাড়াতাড়ি করে বাথরুম কোনদিকে তা শুনে দৌড় দিলাম।একটু পর বেড় হয়েছি আবার পেটে সমস্যা আবার দৌড় এভাবে করতে করতে ১৮ বার গেলাম আমি পুরোই শেষ বার হয়ে দেখি,,,,,,

কিন্তু খাওয়ার একটু পরেই বুঝতে পারলাম আসল রহস্য।পেটের মধ্যে বিশ্বযুদ্ধ লেগে গেলো।কি করবো আপুর থেকে তাড়াতাড়ি করে বাথরুম কোনদিকে তা শুনে দৌড় দিলাম।একটু পর বেড় হয়েছি আবার পেটে সমস্যা আবার দৌড় এভাবে করতে করতে ১৮ বার গেলাম আমি পুরোই শেষ বার হয়ে দেখি মেয়েটা দাত কেলিয়ে হাসছে।
-কি কেমন লাগলো??
-কেমন যে লাগলো পরেই টের পাবেন যাস্ট একটু অপেক্ষা করেন ম্যাডাম।
এটা বলে আমি অন্যজায়গায় চলে গেলাম।আপুর সাথে একটু দেখা করা দরকার কেননা আপু এই বিষয়ে খুব ভালো সাজেশন দিতে পারে আমার।আপুর সাথে একদম ফ্রেন্ডদের মতো হয়ে চলি।আপু আর আমি একদম ফ্রি।
কোন মেয়ে যদি আমায় কোন কিছু বলে সব আপুর সাথে শেয়ার করি আপুও আমার সাথে সব শেয়ার করে কয়টা বন্ধু আছে বন্ধুরা কি কথা বলে সব।অবশ্য আপু আমায় খুব ভালো বুদ্ধি দেয় আপুকে খুজতে থাকি।খুজতে খুজতে একসময় পেয়েও যাই।
-আপু কি করিস??
-দেখতেই তো পাচ্ছিস।তোর এ অবস্থা কেন??
-আমার অবস্থা কি বলবো শেষ আমি।
-কেন রে??
-ওই মেয়েটা জান্নাত না কি যেন তুই বললি ও আমার এই অবস্থা করছে।
আমার কথা শুনে আপুও দাত কেলিয়ে হাসতে লাগলো।
-আপু তুই ও হাসছিস??এটা ঠিক হচ্ছে না আমায় একটা বুদ্ধি দেওয়া বাদ দিয়ে তুই হাসছিস।
-রাগ করিস না ভাই।আমি দেখছি কি করা যায়।
আপু এটা বলে ভাবতে লাগলো আমিও ভাবতে লাগলাম।একটু পর আপু বললো একটা বুদ্ধি পেয়েছি।
-কি বুদ্ধি??
-জান্নাতের সবচেয়ে প্রিয় যেটাকে সে সবথেকে বেশি ভালোবাসে একটা সুন্দর পুতুল আছে ওর ঘরে আমায় বলেছিলো।ওটা খুজে বের করে যদি তুই ওটা নষ্ট করতে পারিস তাই হবে।
এরকরম বুদ্ধি শুনে আমি তো মহাখুশি আপুকে অনেকগুলো ধন্যবাদ দিলাম।ভাইয়া ঢুকে আমাদের হাসি দেখে বললো কি হয়েছে আমরা কিছু বললাম না।আমি রুম থেকে বের হয়ে জান্নাত মানে ওই ফাজিল মেয়েটার রুম খুজতে লাগলাম।
অবশেষে পেয়ে গেলাম।দরজায় লিখা বিনা অনুমুতিতে নো এন্ট্রি।লেখাটা দেখে আমি তো হাসতে হাসতে শেষ কারন কোনো পাগলই এমন কাজ করবে।তো সেটা বড় কথা নয় আমি কি করতে এসেছি সেটাই বড়কথা।
ধাক্কা দিতেই দিকে আলিবাবার চল্লিস চোরের দরজার মতো খুলে গেলো আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম চুপিচুপি।একটু খুজলাম পেলাম না।
চারিদিকে খোজার পর দেখলাম একটা বক্স আমি প্রথমে বক্সটা ধরতে চাইলাম না কিন্তু হঠাৎ দেখলাম বক্সে লিখা টাচ করবেন না।তখন আমার সন্দেহ এলো যে কিছুতো গোলমাল আছে।
বক্সটা খুলতেই অবাক এ কি এ তো চমৎকার। যা খুজছি তাই।মেয়েরা যে গাধী হয় তা আজ পুরোদমে বিশ্বাস হয়ে গেলো বক্সে রেখে আবার লিখছে টাচ করা যাবে না তাহলে তো যে কারো সন্দেহ হবেই।
তো পুতুলটা নিলাম খুব ভালোই।এরপর হাত দিয়ে পুতুল এর এক চোখ দিলাম তুলে হয়ে গেলো কানা।তারপর কান দিলাম একটা ছিড়ে।তারপর পা এবং হাত একটা করে ছিড়ে সব জানালা দিয়ে ফেলে দিয়ে বাকি পুতুলটা রাখলাম।এখন পুতুলটাকে অনেক হ্যান্ডসাম লাগছে।
এটা বলে শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে বের হয়ে গেলাম।একটু পর সবাই রেডি হচ্ছে আপুর নিয়ে যাবার পালা আমি শুধু অপেক্ষা করছি কখন যাবে।অপেক্ষার অবশান ঘটিয়ে জান্নাত রুমে গেলো আর আমি এইবার অপেক্ষা করছি বোমটা কখন ফাটবে।হঠাৎ একটা জোড়ে চিৎকার হলো।
জান্নাত দৌড়ে বের হয়ে সোজা আমার দিকে,,,,,,
[বিঃদ্রঃআমি একটু অসুস্থ তাই বেশি লিখতে পারিনি টাইপিং করতে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো তবুও অনেক অনেক কষ্টে লিখতেছি আপনাদের জন্যে ]

একটু পর সবাই রেডি হচ্ছে আপুর নিয়ে যাবার পালা আমি শুধু অপেক্ষা করছি কখন যাবে।অপেক্ষার অবশান ঘটিয়ে জান্নাত রুমে গেলো আর আমি এইবার অপেক্ষা করছি বোমটা কখন ফাটবে।হঠাৎ একটা জোড়ে চিৎকার হলো।
জান্নাত দৌড়ে বের হয়ে সোজা আমার দিকে।আমার কাছে এসেই দেখতে পেলাম চোখ মুখ লাল হয়ে আছে আর সাপের মতো ফসফস করছে যেন আমায় চিবিয়ে এখন খেয়ে ফেলবে। আমি ওর অবস্থা দেখে মিটমিট করে হাসছি।
আমায় মারার জন্য হাত তুলেছে আমি চোখ বন্ধ করে ফেলেছি।কিন্তু দেখি গালে মারার কোনো অবস্থাই দেখি না।ভয়ে ভয়ে চোখ খুলে দেখি একি কোথায় গেল??
খুজতে লাগলাম জান্নাতকে একসময় পেয়ে গেলাম ওর রুমেই কিন্তু ওকে দেখে মন খারাপ হয়ে গেলো কারন ও কান্না করছে।আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গিয়েছে।আমি ওর কাছে গেলাম রাগ করে মুখ ঘুরিয়ে নিলো আমি কান ধরে সরি বললাম।
এবার মনে হয় একটু কাজ হলো। আমি চোখের জ্বল মুছতে বললাম ও মুছে নিলো।
-রেডি হয়ে নাও??
-আমি যাবো না।
-চলো বলছি আপু বলছে যেতে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
ও যাবে শুনে একটু ভালো লাগলো কিন্তু আবার শুনলাম এখন নাকি যাওয়া হবে না পরে যেতে হবে।আমি জান্নাত এর রুম থেকে বের হওয়ার পর আপু আমায় কথাটি বললো।কথাটা শুনে একটু খুশিই হলাম কেননা এই সুযোগে একটা কাজ করা যাবে।
আমি বের হয়ে চলে গেলাম মার্কেটে।পুরো মার্কেট ঘুরলাম কিন্তু কোথাও ওই গোলাপি রঙ এর পুতুল টা পেলাম না।মনটা খারাপ হয়ে গেলো আরো ভেবেছিলাম জান্নাত দেখলে খুশি হবে।মন খারাপ করে আসছিলাম হঠাৎ নজল পরলো একটা পুতুল এর উপর।
আমি দেখে খুশি হলাম চলে গেলাম দোকানটায়।দেখি একদম ওরকম পুতুল কিন্তু এইটা অনেক সুন্দর দেখতে ওটার চেয়েও।আমি দোকানদারকে বললাম দোকানদার বললো আপনি চাইলে আরো দেখতে পারেন।এটা বলে আরো বের করলো যেগুলা এখন সেমটু সেম জান্নাতের পুতুল কিন্তু কালার টা ভিন্ন।
-আচ্ছা এগুলা দেখতে ওই গোলাপিটার চেয়ে একটু রকম কেন??
