বিয়ে বিভ্রাট

বিয়ে বিভ্রাট

৩ বছর ধরে আমার বউ খুঁজা হচ্ছে। বউ পেলেও কিছুতেই আমার বিয়ে ঠিক হয়না। সব সময় আজগবি কিছু কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। আর কারণ গুলোর জন্য আমিই সব সময় দায়ী হই। যার কারণে আব্বা আম্মা আমার বিয়ে থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে।
.
প্রথম একদিন আমার এক ফ্রেন্ডের সাথে গেলাম বউ দেখতে। শ্বশুর বাড়িতে প্রথম আপ্যায়ন দেখে আমি অবাক। খাওয়াদাওয়ার কোনো রকম কমতি ছিল না। জামাই আদর কাকে বলে সেদিনেই আমি বুঝেছিলাম। এতো আপ্যায়ন দেখে বিয়ের প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে গেলো। আমিতো মনে মনে ভেবেই নিয়েছিলাম। যারা প্রথম দিকেই এতো যত্নআত্তি করছে তাদের মেয়েকে তো বিয়ে করাউ উচিত। মেয়ে দেখানোর আগেই আমাদের খাইয়ে দেওয়া হলো। আমার বন্ধু হানিফের খালাতো ভাই এই মেয়ে ঠিকানা দেয়। আমি আর আমার বন্ধু হানিফ দুজন এসেছি বউ দেখতে। হানিফের খালাতো ভাই আসতে পারেনি। সে কল করে বলে দিয়েছে। আমরা খেয়েদেয়ে বসে আছি বউ আসার নাম গন্ধও নাই। তাই আমি হানিফকে কানে কানে বললাম,

– কিরে এসেছি তো দুঘণ্টা হলো। তাহলে এখন মেয়েকে দেখছি না কেন? কখন মেয়ে নিয়ে আসবে বলতো? হানিফ বলল,
– এতো অস্থির হওয়ার কি আছে। স্থির হয়ে বস। এক্ষণি চলে আসবে। মাত্রতো খাওয়াদাওয়া শেষ করলাম। আমিও চুপচাপ বসলাম। আধঘণ্টা পরে মেয়েকে আমাদের সামনে নিয়ে আসা হলো । মেয়ে আমার মুখোমুখি বসে। বিশ্বাস করেন ভাই। মেয়ে দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেলো। এমন রূপসী মেয়ে এজন্মে দেখিনি। আমি হা করে তাকিয়ে রইলাম। হানিফ আমার পিছনে গুতা দিয়ে বললো,

– এভাবে থাকিয়ে থাকিস না। সবাই লুচ্চা মনে করবে। হানিফের কথা শোনে আমি মাথা নিচু করে ফেললাম। হানিফ নিজেই মেয়ের সাথে কথা বললো। নাম, কি করে সব জিজ্ঞেস করলো। আমি হানিফকে ফিসফিস করে বললাম,
– দোস্ত একটা কথা বলতে চাই। হানিফ আমার কথা শোনে বললো,
– কি কথা?
– পাশে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটাকে দেখেছিস? আমার ওই মেয়েটাকে পছন্দ হয়েছে। আমার কথা শোনে হানিফ চোখ বড় বড় করে বলল,
– কি বলছিস তুই? এক মেয়েকে দেখতে এসে আরেক মেয়েকে পছন্দ করিস কিভাবে?
.
– পছন্দ হয়ে গেছে তো আমি কি করবো? এতে তো আমার কোনো হাত নেই। এটা সম্পূর্ণ আমার মনের ব্যাপার।
– আরে ভাই তুই এটা রেখে যেটাকে দেখতে এসেছিস সেটা দেখ। ওই মেয়েও সুন্দরী।
– কিন্তু আমারতো দাঁড়িয়ে থাকাজনকে মনে ধরেছে। দুজনের ফিসফিসানি দেখে মেয়ের বাবা জিজ্ঞেস করে,

