রহস্যময় মৃত্যু

চ্যাট করছে ইফতি, ফেসবুকের মজা তাকে গ্রাস করেছে ইদানিং। সারাদিনই প্রায় চ্যাটে বসে থাকে। তবে সে মেয়েদের সাথা চ্যাট একদমই করে না, কি বলবে কি লিখবে ভেবেই পায়না সে তাদের সাথে চ্যাট করতে গেলে। হঠাৎই খেয়াল করলো একটি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এসেছে। একটা মেয়ে ‘আনিলা” নাম তার। রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করলো। কিছুক্ষণ পর একটা মেসেজ এলো।। নিলা দিয়েছে, Hi. দায়সারা ভাবে জবাব দিল ইফতি, Hlw “কিসে পড়?” জিজ্ঞেস করলো আনিলা। “ইন্টার ফার্স্ট, আপনি?”– ইফতি। “আমিও “– আনিলা শুরুটা সহজ সাধারনভাবেই। দিনে এখন ইফতি 6 ঘন্টাই চ্যাট করে আনিলার সাথে। অনেক বই পড়ে ইফতি, সেগুলো নিয়েই বেশিরভাগ কথা হতো, বিশেষ করে “হিমু” । সে জানতে পেরে অবাকই হলে আনিলা কোনোদিন হিমু পড়েনি। একদিন আনিলা ইফতির কাছে হিমুর একটা বই চাইলো, ইফতি একপায়ে খাড়া, কারন আনিলাকে সামনা- সামনি দেখার সুযোগ হবে এই ফাঁকে। তো ঠিক করলো কোন জায়গায় সে বইটা দিবে। পাশাপাশি এলাকাতে থাকতো তারা, যেহেতু একই স্কুলে পড়তো দুজনে তাই মিউচুয়াল ফ্রেন্ড হিসেবেই ইফতিকে পেয়েছিল আনিলা। প্রথম দেখাতেই আনিলাকে ভালোলাগে ইফতির । একসময় তার ফোন নাম্বার পেয়ে যায় ইফতি, আনিলা ইচ্ছে করেই দেয়। এরপর সারাদিন ফোনেই তাদের কথাবার্তা। ফোনে ইফতি একদিন বলেই ফেলল আনিলাকে তার মনের কথা। আনিলা বলল “দেখ এখন আমার এসব কেন জানি ভালোলাগে না ,সো আমি পারবনা” । এই কথার পরই ফোন রেখে দিল আনিলা। এরপর চ্যাটে কিংবা ফোনে কোন জায়গাতেই তার দেখা পায় না ইফতি। মনে মনে একটা অপরাধবোধ সৃষ্টি হয় ইফতির মনে , শুধু শুধুই এতদিনকার বন্ধুত্ব নষ্ট করলো সে। কলেজের ক্লাস, ক্যান্টিন বা কোচিং সব জায়গাতেই কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকে সে।এসবই লক্ষ্য করছিল তার ক্লাসমেট টুম্পা। একদিন ক্যান্টিনে বসে আছে ইফতি, চা খাচ্ছে এমনসময় পাশে এসে বসলো টুম্পা । “কিরে কি হয়েছে তোর, সারাদিন কেমন যেন মুড অফ করে রাখিস” — জিজ্ঞেস করলো টুম্পা। তড়ি- ঘড়ি করে জবাব দিলো ইফতি, “কই না তো?” “না, বললে হবে আমি তো দেখি, বল কি হয়েছে?”– টুম্পা এবার সিরিয়াস মুডে বলল। আর চেপে রাখতে না পেরে টুম্পাকে সব কিছু বিস্তারিত বলল ইফতি । শোনার পর কিছুটা যেন বিমর্ষ হয়ে পড়ে টুম্পা। সাথে সাথেই নিজেকে সামলিয়ে ইফতিকে বলল “ব্যাপার না, তোর কি দোষ? তুই শুধু তোর মনের কথাই বলেছিস ” । কথাটা শোনার পর ইফতির মনে হলো বুকের ভেতরের কষ্টটা একটু হালকা হলো। ভাবলো, আসলেই তাই ,সে শুধুই তার মনের কথাটাই বলেছিল। এরপর থেকেই প্রতিদিনই টুম্পা জোর করে অনেকক্ষণ গল্প করে ইফতির সাথে । একসময় ইফতি নিজেই খেয়াল করলো টুম্পার সাথে কথা না বললে তারও ভালোলাগে না , কিন্তু নিজেকে আর এরকম সম্পর্কে জড়াতে চাইছেনা সে, যদি আবারও….. একদিন গল্প করতে করতেই ইফতিকে জিজ্ঞাসা করলো “আচ্ছা, আমাকে কেমন লাগে তোর?” । ঠোঁটে সিগারেট ছিলো ইফতির, তা বের করে, একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে দায়সারা জবাব দিলো “ভালোই তো” “কেমন ভালো?”