-ডিজাইন এক হলেও ভিন্ন আর ওটার দাম অনেক বেশি।
আমি আর কিছু ভাবলাম না গোলাপিটাই নিয়ে মনের সুখে আবার বাসায় ফিরলাম।চুপিচুপি সোজা জান্নাতের রুমে ঢুকলাম।ঢুকে দেখি জান্নাত নেই হয়তো বাইরে গিয়েছে।আমি সুন্দর করে পুতুলটা বিছানার উপর রেখে একটা কাগজে লিখলাম জান্নাত আমায় মাফ করে দিও।
এটা লিখে আমি বাইরে চলে আসলাম।বাইরে এসে ভালো লাগছিলো না ভাবলাম আপুর কাছে গিয়ে গল্প করি।আপুর কাছে গিয়ে আপুর সাথে গল্প করছি।হঠাৎ জান্নাত খুশিতে লাফাইতে লাফাইতে আসতে আসতে আমায় এসে জড়িয়ে ধরে অনেক গুলা ধন্যবাদ একবারে দিয়ে দিলো।
এতো খুশি হয়ে গিয়েছে যে ভুলেই গিয়েছে আপুও আছে।আমি চুপ করে আছি।একটু পরে জান্নাতের হুশ ফিরলো যে আপুর সামনে আমায় জড়িয়ে ধরেছিলো।লজ্জা পেয়ে আমায় ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে নিজের রুমে চলো গেলো আর আমি চুপ করে বসে আছি আর চোখে দেখছি আপু মিটিমিটি হাসছে।
-কিরে ভাই এগুলা কি দেখি??
-নারে আপু কিছুনা বিশ্বাস কর।
-যে মেয়ে তোরে একটু আগ পর্যন্ত ও দু চোখে দেখতে পারতো না এখন সেই এসে তোরে জড়িয়ে ধরলো কি চলছে বল??
-আরে না মেয়েটা কাদছিলো ওর পুতুল কিনে এনে দিয়েছি সেই খুশিতে হয়তো এরকম করছে আচ্ছা বাদ দে রেডি হ চল যেতে হবে।
-হুমম যা তুই ও রেডি হ।
এরপর আমি গিয়ে রেডি হলাম।কি জানি মেয়েদের রেডি হতে এতো টাইম লাগে কেন।আর লাগবে নাই বা কেন ময়দা তো আর কম মাখে না।
অবশেষে সবাই রেডি জান্নাত ও রেডি।ওকে দেখে আমি একদম হা হয়ে গিয়েছি চোখটা ভালো করে মুছে আবার ওর দিকে তাকালাম আমঅর সামনে একদম পরীর মতো করে সেজে দাড়িয়ে আছে।আমি চোখ ফেরাতে পারছি না।
আপুর ধাক্কায় আমার হুশ ফিরলো আমি আর সেদিকে না তাকিয়ে চললাম গাড়ির দিকে।সবাই গাড়িতে উঠলো কিন্তু আমার একটা কাজ ছিলো তাই বললাম চলে যেতে।জান্নাতদের গাড়ি আগেই চলে গিয়েছে আমি আপুর সাথে যেতে চেয়েছিলাম তাই পরে যাওয়া আমার।
সবাই চলে গেলো আমি আলাদা গিয়ে কাজটা করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।অবশেষে বাসায় পৌছাতেই দেখি জান্নাতরা সবাই বাইরে।আমায় দেখে জান্নাত আমার কাছে এসে আমার হাত ধরে অন্য জায়গায় নিয়ে গেলো।
এরপরে যা ঘটলো আমি তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না কেননা জান্নাত আমার সামনে হাটু গেড়ে হাতে একটা ফুল নিয়ে,,,,,,,

অবশেষে বাসায় পৌছাতেই দেখি জান্নাতরা সবাই বাইরে।আমায় দেখে জান্নাত আমার কাছে এসে আমার হাত ধরে অন্য জায়গায় নিয়ে গেলো।
এরপরে যা ঘটলো আমি তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না কেননা জান্নাত আমার সামনে হাটু গেড়ে হাতে একটা ফুল নিয়ে আছে।
সোহান জানিনা তুমি কেমন ভাবছো কিন্তু তোমার সাথে ঝগড়া করতে করতে কখন যে ভালোবেসে ফেলেছি আমি নিজেই বুঝিনি।তুমি যখন একটু কাছে থাকোনা আমার হৃদয় ছটফট করে তোমায় একটু দেখার জন্য।আজ যখন ছিলে না আমার কেমন যেন ভিতরটা পুরে যাচ্ছিলো।
কিন্তু তোমাকে দেখার পর আবার ঠিক হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু পারলাম না তোমায় একবার ভালোবাসি না বলে থাকতে।প্লিজ সোহান আমি তোমাকে নিয়ে বাচতে চাই প্লিজ আমায় ফিরিয়ে দিও না।
আমি কথা গুলো শুনে হা হয়ে দাড়িয়ে আছি। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।আপনারা কে কোথায় আছেন একটু বিশ খান আমি মরে যাই।
আমার মনে হচ্ছে মেয়েটার মাথায় টার ২,১ টা তার ছিড়ে গিয়েছে।
-খুব সুন্দর হয়েছে কথাগুলো যে কোনো ছেলে শুনলেই পাগল হয়ে যাবে।দারুন হয়েছে এক্টিং টা পছন্দ হয়েছে।
-দেখতে হবে না কে করেছে এগুলা??
-আচ্ছা আমার সামনে কেন বললে??
-টেস্ট করলাম দেখলাম কেমন পারি।
-তো ভালোই তো পারলা নোবেল দেওয়া উচিত ছিলো কারন ইমোশোনাল ও হয়ে পড়েছিলি।
-ধন্যবাদ।
এটা বলে চলে আসছিলাম জান্নাত পিছন থেকে আমার শার্টের কলার ধরে টান দিলো।আমি থেমে যেতেই আমার গালে ঠাশশশশশ করে একটা চড় মেরে দিলো।
-আউউ কি ব্যাথা।
ব্যাথাটা অনেক জোড়েই লাগলো মেয়েটার গায়ের শক্তি দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি।
-আরো ব্যাথা দিবো তোকে।কুত্তা বিলাই গরু ছাগল আমি কি তোকে এগুলা ডায়লগ দেওয়ার জন্য বলেছি।শালা তোকে এগুলা মন থেকেই বলছি।
-না তোমার সাথে আমি কথাই বলবো না আমায় গালি দিয়েছো তুমি আমি গেলাম।
-কুত্তা এক পা নরলে তোর ঠ্যাঙ আমি ভেঙ্গে ফেলে দিবো।
-আমি হাটবো কিভাবে??
-আমি কি জন্যে থাকবো??
-আমায় মারার জন্য।
-বেশি কথা না বলে ফুলটা নে।
-না নিবো না??
-না নিলে দেং লি করি।
আমি মনে মনে ভাবছি বিপদে পড়ে গেলাম বুকের ভিতর ঘূর্ণিঝড় উঠে গেছে।ঢোক গিলে কোনো মতে ফুলটা নিয়ে আমি বললাম আমিও ভালোবাসি তোমায়।জান্নাত খুশি হয়ে আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।আমি ছাড়তে বললাম কোনো মতেই ছাড়লো না।
এভাবে কয়েকদিন গেলো জান্নাত আমায় ছাড়া কিছু বোঝেনা আমিও জান্নাতকে ছাড়া কিছু বুঝিনা অনেক ভালোবাসে আমায় আমিও বাসি কিন্তু কেমন যেন লাগছে আমার।তাও প্রকাশ করছি না যতোদূর হচ্ছে হতে দিচ্ছি।
কয়েকদিন যাওয়ার পর জান্নাত আমায় কলেজে ডাকলো কি যেন কথা বলবে তাই।তো আমি সুন্দর করে সেজে ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম।ও আর ওর কয়েকটা বান্ধবি সাথে ছিলো।ওর বান্ধবিরা দেখে বলছি ইশশ দেখ ছেলেটা কতো কিউট।
আমি কিছু বলছিলাম না জান্নাতও দেখি হাসছে।
-তোরা কি বলিস না এই ক্ষ্যাত পোলা আবার কিউট??হাসাইলি।
জান্নাতের কথা শুনে চুপ হয়ে গেলাম।
-এগুলা কি বলো??
-ঠিকি বলি তোর মতো ক্ষ্যাত ছেলের সাথে কারো মানাবে না তোকে ছ্যাকা দেওয়ার জন্য সব প্লান আমার ভালোবাসার পুতুল ছিড়লো আমি যেটাকে বেশি ভালোবাসতাম আর তোর সাথে আমি নাটক করি এখন বুঝবি ভালোবাসার কি জ্বালা।
আমি চুপ করে থেকে জান্নাত এর গালে কষে একটা চর মেরে বললাম তুই কি ভাবছিস আমি তোর ফাদে পা দিবো??ওতো সহজ না।
-আমি তোর সব আগেই জেনেছিলাম কেননা তোর মতো মেয়ে আমার সামনে ওতো সহজে মাথা নত হবার নয়।আর শোন তাহলে কিভাবে জেনেছিলাম,,

আমি চুপ করে থেকে জান্নাত এর গালে কষে একটা চর মেরে বললাম তুই কি ভাবছিস আমি তোর ফাদে পা দিবো??ওতো সহজ না।
-আমি তোর সব আগেই জেনেছিলাম কেননা তোর মতো মেয়ে আমার সামনে ওতো সহজে মাথা নত হবার নয়।আর তুমি তো একটা ফাজিল ছাড়া কিছু না।আর শোন তাহলে কিভাবে জেনেছিলাম যেদিন আমায় প্রোপোজ করেছিলে সেইদিন,,,
জান্নাতকে খুজে খুজে শেষ হয়ে গেলাম তবুও জান্নাতকে পাচ্ছি না।
-ওই আপু জান্নাতকে দেখেছিস??