– কি হলো বাবা? কোনো সমস্যা? থাকলে আমাদের বলতে পারো। হানিফ আর আমি সরে বসলাম। হানিফ বললো,
– না আংকেল। কোনো সমস্যা না। আমি হানিফকে এতো রিকুয়েস্ট করলাম তবুও সে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দরী রমণীর কথা বললো না। মেয়ে নিয়ে চলে যাওয়ার পর মেয়ের বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
– বাবা আমার মেয়েকে কেমন লাগলো? আমি আর সংকোচ করলাম না। আমি বুঝতে পেরেছি হানিফফা শালা বলবে না। নিজেরটা নিজেরই বলতে হবে। আমি মধুর কণ্ঠে বললাম,

– আংকেল একটা কথা বলতে চাই। আপনি যদি অনুমতি দেন। আংকেল হেসে বললেন,
– হ্যাঁ বাবা। যা বলতে চাও বলো। হানিফ আমার দিকে তাকিয়ে আবার ফিসফিস করে বললো,
– ইফাদ এটা বলিস না। কেলেংকারি হয়ে যাবে। আমি হানিফের দিকে রাগি চোখ নিয়ে তাকিয়ে বললাম,

– তুই একটাও কথা বলবি না। বন্ধু হয়ে বন্ধুর উপকার করতে পারছিস না যখন তখন চুপ করে থাকবি। আমি আংকেলের দিকে তাকিয়ে বললাম,
– আসলে আংকেল আপনার মেয়েকে যে মেয়েটা নিয়ে আসছিল আমার তাকে পছন্দ হয়েছে। ওইটা মনে হয় আপনার ছোট মেয়ে। আপনার বড় মেয়েটাও সুন্দর। কিন্তু আমার ছোটজনকে বেশি পছন্দ হয়েছে। আপনি চিন্তা করবেন না। আপনার বড় মেয়ের জন্য পাত্র আমার কাছে আছে। এই যে দেখছেন আমার বন্ধু হানিফ। ভালো জব করে। দেখতেও আমার থেকে কম না। ও আপনার বড় মেয়েকে বিয়ে করবে। মানে আপনার বড় মেয়েকে আমার বন্ধুর খুব ভালো লেগেছে। আপনার আপত্তি না থাকলে এক সাথেই আমরা দুই বন্ধু কাজটা সেরে ফেলতাম। আমার কথা শোনে হানিফ আমার দিকে রাগ রাগ ভাব নিয়ে তাকায়। আর আংকেল তো রাগে শেষ। বুঝলাম না এতো রাগের মতো কি বলেছি। আংকেল রাগের ছুটে বললো,

– এক্ষণি আমার রুম থেকে বের হয়ে যাও। তোমাদের ভাগ্য ভালো আমি এখনও তোমাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেইনি। আমিতো আংকেলের এতো রাগের কারণেই বুঝলাম না। তাই আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম,
– আংকেল আমার অপরাধ কি? আমি তো আপনাকে খারাপ কোনো প্রস্তাব দেইনি। আংকেল বললেন,
.
– চুপ করো বেয়াদব ছেলে। আমার মেয়েকে দেখতে এসে আমার বউকে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বলছো খারাপ প্রস্তাব দেওনি? তোমার মতো ছেলেকেতো জেলে দেওয়া উচিত। আংকেলের কথা শোনে আমি আকাশ থেকে মাটিতে পড়লাম। আমি এটা কি শুনলাম? নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। তাই আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম,

– ওই সুন্দরী রমণী আপনার মেয়ে না? এবার আংকেল রাগে ফায়ার হয়ে গেলেন। আমাদের একেবারে ধাক্কা মেরে বের করে দিয়ে বললেন,
– আমার বউকে আবার মেয়ে বলছো? আবার লুচ্চামি করে সুন্দরী রমণী বলা হচ্ছে? উনি আমার মেয়ের মা হয় হারামজাদা। সেদিন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ছ্যাঁকা। জীবনে কোনোদিন একটা প্রেমও করিনি।