– আবারো জিজ্ঞাসা করলো টুম্পা । “কেমন ভালো মানে কি?” — ভ্রু কুঁচকে বলল ইফতি। “মানে বন্ধু হিসেবেই….শুধু?”— বলো মাটির দিকে তাকিয়ে থাকলো টুম্পা। “ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলবি তুই?”– কিছুটা রেগে গিয়ে বলল ইফতি। “মানে…….আমিতোকে ভালোবাসি “– কথাটা বলে ইফতির মুখের দিকে চেয়ে রইলো টুম্পা। এদিকে কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা ইফতি। ব্যাপারটা টুম্পা ধরতে পেরে বললো “থাক, এখন না বললেও চলবে, রাতে মেসেজ দিস ভেবেচিন্তে , বাই, আসি”। রাতে নিজের রুমে শুয়ে আছে ইফতি , মোবাইলটা তার হাতে। ঠিক করেছে টুম্পাকে “হ্যাঁ” বলবে । সে আবার নিজের জীবনকে গুঁছিয়ে নিতে চায় এমন একজনের সাথে যে তাকে ভালোবাসে। মেসেজে টাইপ করলো ইফতি ,”I love u too,” । সেন্ড করতে যাবে এমন সময়ই একটা কল এলো , অচেনা নাম্বার। বিরক্ত হলো এমন সময় ফোন আসাতে। “হ্যালো, কে?” — রাগান্বিত স্বরে জিজ্ঞাস করলো ইফতি। “হ্যালো, হ্যালো” — ওপাশে উত্তর নেই। “হ্যালো কে” – আবারো জিজ্ঞাস করলো ইফতি। “আ…আমি” — এক মেয়ে নিচুস্বরে জবাব দিলো। “আমিটা, কে? ” — রেগে গেল ইফতি। “আমি, আনিলা ” — জবাব দিল ওপাশ হতে । বুকের মধ্যে যেন এক দশ মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে ,টের পেল ইফতি। অনেক কষ্টে জিজ্ঞাসা করলো “কিজন্য ফোন করেছ?” । বলা শুরু করলো আনিলা “দেখ, ইফতি। তুমি যেদিন আমাকে ভালোবাসি বলেছিলে সেদিন আমি প্রচন্ড রাগে ছিলাম। তাই কথাগুলো বিষের মতো লেগেছিল আমার কাছে। কিন্তু তোমার সাথে কথা বন্ধ হবার পরই আমি বুঝতে পারি, তোমাকে আমি কিরকম মিস করি ,কতটা পছন্দ করি। এতদিন লজ্জায় বলতে পারিনি, হাজার হোক মুখের উপর না করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আর পারলাম না। আমি তোমাকে ভালোবাসি।” ইফতি কথাগুলো শুনে ইফতির মনে হলো, যে পাথরটা নেমে গিয়েছিলো তার বুক থেকে সেটাই আবার দশগুণ ভারী হয়ে তার বুকে চেপে বসেছে। অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর জবাব দিলো, “আচ্ছা, পরে ফোন দিবো , কিছুটা ভাবতে দাও। ফোন কেটে দেয়ার পর খেয়াল করলো মেসেজ বক্সে সে যা টাইপ করেছিল তা এখনও আছে সেন্ড করার বাকি। কি মনে করে ফোনটা অফ করে দিল। বারান্দায় গিয়ে সিগারেট টেনে ধ্বংস করতে লাগলো একের পর এক। ………… পর দিন সকালে বিছানায় পাওয়া গেল ইফতিকে ,লাশ হিসেবে । মুখ দিয়ে কষ বেরুচ্ছে। বিষ খেয়েছে সে !!…………..