-না তো আর কি ব্যাপার ভাই দরদ উতলে উতলে পরছে।
-কিছুনা তুই তোরটা সামলা দেখ কই গেলো আমি মনে হয় একটু আগে কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখলাম।
-কি বললি??আজ ওর অবস্থা আমি ঠিক করবো।
আমি আপুর কথা শুনে খিলখিল করে হাসতে লাগলাম আপু চুপ করে দাড়িয়ে দেখলো।
-আরে আপু তুই কিছু ভাবিস না আমি এমনি বললাম।সকালে ভাইয়ার সাথে কথা বললাম দেখলাম অলরেডি তোর বসে চলে এসেছে তোকে ছাড়া কিছুই বোঝে না।
-এটাই হচ্ছে মেয়েদের পাওয়ার রে।
-হাহাহা ওই সব পাওয়ার অন্য জায়গায় হলেও আমার ক্ষেত্রে চলে না কারন এটা আমি অন্য কেউ না।যে কোনো মেয়ে আমায় একটুও বস করতে পারবে না উল্টে আমার কথা মানতেই সে শেষ হয়ে যাবে।
-গুড ভাই এই না হলি তুই আমার শিষ্য।
-জ্বি গুরু।তা এবার কি বলবেন ওই জান্নাত টা কোথায়।
-হুমম দেখ ওর রুমেই আছে।আর রেডি হয়ে নে তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
আমি আপুর কথা শুনে গেলাম জান্নাতের রুমে কিন্তু জান্নাত ছিলো না।মনটা খারাপ হয়ে গেলো ভাবলাম যেহেতু পাচ্ছি না তাই ছাদে যাই একটু।
তাই ছাদের দিকে রওনা হলাম।কিন্তু ছাদে যেতেই কারো কন্ঠের আওয়াজ শুনতে পেলাম।চুপিচুপি আড়ালে একটু কাছে যেতেই বুঝলাম এটা জান্নাতের কন্ঠ কিন্তু কি বলছে ও??
-নীলা আজকে আমায় সব থেকে বেশি কষ্ট দিছে ওই জোকারটা।
আমায় জোকার বলায় অনেক রাগ হচ্ছিলো কিন্তু চুপ করে থাকলাম।
-শোন ওকেই আমি কষ্ট দিবো অনেক কষ্ট ওই ক্ষ্যাত পোলা জানে না যে জান্নাত কি জিনিস।ওরে মিথ্যা ভালোবাসায় ফাসিয়ে দিবো তারপর কষ্ট পাবে বেচারা ইশশশ কি ভালো লাগবে তখন।
এদিকে কথাটা শুনে আমি হেসে গরাগরি খাচ্ছি কেননা আমায় আজ পর্যন্ত কেউ টুপি পড়াতে পারেনি আর আমিই সবাইকে পড়িয়েছি।আর জান্নাত কিনা আমায় পড়াবে।জান্নাত ঘুঘু দেখেছে কিন্তু ঘুঘুর ফাদ দেখে নাই।
আমি এটা শুনেই চলে আসলাম।আর মাথায় বুদ্ধি লাগাতে লাগলাম অপেক্ষা করো জান্নাত।
এখন বর্তমানে,,,,
আমার কথা গুলো শুনে জান্নাত চুপ করে রইলো কারো কিছু বলার মতো সাহস হচ্ছে না।আমি চলে আসবো এমন সময় বড় ভাই ডাক দিলো আমি তার সাথে গেলাম।
-সোহান একটা সমস্যা হয়েছে।
-কি সমস্যা ভাইয়া??
-আমাদের যে কাজ সে কাজে একজন বাধা দিচ্ছে।
-এটা কোনো কথা হলো ভাই??
-নাম বলেন তাই হবে আর জীবনেও পথের কাটা হবে না।
-আরে না মারতে হবে না ওরে ভালোভাবে বললেই হবে কারন ও তো মেয়ে।আর তুমি তো মেয়েদের গায়ে কখনো হাত তুলো না।
-তাহলে তো কেসটা অন্যরকম আচ্ছা কি হয়েছে একটু বলবেন??
-আমরা একটা গরীবকে হেল্প করার জন্য যাচ্ছিলাম তো হঠাৎ মেয়েটা আসলো এসে উল্টে আমাদের ভাবছে আমরা ওই গরীব লোকটাকে পাচার করার জন্য যাচ্ছি।
-এ কি কোনো কথা আপনারা শেষ মেষ পাচার কারী হয়ে গেলেন??
-আরে তা না মনে হয় মেয়েটা নতুন।
-আপনিই দেখে নিয়েন কেমন আমি বাসাই যাই আর দুদিন কলেজে আসবো না।
-কেন??
-আব্বুর সাথে কক্সবাজার যেতে হবে।
-আচ্ছা আসো আমি ততোক্ষণে ঠিক করে আসি যদি মেয়েটাকে পাই।
-আচ্ছা যান আর হা কক্সবাজার থেকে আসার পরে আমাদের কাজ কিছুটা সুবিধা হয়ে যাবে কারন টাকা পাবো তখন।আর আমার নাম কিন্তু কাউকে বলবেন না।
-আচ্ছা যাও তাহলে।
এরপর আমি কলেজ থেকে চলে গেলাম আর জান্নাতরা ওখানেই দাড়িয়ে আছে।
-জান্নাত তুই বাসায় যাবিনা??
-হুমম যাবো ক্লাস করি আগে কয়েকটা।
-তুই কি মন খারাপ করছিস ওর কথায়??
-আরে পাগল নাকি ওই ক্ষ্যাত ছেলের কথায় রাগ করবো কেন??
এর মধ্যে আলভি বড় ভাইটা ওদের কাছে যেতেই জান্নাত রেগে আগুন।
-একি পাচার কারী আপনি??
-জান্নাত তোর মাথা খারাপ??(পাশ থেকে নীলা বললো)
-কেন কি হয়েছে??
-ইনি পাচারকারী না ইনি সাহায্যকারী গরীবদের সাহায্য করার জন্য এদের একটা গ্যং আছে এবং সেই গ্যং এর লিডার খুব ভালো।আর শুনেছি সে নাকি আমাদের ক্লাসেই পড়ে কিন্তু নাম অজানা।
-ওও সরি ভাইয়া৷
-ইটস ওকে।
-আচ্ছা ভাইয়া আপনাদের লিডার এর নামটা বলবেন??আমার জানার অনেক আগ্রহ কে এই মানুষ জিনি এতো ভালো কাজ করছেন।
-সরি।
এটা বলেই ভাইয়াটা চলে যায়।আর জান্নাত ও কয়েকটা ক্লাস করেই বাসায় যায়।আমিও সেদিনি কক্সবাজার চলে যাই। জান্নাত বাসায় গিয়ে পরে যায় চিন্তায় তার নাম শোনা পর্যন্ত কিছুতেই সস্তি বোধ হচ্ছে না।কিন্তু সোহানের কথাও জান্নাতের এখন মনে পড়ছে কিছুতেই ভুলতে পারছে না।
তবে কি জান্নাত এবার প্রেমে পড়ে গেলো সত্যি সত্যি,,,,
এটা বলেই ভাইয়াটা চলে যায়।আর জান্নাত ও কয়েকটা ক্লাস করেই বাসায় যায়।আমিও সেদিনি কক্সবাজার চলে যাই। জান্নাত বাসায় গিয়ে পরে যায় চিন্তায় তার নাম শোনা পর্যন্ত কিছুতেই সস্তি বোধ হচ্ছে না।কিন্তু সোহানের কথাও জান্নাতের এখন মনে পড়ছে কিছুতেই ভুলতে পারছে না।
তবে কি জান্নাত এবার প্রেমে পড়ে গেলো সত্যি সত্যি।
-না না আমি এটা কি ভাবছি ওর প্রেমে আমি জীবনেও পড়বো না কিন্তু ওই ছেলেকে আমায় খুজতেই হবে যে কিনা সব গরীবদের সাহায্য করছে।
এসব ভাবতে ভাবতে জান্নাতের সময় চলে যাচ্ছে তবুও জান্নাতের মাথায় ঢুকছে না কে সেই ছেলে??
রাত হয়ে গিয়েছে জান্নাতের মাথায় দুইটা টেনশন ভর করে আছে।বেলকুনিতে সে এখানে ওখানে হাঠছে কিন্তু কিছুতেই তার মাথায় কিছু আসছে না।
পরেরদিন কলেজে যায় জান্নাতের শরীর খারাপ লাগছিলো তবুও কলেজে যায়।আজ কলেজে একটা পরীক্ষা হয়েছিলো তার রেজাল্ট দিবে।জান্মাত ঠিক জানে যে জান্নাত প্রথম হবে।সব কিছু নিয়ে কলেজে চলে যায় জান্নাত।
-এই জান্নাত এদিকে আয়।(নীলা ডাক দেয়)
-হুমম বল।
-কেমন আছিস??
-ভালোই তুই কেমন আছিস??
-ভালো না রে।
-কেন??