ভেবেছিলাম এরেঞ্জ ম্যারেজ করবো। সেদিন হানিফও আমাকে ইচ্ছে মতো গালি দিয়েছিল। আর বলেছিল বেঁচে থাকলে আমার জন্য আর মেয়ে দেখবে না। আমিও কিছুদিন পর্যন্ত এই ঘটনার কথা ভুলতেই পারছিলাম না। মেয়ের থেকেও মা বেশি সুন্দরী আর ইয়াংগ কিভাবে হয় ভেবেই পাচ্ছিলাম না। যাক সেসব কথা। তার কয়দিন পর বাসা থেকে আব্বা একটা মেয়ের প্রস্তাব দিলো।

একটা শুক্রবার ঠিক করে গেলাম বউ দেখতে। সেই মেয়েও ছিল বেশ সুন্দরী। আম্মা আব্বা আর আমার ছোট বোনেরও পছন্দ হয়েছিল। কথাবার্তা বললাম। এবার আর ভুল করেও পাশের জনের দিকে তাকায় নি। জন্মের মতো শিক্ষা আমার হয়েছে। তারপর খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হলো। আমার বোন আবদার করলো তার হবু ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে খাবে। তাই আমার হবু বউও বসলো আমার পাশে। ভালো কথা। আয়োজনের কোনো রকম কমতি ছিল না। খাওয়ার মাঝখানে হঠাৎ আমার হাঁচি চলে এলো।

যেই পাশে ফিরে হাঁচি দিলাম আমার মুখ আর নাক থেকে এক দলা সর্দি আর লালা গিয়ে পড়লো হবু বউয়ের মুখে। ব্যাস। আর কোনো কারণ ছিল না বিয়েটা ভাঙ্গতে। দ্বিতীয় ছ্যাঁকাটা খেয়ে আমি হাফ ব্যাকা হয়ে গেছিলাম। বাসায় আসার পর আব্বা আম্মা আর ছোট বোন আমার ইজ্জত ধুয়ে সাফ করে দিয়েছিল। এমন লজ্জা আর কখনও পাইনি। সেদিন প্রতিজ্ঞা করলাম। আর কখনও বউ দেখতে গিয়ে খাবো না।

বেশ কিছুদিন আমার বিয়ে নিয়ে আমার আর কথা হয়নি। হঠাৎ একদিন মামা আসে বাসায়। তার কাছে নাকি একটা পাত্রী আছে। আর পাত্রী নাকি হেব্বি সুন্দরী। রাজকন্যার মতো দেখতে। আম্মা আব্বাকে রাজি করালো। আমিও রাজি। কারণ আমার মনে হয় আমার বিয়ের বয়স চলে যাচ্ছে। কয়দিন পর মাথার চুলও সব পড়ে যাবে। তখন বিয়ে করা কঠিন হয়ে যাবে। তবে এবার আমি একদম সিদ্ধান্ত নিয়ে বের হয়েছি। ১০০ রকম আইটেম করলেও আমি খাবো না। এবারও আম্মা আব্বা বোন আমি আর মামা গেলাম বউ দেখতে।
.
মামার পছন্দের প্রশংসা না করলেই নয়। মেয়ে একদম পরীর মতো। তবে বয়সটা একটু কম। সবে মাত্র ইন্টার পাস করেছে। তাতে অবশ্য আমার আপত্তি নেই। আসল কথা হলো মেয়ে সুন্দরী। ১০০ মধ্যে ১০০। আমার কপালে এতো সুন্দরী বউ ছিল কল্পনাও করিনি। খুশিতে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। ইচ্ছে করছিল বউকে আজই সঙ্গে নিয়ে আসি বাসায়। তবে এবার কোনো ভুল করবো না। এই মেয়েকে আমার চাইয়েই চাই। তবে মেয়ের সাথে আলাদা একটু কথা বলতে পারলে মনটা শান্ত হতো।

তাই আমার বোনকে ফিসফিস করে বললাম মেয়ের সাথে যেন আমাকে একটু আলাদা কথা বলার ব্যবস্থা করে দেয়। আমার বোনও কম নয়। ভাইয়ের আবদার রাখার জন্য আম্মাকে বলে ব্যবস্থা করে। আমাকে আর মেয়েকে আলাদা একটা রুমে দেয় কথা বলতে। সাথে দুইটা কফি দেয় দুজনকে। ভালোই হলো। কফি খেতে খেতে আলাপ করবো। আমি মেয়ের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম। মেয়ের কণ্ঠটা এতো মিষ্টি ইচ্ছে করছিল খেয়ে ফেলি। তাই আরো কিছুক্ষণ কথা বলার জন্য আমি কথা বাড়াতে লাগলাম। হঠাৎ ঘটলো আরেক বিপদ এসে হাজির হলো।