-ভুলে গেলি আজ রেজাল্ট দিবে।
-ভুলিনি।
-হুমম তা তো ভুলবানা কারন তুমি তো ভালো রেজাল্ট করো।
-হুমম পাম মারা বাদ দিয়ে চল ক্লাসে যাই।
-আজ তুই সেকেন্ড হবি আমি বদ দোয়া দিলাম।
-তুই তো জানিস তোর দোয়া কোনদিন লাগে না আজও লাগবে না দেখিস।
-হুমম কপাল আমার খারাপ তোর ভালো।
-আচ্ছা বাদ দে চল ক্লাসে যাই।
এরপর জান্নাতরা ক্লাসে যাই।ক্লাসে গিয়ে গল্প করতে থাকে হঠাৎ স্যার আসায় সবাই ঠিক হয়ে বসে।
-তো সববারের মতো এবারো প্রথম হয়েছে সোহান।আর দ্বিতীয় হয়েছে জান্নাত।
-কিন্তু সোহান কই??
পিছন থেকে কেউ একজন বললো সোহান আসে নাই স্যার কিছু বললো না শুধু বললো ঠিক আছে।
অন্যদিকে সোহান খুব ভালোই কাটাচ্ছে কিন্তু সোহানের খুব মনে পড়ছে জান্নাতের কথা কারন সোহান সত্যি সত্যি ভালোবেসেছিলো জান্নাতকে।মুখে হাজার বললেও মনে ছিলো তার ভিন্ন কথা জান্নাতকে প্রতি মূহুর্তে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলো কাজে মন দিতে পারছিলো না।
কিন্তু সোহানের কিছু করার যে নেই।কারন সে জানে জান্নাত তাকে ভালোবাসে না।সোহানের মাঝে মাঝে রাগ হচ্ছে আবার জান্নাতের কথা ভেবে ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছে।
বাইরে এসে জান্নাতরা সবাই অবাক এটা কিভাবে সম্ভব।
-জান্নাত তুই ভুল করেছিস ওকে ছেড়ে দিয়ে।ও অনেক ভালোবাসতো রে তোকে।
-চুপ ওর নাম নিবি না আমার সামনে।আমি বাসায় গেলাম থাক তোরা।
একথা বলে জান্নাত সোজা বাসায় চলে এসে একটু রেস্ট নিয়ে আপুর ওখানে যায়।
-আপু কেমন আছেন??
-এই তো ভালো।তুমি কেমন আছো??
-ভালোই।
-সোহান কেমন আছে??
-ভালোই আছে।
জান্নাত মিথ্যা বললো এটা আপু জেনে গিয়েছে।তবুও বললো কিছু হয়নও সবাই খেলুক।
এরপর আরোঅনেক কথা বলে বাসায় এলো আর সব কিছু সোহানের নামেই বলা হচ্ছিলো।জান্নাতের শুধু এখন সোহানের কথা মনে পড়ছে।রাত হয়ে গিয়েছে অথচ আজও ঘুম নেই।সোহানের কথা মাথায় ভর করে আছে।
সারা রাত এভাবেই কাটিয়ে দেয় জান্নাত সকালে ঘুম থেকে উঠে খুব ভালো করে সেজে কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলো।খুব সুন্দর করে সাজে কেননা জান্নাতের জন্য খুব ভালো লাগছে আজ। জান্নাতের মনে হচ্ছে সোহান আজ ফিরবে।
জান্নাত সুন্দর করে চুল খোলা রেখে কলেজে গিয়ে দেখে সোহান,,,,,,,

জান্নাত সুন্দর করে চুল খোলা রেখে কলেজে গিয়ে দেখে সোহান আরেকটা মেয়ের সাথে যাচ্ছে এবং সে আর কেউ না সে হলো নীলা।জান্নাতের মনের মধ্যে ঝড় উঠে যায়।জান্নাত সোহানের কাছে চলে যায়।
-একি সোহান তুমি কার সাথে ঘুরছো আর নীলা তোর লজ্জা করে না তুই কি করছিস বুঝে করছিস??
-কেন আমি তো বুঝেই করেছিস।
-সোহানকে ছাড় যা।
-না ছাড়বো না ওকে প্রোপোজ করছি ও এক্সেপ্ট করছে ব্যাস।
-সোহান ওকে ছাড়ো বলছি।
-না ছাড়বো না আর আপনি এখানে থাকেন।
একথা বলে সোহান নীলার সাথে হাত ধরে চলে যায় আর জান্নাত চুপচাপ বসে থাকে।জান্নাতের কিছু করার নেই কেননা ভুলটা সেই করেছে।
জান্নাত ক্লাসে গিয়ে বসে ক্লাস করতে থাকে কিন্গতু সেদিকে মন জান্নাতের নেই।রাগ করে বের হয়ে চলে আসে বাসায় যাওয়ার জন্য।
বাসায় যাচ্ছে আনমনে হাঠছে হঠাৎ জান্নাতের চোখ পড়ে ওই বড় ভাইটার দিকে।আরো অবাক হয় যখন দেখে বড় ভাইয়ের সাথে সোহান ও আছে।জান্নাতের বুঝতে বাকি থাকে না সোহান সেখানকার লিডার।
জান্নাত আরো আফসস করতে থাকে।কিন্তু নিরুপায় হয়ে যায়।বাসায় চলে যায় সেদিনের মতো।অন্যদিকে সোহানের মনটাও অন্যরকম হয়ে যায় বার বার জান্নাতের কথা মনে পড়ছিলো।
একটু কাজ করে সেও বাসায় চলে যায়।কিন্তু তবুও যেন চোখের সামনে ভাসছে জান্নাত।কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।সোহান আরো কঠোর হলো।যেভাবেই হক জান্নাতকে ভুলবেই।
পরেরদিন সোহান কলেজে গিয়ে অবাক।কেননা আজকে জান্নাত একটা ছেলের সাথে বসে হেসে কথা বলছে।এটা দেখে সোহানের রাগে গা জ্বলছিলো কিন্তু সোহান বাইরে থেকে বুঝতে না দিয়ে পাশ ফিরে চলে যায় না দেখার ভান করে।
সোহানের চলে যাওয়া দেখে জান্নাত উঠে সোহানের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।আজ সে সোহানকে বলবেই অনেক কাদিয়েছে আর না।একথা মনে মনে বলে জান্নাত সোহানের কাছে যায়।
-সোহান শোনো।
-কি শুনবো আমি??
-আমি তোমাকে ভালোবাসি।
-হাহাহাহা তোর এই মুখে না ভালোবাসার কথা মানায় না।
-আমায় প্লিজ আর কষ্ট দিও না আমি সহ্য করতে পারছি না।
-তুই ভুল করেছিস তুই বুঝবি আমার কাছে এসেছিস কেন??
-আমি তোমার পায়ে পড়ছি প্লিজ আমায় ফিরিয়ে দিও না সোহান।
এবার সোহানের একটু অন্যরকম লাগে।সোহানের সব রাগ চলে যায়।জান্নাতকে তুলে জড়িয়ে ধরে।জান্নাত সোহানের বুকে যেতে পেরে কান্না করে আরো শক্ত করে জড়িয়ে। এখন জান্নাত অনেক খুশি।সেদিনের মতো তারা দুজনে অনেক ঘুরে বাড়ি ফিরে যায়।
কয়েকদিন চলে যায় সোহান জান্নাতকে অনেকটা ভালোবাসে জান্নাতও সোহানকে অনেক ভালোবাসে।কিন্তু এখন সোহান একটু অবাক হয় কেননা মাঝে মাঝে জান্নাতকে ফোনে পেতে ওয়েটিং এ থাকতে হয়।
একদিন হঠাৎ সোহান দেখতে পায় জান্নাত একটা ছেলের হাত ধরে পার্কে বসে আছে।সোহান রেগে সেখানে গিয়ে জান্নাতকে ঠাশশশশ করে একটা চড় মারে।
-তোর মতো মেয়েদের মনে কখনো ভালোবাসা থাকে না।
-সেহান প্লিজ এটা মডার্ন যুগ এ যুগে এমন হয়।দু তিনটা বয় ফ্রেন্ড ছাড়া চলে না।
-তুই যে কিরকম আমি তা বুঝে গিয়েছি আর তুই আমার চোখের সামনে কখনো আসবি না।
এটা বলে চলে যায় সোহান আর জান্নাত তেমন কিছু না ভেবে বসে পড়ে আবার।জান্নাত ভাবছে সোহান তো সামনে আছেই আবার গিয়ে সরি টরি বলবো আবার তার হয়ে যাবো।এ নিয়ে আর মাথা ঘামায় না জান্নাত।যদিও কম ভালোবাসে সোহানকে কিন্তু একটু হলেও ভালোবাসা আছে।
সোহান কাজ করে বাসায় গিয়ে দেখে জান্নাত বসে আম্মুর সাথে কথা বলছে।সোহান প্রচুর রাগ উঠে যায়।
-আম্মু ও কি করছে??
-আমি ডেকেছি ওকে।
-ঠিক আছে।
সেহান এবার এমন কথা বলে যার কারনে জান্নাত আতকে উঠে,,,,,,,,

সোহান কাজ করে বাসায় গিয়ে
দেখে জান্নাত বসে আম্মুর সাথে
কথা বলছে।সোহানের প্রচুর রাগ
উঠে যায়।
-আম্মু ও কি করছে??
-আমি ডেকেছি ওকে।
-ঠিক আছে।
-আম্মু আমি একটা কথা বলবো।
-হুমম বল।
-আমি বিয়ে করবো।
সোহানের এমন কথা শুনে সোহানের
আম্মু অবাক হয় কিন্তু জান্নাত আতকে
ওঠে।
-কি বলিস বাবা??
-ঠিকি বলি তুমি না মেয়ে দেখতে
চেয়েছিলে।সোহান কথাটা জান্নাতের
দিকে তাকিয়ে বলে।
-আচ্ছা বাবা তোর জন্যই তো
তুই বলিস দেখতে হবে না তাই
দেখতাম না তুই একবার বলেছিস
তোর আব্বু ঠিক রাজি হয়ে যাবে।
-হুমম তাড়াতাড়ি করতে চাই।
একথা বলে সোহান নিজের রুমে
চলে যায় আর জান্নাত ওখানে বসে
কেদে দেয়।
-একি মা তুই কাদছিস কেন??
-না কিছুনা আন্টি এমনি।
জান্নাত আর সেখানে থাকতে পারে
না সেও বাসায় চলে গিয়ে তাড়াহুরা
করে রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিয়ে
বালিসে মুখ গুজে কাদতে থাকে।
জান্নাতের এমন করা দেখে সবাই
অবাক।দরজার কাছে গিয়ে জান্নাতকে
ডাকে কিন্তু জান্নাত একটু চপ করে
উত্তর দেয় কিছু হয়নি।
তখন সবাই চলে যায় আর জান্নাত
আবার বালিসে মুখ গুজে চিৎকার
করে কাদতে থাকে কিন্তু কিছু করার
নেই কারন এবার সে তার ভুলের
মাশুল দিতে চলেছে।জান্নাত মানতে
পারছে না সোহান আজ এমন কথা
বলবে।কিন্তু জান্নাত জানে সব কিছুর
জন্য দায়ী জান্নাত নিজে।
কেদে আর তার লাভ নেই সে বুঝতে
পেরে গিয়েছে।নিজের হাতে নিজের
ভালোবাসাকে একেবারে শেষ করে
দিয়েছে।তাই জান্নাত এবার ডিসিশন
নেয় সেও নিজেকে একেবারে শেষ
করে দিবে।টেবিলে গিয়ে বসে জান্নাত
একটা খাতা আর কলম হাতে নেয়।
চোখ দিয়ে অঝোড়ে জল পড়ছে।
তবুও জান্নাত পুরে ছাড়খার হয়ে
যাচ্ছে।জান্নাত একটা চিঠি লেখে
সোহানেরজন্য।এরপর ড্রয়ার থেকে
একটা চাকু বের করে।চোখের পানি
থামছে না।হাত কাপছে কিন্তু সে
আজ নিজেকেশেষ করে দিবেই।
এবার সাহস নিয়েহাতে চাকু ধরে
এক টান দিতেই হাতদিয়ে রক্ত পড়তে
থাকে আর জান্নাত জ্ঞান হারিয়ে পড়ে
যায়।এদিকে সোহানএর আপু
জান্নাতের খোজ নিতে জান্নাত এর
রুমের কাছে এসে দরজায় ধাক্কা
দেয় কয়েকবার কিন্তু দরজা খোলার
কোনো নাম নেই।সোহান এর আপুর
এবার সন্দেহ হয়।সে সোহানের
ভাইয়াকে ডাক দেয়।সোহান এর
ভাইয়া এলেসব বলে। সোহানের
ভাইয়া দরজায় অনেক লাথি মারার
পর দরজা ভেঙ্গে দুজনে ভেতরে গিয়ে
দেখে জান্নাত পড়ে আছে কিন্তু হাত
দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।সোহানের আপু
চিৎকারদিয়ে ওঠে।সবাই চলে আসলে
জান্নাতের মা জান্নাতকে দেখে সেও
চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
সবাই মিলে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে
যাবারব্যবস্থা করে।সোহানের আপু
চিঠিটা পড়ে সব বুঝতে পারে।তাই
সে সোহানের আম্মুকে ফোন করে
জানায় জান্নাতের খারাপ অবস্থা।
সোহানের আম্মু সোহানকে ডাকতে
যায়।এদিকে সোহান শুয়ে ভাবছে
সে জান্নাতের উপর যে জেদ দেখিয়েছে
সেটা পূরন করেই ছাড়বে।কিন্তু সোহানের
আম্মু হঠাৎ গিয়ে কথাটা বলায় সোহান
বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে।সোহানের
চোখে এবার জল চলে আসে।দ্রুত
তার আম্মুর সাথে হসপিটালে গিয়ে দেখে
সবাই বাইরে দাড়িয়ে।সবাই কান্নাকাটি
করছে সোহানের চোখের কোনেও জল
চলে এসেছে কিন্তু জেদের কারনে তা
বের হতে দিচ্ছে না।সোহান তার আপুর
কাছে যেতেই সোহানের হাতে একটা চিঠি
ধরিয়ে দেয়।সোহান সেটা নিয়ে পড়তে
থাকে।
-প্রিয় সোহান,
আমি হয়তো তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি
যার প্রতিদানে আমিও কষ্ট পাচ্ছি।কিন্তু
বিশ্বাস কর আমি তোমায় অনেক
ভালোবাসি হারাতে চাই না তোমায়
কখনো।জানিনা কেমন হয়ে গিয়েছিলাম
আমি।আমার ভাবতেই এখন অবাক
লাগছে আমি তোমায় অবহেলা করছি।
আজ অনেক আশা নিয়ে তোমার কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু জানতাম না তুমি
এভাবে আমায় নিরাশা করবে।যখন তুমি
বললে বিয়ে করবে তখন আমার মনে
হচ্ছিলো আমি আমার মাঝে নেই।বাম
পাশে চিনচিন করে উঠলো। কষ্ট সহ্য
করতে না পেরে চলে আসছিলাম কিন্তু
আমি আর চাইনা তোমার সুখের জীবনের
কাটা হয়ে থাকতে তাই চলে যাচ্ছি
চিরজীবনের জন্য।পারলে ক্ষমা করে
দিও।ভালো থেকো সবসময় দোয়া
করবো।শেষ কথাটা বললাম ভালোবাসি
তোমায় অনেক।
ইতি
তোমার ভালোবাসা
জান্নাত
সোহান চিঠিটা পড়ে কেদেই দেয় কিন্তু
সে একটা ডিসিশন নেয় আজ এর শেষ
করেই ছাড়বে।এর মধ্যে ডাক্টার বের হয়ে
বলে জান্নাত নাকি বিপদমুক্ত তবে একটু
দেরী করলেই নাকি বাচানো সম্ভব হতো
না।সবাই গেল জান্নাতের সাথে কথা বললো
এবং বের হয়েও আসলো কিন্তু সোহান
এবং তার আপু বাইরে দাড়িয়ে।জান্নাতের
আম্মু বের হয়ে এসে বললো জান্নাত নাকি
তাকে ডাকছে।সোহান ভিতরে গেলো
দেখতে পেলো জান্নাত চুপটি করে শুয়ে
আছে।সোহানকে দেখে কেদেই দিলো।
সোহান জান্নাতের পাশে গিয়ে বসলো
-সোহান আমি বাচতে চেয়েছিলাম না।
-চুপ একদম চুপ।তুমি কেন আমার
জন্য নিজের লাইফ শেষ করে দিতে
চাচ্ছিলে??
-কারন অনেক ভালোবাসি যে তোমায়।
-জান্নাত প্লিজ এসব এখন রাখো আর
আমার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছে
তুমিও একটা বিয়ে করে সুখে সংসার
করো তাই তো হয়।
-আমার একটা অনুরোধ রাখবে??
-হুমম বলো।
-তুমি এখান থেকে চলে যাও প্লিজ আর
আমি তোমার সামনে কখনো যাবো না।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
সোহান বের হয়ে আসে জান্নাত কাদতে
থাকে সোহান ফিরেও তাকায় না।
সোহানের আপু জান্নাতের কাছে গিয়ে
কথা বলতে থাকে আর সোহান একাই
বাসায় চলে যায়।তার আম্মু নাকি পড়ে
আসবে তাই একাই চলে যায়।সোহান
বাসায় গিয়ে কেমন যেন করতে থাকে
তার মন টিকছিলো না।কিন্তু সে বিয়ে
করে জান্নাতকে দেখিয়ে দিতে চায়।
একটু পর সোহানের আম্মু আসে।
-বাবা একটা ভালো খবর।
-কি??
-তোর জন্য মেয়ে দেখেছি খুব ভালো।
-আচ্ছা আমি রাজি তোমার পছন্দ মানে
আমার পছন্দ আমি আর কিছু দেখতে
চাই না ৬ দিন পরই যেন আমার বিয়ে
দিয়ে দেওয়া হয়।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
এখন সোহান কিছুটা নিশ্চিত হয়।
সোহান নিজের রুমে গিয়ে বিয়ের জন্য
প্রস্তুত হতে থাকে।দেখতে দেখতে
দিনগুলোপার হয়ে যেতে থাকে আপন
গতিতেসোহান একটা জিনিস লক্ষ্য
করে জান্নাতআর তার কাছেও আসছে
না কথাও বলছেনা।সোহানের মনে
পড়ে জান্নাত বলেছিলোআর আসবে না।
সোহানের অপেক্ষার শেষ হয়ে ৬ দিন চলে
যায়।আজ সোহানের বিয়ে।সোহানের
কেমন যেন লাগছে।সোহানের মন বলছে
কিছু হারিয়ে ফেলছে চিরজীবনের জন্য।
কিন্তু জেদ ধরে মনের সেই ব্যকুলতাটা
পার করে বিয়েতে যায়।অবশেষে সোহান
বিয়ে করে নিয়ে আসে।কিন্তু বিয়েটা হয়
কাজি অফিসে আর এটা নাকি আগেই বলা
হয়েছিলো।তাই কাজি অফিসেই বিয়েকরে।সোহানের আম্মু নতুন বউ বরন করে
নেয়।সোহান বাসর ঘরে ঢুকে দরজা
আটকে দেখেফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে
অনেক সুন্দর করে।ফুলের সুবাশ ছড়িয়ে
পড়েছে সব দিকেএই ঘরে থাকার কথা
ছিলো জান্নাতের কিন্তুতার পরিবর্তে অন্য
একজন।কিন্তু সোহানএসবের জন্য
জান্নাতকেই দায়ী করে।সেহান এবার
বিছানা
সোহান বাসর ঘরে ঢুকে দরজা
আটকে দেখেফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে
অনেক সুন্দর করে।ফুলের সুবাশ ছড়িয়ে
পড়েছে সব দিকেএই ঘরে থাকার কথা
ছিলো জান্নাতের কিন্তুতার পরিবর্তে অন্য
একজন।কিন্তু সোহানএসবের জন্য
সোহান এবার
বিছানার কাছে গিয়ে বসে মেয়েটার
ঘোমটা তুলতে ছিটকে সরে আসে।
-জান্নাত তুমি??