আমার হঠাৎ পাদের চাপ উঠে গেলো। কিন্তু মেয়ের সামনে পাদ দিলেতো মান সম্মান কিছু আর অবশিষ্ট থাকবে না। আমি শব্দ না করে পাদ দিতে পারিনা। এই হলো আমার সমস্যা। তাই আমি যুদ্ধ শুরু করে দিলাম পাদ আটকাতে। কিন্তু ভাই, পাদ কি আর আমার কথা শোনে? সেতো নিজের মতো করে চাপ বাড়াতে লাগলো। ভাবলাম চেষ্টা করি যদি নিঃশব্দে কাজটা সারা যায়। আমি চেয়ারে বসে মুচড়ানো শুরু করলাম। পাদের চাপ প্রতিনিয়ত বাড়তে লাগলো। আর আমিও আটকানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। কখনও পেট কখনও পাছা চেপে ধরে গড়াগড়ি খেতে লাগলাম। আমার অবস্থা দেখে মেয়ে বললো,

– আপনার কি কোনো সমস্যা হয়েছে? আমি জোরপূর্বক মুখে হাসি রেখে বললাম,
– না না। আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আমি ঠিক আছি। আমি মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে শুরু করলাম। আল্লাহ আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করো। আমার মান সম্মান বাঁচাও। আমার আপ্রাণ প্রচেষ্টা আর আল্লাহর অশেষ রহমতে নিঃশব্দে আমার পেট থেকে পাদ খানা বের হয়ে আসে। আমারও মনে হলো বড়সড় একটা যুদ্ধে জয়ি হলাম।

ভাইরে ভাইরে, পাদতো শব্দ না করেই বের হয়ে গেলো। কিন্তু একমিনিটের মধ্যেই আমি ফিল করলাম রুমটা পাদময় হয়ে গেছে। মানে পাদের গন্ধে সারা রুম ভরে গেছে। আমার হাত পা কাঁপা শুরু হলো। হায় আল্লাহ। মেয়েটা যদি একবার আমার পাদের গন্ধ এটা বুঝতে পারে তাহলে তো আমি শেষ। পাদের গন্ধ ঢাকার জন্য আমি হাত দিয়ে গন্ধ তাড়াতে লাগলাম। আমার এমন অবস্থা দেখে মেয়েটা জিজ্ঞেস করলো,
.
– আপনি এমন করছেন কেন? আমি আমতাআমতা করে বললাম,
– আরে গরম লাগছে খুব। তাই হাত দিয়ে বাতাস করছি। আসল কথা কি আর বলা যাবে। আমার পাদের গন্ধে আমার নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি সব চলে আসছে। আল্লাহ আমার জানা ছিল না পাদের গন্ধ এতো বিশ্রী হয়। এখন কোনো রকম পাদের গন্ধ ঢাকতে পারলে আমি বাঁচি। আমি বললাম,

– চলুন আমরা বারান্দায় গিয়ে বসি। বারান্দা আমার খুব ভাল্লাগে। সে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমি তার হাত টেনে বারান্দায় নিয়ে গেলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমার হার্টবিটটা টিপটিপ শব্দ করতে লাগলো। শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেলো। মেয়েটার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে কিছু ঠের পায়নি। সে স্বাভাবিক আছে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম। মেয়েটার সাথে আরো কিছুক্ষণ কথা বললাম যাতে পাদের গন্ধ রুম থেকে চলে যায়। কথা শেষে মেয়েটা আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

– আপনার নাম্বারটা দেওয়া যাবে? আমি বললাম
– কেন বলুনতো? নাম্বার দিয়ে কি করবেন? আসলে পাদের চিন্তায় নিজেকে চোর চোর মনে হচ্ছিল। যার কারণে মাথায় কিছু ঢুকছিল না। মেয়েটা লাজুক হেসে বললো,
– আপনার সাথে কথা বলবো। ওমা! এই মেয়েতো দেখি সেয়ানা। যাক, আমার কাজটা সেই করে ফেললো। নাম্বার তো আমার চাওয়ার কথা। পাদের গন্ধে আমি ব্রেইন সাময়িক ভাবে ঘুমিয়ে পড়েছিল। আমি খুশি হয়ে তাকে নাম্বারটা দিলাম। কিন্তু তার নাম্বারটা চাইলে দিলো না। বললো সেই আমাকে কল দিবে। কি আর করা। একজন কল দিলেই হলো।

সেদিন বিদায় নিয়ে সবাই মিলে বাসায় আসলাম। বিয়ে মোটামুটি পাকা। আমি বাসায় এসে কিছুক্ষণ নাচলাম। এবার আমার বিয়ে হবে। সুন্দরী বউ। আর কি চাই? ভাবলাম হানিফকে কল দিয়ে খুশির সংবাদটা দেই। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলাম স্কিনের উপর একটা মেসেজ ভেসে আছে। আমি মেসেজটা সিন করে পড়লাম। মেসেজ পড়া শেষ হতেই অজ্ঞান হয়ে গেলাম। আমার জ্ঞান ফিরলো পরদিন সকালে। নিশ্চয় আপনারা ভাবছেন আমি কি এমন দেখলাম যে এভাবে অজ্ঞান হয়ে গেলাম। আসলে মেসেজটা ছিল গতকাল দেখে আসা সেই সুন্দরীর। সে লিখেছে,
.
” এই বজ্জাত হারামজাদা। কয়দিনের বাসী খাবার খেয়ে এসেছিলি আমাদের বাসায়? ফকিন্নির ফোলা। তোর পাদের গন্ধে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আমার ইচ্ছে করছিল তোর পাছায় লাথি মেরে বারান্দা দিয়ে বাইরে ফেলে দেই। তুই চলে যাওয়ার পর আমি বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে গেছি। কিছু খেতে চাইলে তোর পাদের গন্ধের কথা মনে হয়। আর আমি বমি করে লম্বা হয়ে যাই। তোর মাকে বলবি ভালো খাবার রান্না করে খাওয়াতে। এমন পাদ যদি কোনো পাবলিক প্লেসে দেছ তাহলে তোর পাদের গন্ধে দশ কিলোমিটারে যতলোকজন থাকবে সবাই তোকে জুতাপেটা করবে। আমাকে বিয়ে করবি না? আসিস আর একদিন আমাদের বাসায়। তোকে তোর পাদের গন্ধ খাইয়ে দিবো। তোর পাছায় বোমা ফাটাবো।”

মাইয়াডা যেমন ছোট মনে করেছিলাম তেমন না। তারপর থেকে আমি আর কখনও বউ দেখতে যাইনা। আল্লাহ জানে আবার কোথায় গিয়ে কোন বোম পাঠাবো। আব্বা আম্মাও আর বিয়ের কথা বলে না। বিয়ের কথা বললেই আমার পাদের কথা মনে পড়ে যায়। একদিন তো এই পাদের জন্য ডাক্তারের কাছেও গিয়েছিলাম। ডাক্তার বলেছিল কলা খেলে পাদ ফ্রেশ হয়। তাই আমি প্রচুর কলা খেতে শুরু করলাম। কলা খাওয়ার ফেলে আমার পাদ সহ হাগুও ফ্রেশ হয়ে গেলো। মাঝে মাঝে পাদ আসলে গন্ধটা নিয়ে দেখি আগের মতো বিশ্রী হয়না। কিন্তু পাদ আসলে বোম ফাটার মতো শব্দ হয়। তাই বউ দেখতে যাওয়ার কথা শোনলেই আমার ভয় লাগে। খাওয়াদাওয়া নাহয় বাদ দিলাম। কিন্তু যদি পাদ চলে আসে। তখন পাদের শব্দটার কি হবে? এর কোনো ওষুধ ডাক্তারও দিতে পারলো না। আর আমার বিয়ে বিভ্রাটও কাটলো না।