-হুমম আমি কি ভেবেছো হ্যা??
-কি ভাববো??
-আমায় ছেড়ে অন্যকাউকে বিয়ে করা
ওতো সহজ না হুমম আমার নাম ও
জান্নাত।
-তুমি কিভাবে আসলে আমার বউ কই?
-আমিই তো তোমার বউ।
-মিথ্যা কথা।
-না গো সত্য কথা।
-কিভাবে??
-আচ্ছা বলছি।তুমি যখন আমায়
হসপিটালে দেখে চলে গেলে তার পরেই
ভাবি আমার রুমে ঢোকে।তারপর শোনো,,
-জান্নাত এই পাগলামি করার কোনো মানে
হয়??
-কি করবো ভাবি বলো সোহান তো অন্য
কাউকে বিয়ে করতে চাচ্ছে।
-আরে পাগলী ও করতে চাচ্ছে তো তুমিও
করো।
-মানে??
-মানে আমার ভাই বিয়ে করছে তুমিও বিয়ে
করে ফেলো।
-ভাবি এর চেয়ে আমার মরাই ভালো।
-আবার এক কথা বলে।আমার ভাইকে
বিয়ে করতে চাও না??
-কেন চাইবো না।
-আমি তো তোমাকে সোহানকেই বিয়ে
করতে বলছি।
-কিভাবে সম্ভব??
-আমি আন্টিকে বুঝিয়ে বললেই সে
তোমাকে তার ছেলের বউ হিসেবে মেনে
নিবে।
-বাহহ ভাবি কি বুদ্ধি তোমার।
-হুমম এখন একটু রেস্ট করো।
এই হলো সব কথা কিছু বুঝলে??
-তোমরা এতো বড় প্লান করছো অথচ
আমি এসবের কিছুই জানতে পারি নাই।
-হিহিহি জানানোর জন্য কি প্লান করছি??
-আল্লাহ আমারে তুইলা নাও।
-না ওখানে যেতে হবে না এখন আমার
কাছে আসতে হবে।
-না আমি কাছে যাবো না।
-এই সোনা বর আমার এদিকে আসো।
-খবরদার আমায় ডাকলে খবর আছে
আমি যাবো না মাঝখানে কোলবালিস
রাখো একবার এদিকে আসলে খবর আছে।
-এ্যাহহহহহ??
-আজ্ঞে হ্যা।
এরপর সোহান খাটের উপর শুয়ে মাঝখানে
কোলবালিস রেখে দেয় যেন জান্নাত তার
দিকে না যেতে পারে।কিন্তু জান্নাত ও হাল
ছেড়ে দেবার পাত্রী নয়।সেও এর শেষ দেখে
ছাড়বে।
-এই এই কোলবালিস সরাচ্ছো কেন??
-দুটো দেশ ভাগ হয়ে আছে এক করার
চেষ্টা করছি।
-খবরদার এককরার চেষ্টা করবা না।
নাহলে আমি উঠে চলে যাবো কিন্তু।
-না না আমি এক করবো না আর।
(বুইড়া, খাটাস,হনুমান,কালো বক,গরু
ছাগল,তোর বউ জুটবে না।কি কই বউ
তো আমিই)
-বিড়বিড় করে কি বলো??
-কিছুনা।
আরো কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পর
জান্নাত চালাকি করে কম্বলটা নিয়ে গায়ে
পেচিয়ে একাই নিয়ে নেয়।আর সোহানকে
এমনি থাকতে দেয়।
-এটা কি হলো??
-তুমি যেমন মাঝখানে কোলবালিস
দিয়েছো আর আমি কম্বল নিয়ে নিয়েছি।
তুমি যদি কেরে নেবার চেষ্টা করো তাহলে
আমি সবাইকে ডেকে বলবো তুমি আমায়
ঘর থেকে বের করে দেবার চেষ্টা করছো।
-আল্লাহ না না তুমিই থাকো কম্বল নিয়ে।
আল্লাহ রক্ষা কইরো।
দুজনে শুয়ে থাকে আবার চুপচাপ।সোহান
আস্তে আস্তে ঠান্ডায় কাপতে থাকে জান্নাত
বুঝতে পারে সোহানের শীত করছে।সে
তবুও চুপ করে মিট মিট করে হাসতে থাকে।
-ওই জান্নাত আমাকে একটু কম্বল দাও??
-না প্রথমে কোলবালিস টা সড়াও।
-থাক লাগবে না।
-(কি কেমন লাগে চান্দু আমার নাম ও
জান্নাত হ্যা)
একটু পর আর পারে না সোহান হার
মেনে নিয়ে জান্নাতকে বলে সে কোল
বালিস সড়িয়ে দিবে।জান্নাত শুনে
তাড়াতাড়ি কোলবালিস সড়িয়ে সোহানের
বুকে মাথা রেখে সোহানের গায়ে কম্বল
দিয়ে দেয়।
-এটা কি হলো??
-চুপ নইলে নাকের উপর এমন ঘুষি মারবো
সব বুঝতে পারবা।
সোহান ভয়েতে চুপ হয়ে যায়।সোহানের
বুকে মাথা রেখে জান্নাত নতুন জীবনের
স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ে।আজ
তার সবচেয়ে বেশি খুশির দিন।সোহান
ও অনেক খুশি হয়েছে।নিজের অজান্তেই
সোহানের মুখে হাসি ফুঠে ওঠে এবং
জান্নাতকে জড়িয়ে ধরতে লাগে কিন্তু
তার মনে জেদটা এখনো আছে।তাই
আর ধরে না শুধু এটা বলে আজ থেকে
শুরু।এরপর সোহান ও ঘুমিয়ে পড়ে।
ভোরে আজান দিলে জান্নাত জেগে
যায় এবং তাকিয়ে দেখি সোহান এখনো
ঘুমিয়ে আছে।জান্নাত সোহানের মুখের
দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকে কি এমন
মায়া আছে যেটাতে আরে বেশি ফেসে
যাচ্ছে জান্নাত।সে ভাবতে থাকে এতো
দিন কষ্ট দিয়েছে আর কষ্ট দিতে দিবে
না।
-এই ওঠো নামাজ পড়তে হবে।
-আচ্ছা উঠছি।
দুজনে উঠে অজু করে নামাজটা
পড়ে নেয়।সোহান একটু বাইরে হাটতে
বের হয়।যতোই শীত হক তবুও হাটতে
হবেই।জান্নাত নামাজ পড়ে আবার শুয়ে
পড়ে সোহানকে বারন করে না কারন
জান্নাত জানে সোহানের এটা প্রতিদিনের
অভ্যাস।সোহান হেটে বাসায় ফিরে অবাক।
সোহানের আপু আর কয়েকজন দরজার
সামনে দাড়িয়ে।তারা একবার ভাবছে
ডাক দিবে আবার ভাবছে ডিস্টার্ব করবে
না।এরকম পরিস্থিতি দেখে সোহান হেসে
দেয়।এরপর সোহান দরজার কাছে গিয়ে
দাড়াতেই অবাক।
-একি তুই এখানে।তোর না বাসর রাত
ছিলো??
-কিসের বাসর তুমি জানো না আপু আমি
সকালে হাটতে বের হই??
-ও আচ্ছা।জান্নাতকে ডেকে দে তো
-নিজেই ডেকে নাও আপু।
একথা বলে সোহান চলে যায়।সোহানের
আপু গিয়ে জান্নাতকে নিয়ে নিচে নেমে
আসে।সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে।
সোহান খাওয়া দাওয়া করেই বের হয়
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য।
আড্ডা দিতে দিতে বিকেল হয়ে যায়।
সোহানের বাসা থেকে ফোন আসে এবং
বাসায় চলে আসে।
-সোহান রেডি হউ??
-কেন??
-কেন আবার আমার বাড়ি থেকে লোক
এসেছে তোমার আর আমার যেতে হবে।
-আমি যাবোনা তুমি যাও।
-সোহান আমি হাত জোড় করছি প্লিজ।
সোহান এবার আর ফেলতে পারে না।
সোহান রেডি হয়ে বসে ভাবতে থাকে
জান্নাতের সাথে আরো খারাপ ব্যবহার
করবে এখন থেকে।তিলে তিলে মারবে
জান্নাতকে।অন্যদিকে জান্নাত শাড়ী পড়ে
অপরুপ সাজে সেজেছে সোহানের একটু
চোখ পড়তেই হা হয়ে তাকিয়ে থাকে।
জান্নাত সোহানের এমন ভাবে তাকিয়ে
থাকতে দেখে লজ্জা পায়।হঠাৎ সোহান
কি যেন ভেবে উঠে জান্নাতের গালে
ঠাশশশশশ করে একটা চড় মেরে
দেয়,,,,,,,

দেয়।জান্নাত চড় খেয়ে কান্নার চোখে
সোহানের দিকে তাকায়।জান্নাতের চোখ
দিয়ে জ্বল পড়ছে আর এক হাত গালে
দিয়ে রয়েছে।
-আমায় মারলে কেন??
-এমন উদ্ভব সাজ সাজতে বলেছে কে??
-তাই বলে আমায় মারলে??
-হুমম মারলাম যাও চেন্জ করে শুধু বোরকা
পড়ে যাবা।
জান্নাত আর কিছু বলে না কাদতে কাদতে
সোহানের সামনে থেকে সড়ে যায়।জান্নাতের
মুখে এতোক্ষন হাসি ছিলো কিন্তু সোহানের
এমন ব্যবহারে জান্নাতের মুখের হাসি বিলিন
হয়ে যায়।জান্নাত মনে অনেক কষ্ট পেলেও
তা মুখে প্রকাশ করতে দেয় না।অন্যদিকে
সোহান জেনেশুনে জান্নাতকে কষ্ট দেয়।
জান্নাত তৈরি হয়ে সোহানের সাথে বের
হয়।
-আম্মু জান্নাতকে নিয়ে গেলাম।
-হুমম সাবধানে যাস আর আমার মা জান্নাত
এর জেনো ভালোভাবে বাসায় নিয়ে আসিস
তোর যা হয় হবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
এরপর তারা বেড়িয়ে পরে। গাড়িতে করে
জান্নাতের বাড়ি পৌছাবার পর জান্নাত
নিজের আম্মু আব্বুকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে
কেদে দেয়।জান্নাতের আব্বু আম্মুও কেদে
দেয়।
-চল মা ভেতরে জামাই বাবা কে নিয়ে।
-হুমম চলো আম্মু।
সবাই ভেতরে যায় সোহান সোজা রুমে
চলে যায়।একটু পর জান্নাত সোহানের কাছে
চলে আসে।
-জান্নাত শোনে আমার ঘুম ধরছে আমি
ঘুমিয়ে নিলাম।তুমি কি ঘুমাবে আমার
সাথে?
-হুমম অপেক্ষা করো আমি বলে আসি
আব্বু আম্মুকে।
জান্নাত নিচে গিয়ে তার আব্বু আম্মুকে
বলে এসে রুমে শুয়ে পড়ে।জান্নাত অবাক
হয় কেননা সোহান নিজেই আজ জান্নাতকে
নিজের কাছে টেনে নিচ্ছে।জান্নাত ভাবনায়
পড়ে গেলো একটু আগের সোহানের সাথে
এখনকার সোহানের একটুও মিল খুজে
পাচ্ছে না।সব ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে সোহান
জান্নাতকে ডাক দিয়ে বলে সোহানের বুকের
উপর মাথা রাখতে।জান্নাতের কাছে মনে হয়
এ যেন মেঘ না চাইতেই জল।জান্নাত বালিস
ছেড়ে সোহানের বুকে মাথা রাখলে সোহান
জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে।
বিকেলে দুজন ঘুম থেকে উঠে পড়ে।
-যাও চা বানিয়ে আনো তো।
-আচ্ছা যাচ্ছি তুমি একটু অপেক্ষা করো।
জান্নাতের মুখে হাসি ফুঠেছে তখনকার কষ্ট
এখন জান্নাতের কাছে কিছুই মনে হচ্ছে না
কেননা স্বামীর ভালোবাসা জান্নাতের সব
কষ্ট দূর করে দিয়েছে।জান্নাত চা বানিয়ে
নিয়ে যায় হাসি মুখে।সোহান এক বার মুখে
দিতেই দেখে খুব সুন্দর হয়েছে।কিন্তু সোহান
জান্নাতকে কষ্ট দিতে চায় তাই উঠে আবার
জান্নাতের গালে ঠাশশশশ করে একটা চড়
মেরে দিলো।জান্নাতের চোখ বেয়ে আবার
পানি ঝড়ছে।
-সোহান তোমার বাসায় আমায় যতো খুশি
মারো কিন্তু আমার বাসায় একটু চুপ করে
থাকো প্লিজ অন্তত তারা খারাপ যেন না
মনে করে।আর কেন মারলে??
-এ কি চা নাকি পানি।এতো ঠান্ডা কেন।
না তোর মতো বউ আমার দরকার নেই।
হাত দিয়ে দেখ কতো ঠান্ডা।তাই বলে
জান্নাত এর হাত চায়ের মধ্যে দেয় জান্নাত
মুখ বুঝে সহ্য করতে থাকে চোখ দিয়ে পানি
ঝড়ছে।সোহান ছেড়ে দিয়ে একটু বাইরে
চলে যায়।জান্নাত কাদতে থাকে হাত পুরে
গিয়েছে একটু।জান্নাত আবার অবাক হয়
কেননা সোহানই মলম নিয়ে এসে লাগিয়ে
দেয়।জান্নাত বারন করলে সোহান ধমক মেরে
দেয় জান্নাত চুপ হয়ে যায়।সোহান মলম লাগিয়ে
দিচ্ছে আর জান্নাত চুপ করে চেয়ে আছে।
আর ভাবছে আবার এতো নরম হয়ে গেলো কিভাবে।মলম লাগানো হয়ে গেলে সোহান
কোথায় জেনো চলে যায় জান্নাত নিজের রুমেই
থেকে যায়।রাতে সোহান বাসায় ফিরলে জান্নাত
সোহানের জন্য খাবার নিয়ে আসলো।
-তুমি খেয়েছো??
-না আমার হাত।
-আচ্ছা বসো আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-এ কি তোমার হাত পুরলো কিভাবে??
-কিছুনা এমনি।
-বলো বলছি।
-বললাম তো এমনি চুপ করে খেয়ে নাও।
এরপর জান্নাত চুপ হয়ে খেতে থাকে কিন্তু
সে শুধু সোহানের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে
যে কিভাবে পুরলো।খাওয়া শেষ হলে দুজন
শুয়ে পড়ে আবার সোহান ভালোবেসে জান্নাতকে
কাছে টেনে নেয়।জান্নাত বার বার কনফিউশনে
পড়ে যাচ্ছে কেন এমন করছে সোহান একবার
কষ্ট দিচ্ছে আবার ভালোবাসছে।দুজন ঘুমিয়ে
পড়ে।ভোরে উঠে নামাজ পরে জান্নাত তার
আম্মুর কাছে যায় আর সোহান ঘুমিয়ে থাকে।
সকালে জান্নাতক গোসল দিয়ে সেজে এসে সোহানকে ডেকে তুলে।সোহান ঘুম থেকে উঠে
জান্নাতকে সাজতে দেখে রেগে গিয়ে জান্নাতকে
ঠাশশশশশ করে কষে একটা চর মারে।
চরটা অনেক জোড়ে লাগায় সহ্য করতে না পেরে
বিছানায় পরে যায় ঠোঠ কিছুটা কেটে যায়।
-আমি বলেছি না আমার সামনে সাজবি না।
-সাজলে কি হয়??
-তুই সাজবি না ব্যাস।তোর ব্যবহারে মনে
হচ্ছি তুই বেশিদিন নাই আমার ঠিক আছে
তৈরি থাকিস ডিবোর্সের জন্য।
কথাটা বলতেই জান্নাত আকাশ থেকে পড়ে,,,

আমি বলেছি না আমার সামনে সাজবি না।
-সাজলে কি হয়??
-তুই সাজবি না ব্যাস।তোর ব্যবহারে
মনে হচ্ছি তুই বেশিদিন নাই আমার
ঠিক আছেতৈরি থাকিস ডিবোর্সের
জন্য।কথাটা বলতেই জান্নাত আকাশ
থেকে পড়ে।সোহান একথা বলবে জান্নাত কোনোদিন ভাবতেও পারেনি।জান্নাতের
বুকটা ফেটে যাচ্ছে কষ্টে সে এখন বুঝতে
পারছে সোহান এর ও ঠিক এতোটাই কষ্ট হয়েছিলো।জান্নাত মাটিতে বসে পড়ে
কাদতে থাকে।হঠাৎ সোহানের একটা
ফোন আসে আর সোহান কথা বলার
জন্য বেলকুনিতে যায়এবং কথা বলা
শেষ হয়ে এসে দেখে জান্নাত বসে
কাদছে সোহান বের হয়ে চলে যায়।
সকালের খাবার খেয়ে জান্নাত বলে
এখানে আর থাকবে না সোহানের কাছে
যাবে।সোহান কিছু বলে না।এবার জান্নাত
সোহান যাতে না রাগে তেমন করেই সাজে
এবং সোহানের সঙ্গে সোহানের বাড়ির
উদ্দেশ্য রওনা হয়।রাস্তায় দুজন চুপচাপ
ছিলো জান্নাত শুধু কেদেছে কিন্তু জান্নাত
অবাক হচ্ছে কেননা তার সোহান তো
এমন ছিলো না হঠাৎ করে এমন কিভাবে।
যে সোহান তার জন্য পুরো পাগল ছিলো
সেই সোহান এখন তাকে মারতেও দ্বিধা
বোধ করছে না কিভাবে সম্ভব এটা।
ভাবতে ভাবতে সোহানের বাড়ি চলে আসে
সোহানের আম্মু দরজার সামনেই দাড়িয়ে
ছিলো তাদের জন্য।জান্নাতকে দেখে
সোহানের আম্মু জড়িয়ে ধরে।আর সোহান
সোজা রুমে চলে যায় কেননা ওকে এখন
থেকে জান্নাতের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা
করতে হবে।
-একি মা তোর গালে কিসের দাগ??
-না মা কিছুনা এমনি।
-আর তোর চোখ লাল কেন??
-ঘুম হয়নি তো তাই।
-কি বলিস দাড়া সোহানের একদিন কি
আমার একদিন।
-আরে মা সেও ঘুম পারেনি আর আমায় ও
পারতে দেয়নি।
-ও ঠিক আছে।আয় রেস্ট নিয়ে খেয়ে নে।
-আচ্ছা ঠিক আছে চেন্জ করে এসে খেয়ে
নিচ্ছি।
জান্নাত নিজের রুমে চলে যায় গিয়ে দেখে
সোহান ঘুমিয়ে আছে।জান্নাত সোহানকে
এভাবে দেখে সোহানের প্রেমে পড়ে যায়
কেননা সোহানের মুখে এখন কোনো রাগের
ছাপ নেই মনে হচ্ছে একটা ছোট ছেলে ঘুমিয়ে
আছে।জান্নাত ভাবতে থাকে জেগে থাকলে
কতো রাগই না দেখাতো কিন্তু এখন একদম
শান্ত ছেলে।জান্নাত সোহানের কাছে গিয়ে
সোহানের কপালে আলতো করে একটা
ভালোবাসার পরশ একে দেয়।বিয়ের পর
এই প্রথম এটা করে জান্নাত।কেননা এর
আগে করতে পারেনি আর সোহান জেগে
থাকলে হয়তো এটা হতোও না।এরপর
জান্নাত চেন্জ করে নিচে চলে যায়।গিয়ে
গল্প করতে থাকে আর শাশুড়ি বউমা দুজন
মিলে টিভি দেখতে থাকে।
বিকেলে হঠাৎ পিঠের কোমড়ের দিকে
ব্যাথাকরায়সোহান জেগে যায়।সোহান
জেগেই চুপ করে মুখে হাত চেপে রেখে
ব্যাথাটা সহ্য করার চেষ্টা করে কিন্তু অনেক
ব্যাথা করছে সোহান সইতে পারছে না।
সোহানের ইচ্ছা হয় মুখ খুলে চিৎকার করে
কাদতে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।এ সমস্যা
থেকে সোহানের নিস্তার নেই তা সোহান
জেনে গিয়েছে।সোহান উঠে একটা ব্যাথার ট্যাবলেট খেয়ে নেয়।সময় যাচ্ছে কিন্তু ব্যাথা
যেন আর বাড়ছে।সোহান বুঝতে পারছে না
কি করবে।ধীরে ধীরে ব্যাথা কমে আসলে
সোহান একটু সস্তি বোধ করে।সোহান উঠে ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ছাদে চলে যায়।
এদিকে জান্নাত রুমে এসে দেখে সোহান নেই।জান্নাত খুজতে থাকে কোথায় গেল।খুজতে
খুজতে ছাদে গিয়েদেখে আনমনে সোহান
দাড়িয়ে রয়েছে। জান্নাত কিছু না বলে নিচে
চলে যায়।
এভাবে কয়েকটা মাস চলে যায় সোহান
এই কয়েকমাসে জান্নাতকে প্রতিটা মুহূর্তে
কষ্ট দিয়েছে অন্যদিকে জান্নাত মুখ বুঝে
সব সহ্য করেছে।আজকে হঠাৎ সোহান
জান্নাতকে বলে বউ হয়ে সাজতে।সোহানের
এমন কথা শুনে অবাক হয় জান্নাত।
-কেন??
-আমি যা বলছি শুনবা কি না??
-আচ্ছা সাজছি অপেক্ষা করো।
জান্নাত চলে যায় সাজতে সোহান অপেক্ষা
করতে থাকে।অনেক্ষন পর জান্নাত আসে
একদম বউ রুপে প্রথম দিন যেভাবে সোহান
এর জীবনে এসেছিলো ঠিক তেমন ভাবে
সেজে আসে।জান্নাত মাথা নিচে করে থাকে
তার লজ্জা করছে ভীষন।এদিকে সোহান ও তাকিয়ে আছে জান্নাতের দিকে এক চোখে।
সোহান আর না তাকিয়ে আলমারি থেকে
একটা কাগজ বের করে এনে জান্নাতের
হাতে দিয়ে দেয়।
-এটা কি??
-ডিভোর্স পেপার আমি সাইন করে দিয়েছি
তুমিও করে দিও।
জান্নাতের হাত থেকে কাগজটা পড়ে যায়।
জান্নাতও ফ্লোরে বসে পড়ে কেননা তার
নিজের চোখে বিশ্বাস হচ্ছে না সোহান
তার সাথে সত্যি সত্যি এমন করলো।
জান্নাত অঝোড় ধারায় চোখের জ্বল
ফেলতে থাকে সোহানের উপর এখন
একটু ঘৃণা চলে এসেছে রাগ করে
কাগজটা হাতে নিয়ে বেড়িয়ে যায়।
জান্নাত চলে যায়ওয়ার সাথে সাথে
সোহান ফ্লোরে বসে কাদতে থাকে।
কারন তার কিছু করার নেই।সোহানের
দুটো কিডনি নষ্ট যেটা সে কাউকে
জানায়নি।কিন্তু জেদ করে বিয়ে করতে
চেয়েছিলো বিয়ের দিন একথা শুনতে পায়
সোহান যে তার এতো বড় অসুক।সে কথা
বলতে চেয়েছিলো কিন্তু তাকে সে সুযোগ
দেয়নি।তাই বিয়ের পর থেকে সোহান
জান্নাত কে কষ্ট দিতে থাকে যেন সে ঘৃণা
করে এবং ডিভোর্স দিয়ে নতুন জীবন
শুরু করে।
-জান্নাত আমায় মাফ করে দিও প্লিজ।আজই
আমার শেষ দিন। খুব ভালোবাসি কিন্তু
আম চলে গেলে তুমি কষ্টে নিজেকে শেষ
করে দিবে তাই আমি নিজে তোমাকে শেষ
হতে না দিয়ে নিরবে শেষ হয়ে যাবো কেউ
জানবে না।খুব ভালোবাসিরে পাগলি যখন
শুনেছিলাম তুমি আমার বউ হবে তখন আমি
এতোটা খুশি হয়েছিলাম যে বলে বোঝাতে
পারবো না কিন্তু যখন শুনলাম আমার অসুখ
তখন আমার সব স্বপ্ন এক নিমিষে ভেঙ্গে
গিয়েছে।জান্নাত পারলে আমায় মাফ করে
দিও।
-মাফ করবো আগে ঠিক করবো তারপর
ইচ্ছা মতো ধোলাই দিবো তারপর।
হঠাৎ জান্নাতের কথা শুনে চমকে উঠে
সোহান তাকিয়ে দেখে জান্নাত রেগে সামনে
দাড়িয়ে আছে।
-জান্নাত তুমি??
-হ্যা আমি আর শোনেন আমি সব আগেই জানছিলাম এখন চলো তাড়াতাড়ি প্লিজ।
-কিন্তু আমার যে সময় নেই।
-দেখো উপর আলার উপর ভরসা রাখো
একটা না একটা ঠিক রাস্তা খোলা থাকবে।
-সোহানকে নিয়ে জান্নাত হসপিটালে যায়।
সোহানের আম্মুকে জানানোর পর অনেক
কান্না করতে থাকে সোহান বারন করলেও
শোনে না।জান্নাত ডাক্তারের সাথে কথা
বলে একটা আশা দেখতে পায় সেটা হলো
কেউ যদি একটা কিডনি দান করে তাহলে
হবে কিন্তু গ্রুপ মিল হতে হবে।
জান্নাত কিডনি দিতে রাজি হয় সোহান বারন
করা সত্তেও শোনে না।গ্রুপ টেস্ট করার পর
মিলে যায়।এরপর জান্নাত সোহানকে
একটা কিডনি দিয়ে সোহানকে ভালো করে
দেয়।দুজনে সুস্থ এবংপরিবারের সবাই অনেক
খুশি।
তারা প্রমান করে দেয় প্রকৃত ভালোবাসার কাছে
মরন ও হার মেনে যায়।
এরপর সোহান আর জান্নাত বাসায় যায়।
ধীরে ধীরে তারা সুস্থ হয়ে যায়।একদিন রাতে,,
-এই দেখছো আমাদের ভালোবাসা হার মানে
নাই।
-হুমম পাগলী তুমি থাকলে মানবেও না।
-হুমম।
-আমাদের ভালোবাসাকে আরেকবার জেতাই??
-কিভাবে??
-আমাদের কিউট একটা বাবু দিয়ে।
সোহানের কথাশ জান্নাত লজ্জা পেয়ে মাথা
নিচু করে ফেলে।