Home ছোট গল্প শুধু তোমার পাগল

শুধু তোমার পাগল

ভার্সিটি গেটে ঢুকছিলাম হঠাৎ কিসের সাথে যেন ধাক্কা লেগে পড়ে গেলাম..সামনে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে আমার দিকে রাগি লুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে..আর আমিতো মেয়েকে দেখেই crash খাইলাম… নীল রংয়ের একটা কামিজ পড়ে আছে…মুখে হালকা মেকআপ… সব মিলিয়ে মেয়েটা আমার মন ধরেছে.. আমি ভাবছি একটা প্রেম না করতে পাররে ও তো কোন সুন্দরী মেয়ের সাথে ধাক্কাতো খেতে পেরেছি..😃
–ওই দেখে চলতে পারেন না?? চোখ কি বাড়িতে রেখে এসেছে??? (মেয়ে)
–(আমিতো হা করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছি)
–ওই মিস্টার কথা বলছেন না কেন?? (মেয়ে ধমক দিয়ে)
–(মেয়েটার কথাই বাস্তবে ফিরলাম) ও সরি..(আমি)
–দেখেশুনে পথ চলতে পারেন না..(মেয়ে)
–দেখেশুনে চললে কি আর এত সুন্দর মুহূর্ত পেতাম (আমি মনে মনে বললাম)
–কি বললেন??(মেয়ে)
–বলছি আপনার নামটা কি??(আমি)
–এখন থেকে দেখে শুনে পথ চলবেন??(মেয়েটা বলেই চলে যাচ্ছিল)
–নামটা তো বলে যান..??(আমি)
–যত্তসব..😠(মেয়ে)
আমি তার পথেই পানে চেয়ে আছ..ভাবছি কি এমন হত যদি নামটা বলে যেত…এত কিছু না ভেবে ক্লাস এর দিকে পা বাড়ালাম..
দুই দিন পর ভার্সিটি না গিয়ে বাড়িতেই আছি।..বিকেলের দিকে বাজারে বের হচ্ছি.. সিড়ি দিয়ে নেমেই যেন কারো সাথে ধাক্কা খেলাম…চোখ তুলে তাকাতেই আমি অবাক…
–আবার আপনি??(মেয়ে)
–(আমিতো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি)
–আপনার কি মেয়েদের ধাক্কা দেওয়া ছাড়া কোন কাজ নেই??? সেইদিন একবার ধাক্কা মাররেন আজকে আবার ধাক্কা দিলেন..কথা বলছেন না কেন?? (মেয়ে)
–আসলে আমি…(আমাকে কিছুনা বলতে দিয়েয় আবার বলতে শুরু করলো)
–আপনি আর কি বলবেন??আপনিতো আমাকে দেখেই ইচ্ছা করে ধাক্কা দিয়েছেন আর এখন সাধু সাজা হচ্ছে..(মেয়ে)
আমাকে কিছু বলতে না দিয়েই নিচের রুমএ চলে গেল…আমিতো পুরাই বোকা বনে গেলাম…এই মেয়ে বলে কী..আমি নাকি ইচ্ছা করে ধাক্কা মেরেছি.. তবে ভাবার বিষয় হলো মেয়েটা নিচের ভাড়াটিয়ার রুম এ ঢুকলো কেন..?? এই বাসাতো আমাদের… নিচের তালাই এক পরিবার ভাড়া থাকে… ওপর তালাই আমি, বাবা-মা,আর আমার ছোট বোন থাকি… নিচ তলা ভাড়াটিয়াদের দেওয়া হয়েছে কারণ উপর তলাই ভাড়াটিয়াদের জিনিস পত্র তোলতে যামেলা হই… সেই জন্য ভাড়াটিয়াদের নিচ তলা ভাড়া দেওয়া হই…আমার জানা মতেতো কোন মেয়ে নিচ তলাই থাকে না.. আমি এত না ভেবে বাজারে চলে গেলা…
বিকেলে ছাদে বসে গিটার বাজাচ্ছি… গান শেষ করে পাশে তাকিয়ে দেখি সেই মেয়ে দাড়িয়ে আছে..
–আপনার গানের গলাতো খুব সুন্দর(মেয়ে)
–ধন্যবাদ..(আমি)
–আসলে আমি সেইদিনের আচরণের জন্য দুঃখীত (মেয়ে)
–It’s ok..আমারই একটু সাবধানে চলা উচিত ছিল..(আমি)
–সেইদিন আমার মেজাজ খারাপ ছিলো তাই ওমন আচরণ করেছিলাম…by the way আমি বৃষ্টি …(হাত বাড়িয়ে)
–আমি রাতুল..আমি অনার্স ২য় বর্ষ… আপনাকেতো আমাদের ভাসির্টিতেই দেখলাম.. আপ্নি কোন বর্ষ??
–আমি ১ম বর্ষ.. (বৃষ্টি)
–আপনাকেতো এর আগে নিচে কখনো দেখিনি??
–আসলে আমি নানি বাড়ি থেকে পড়াশোনা করতাম..এইবার এখানে ভাসির্টি ভর্তি হয়েছি..
–ও তাহলে আমরা এখন থেকে ফ্রেন্ড??
–ok..we are now friend….
দুইদিন পরে সকালে আম্মু ঘুম থেকে ডাকছে..
–রাতুল তারাতাড়ি উঠ বাবা.মেয়েটা কখন থেকে এসে বসে আছে..(আম্মু)
–আর একটু আম্মু.. আর একটু ঘুমিয়ে নি প্লিজ…(আমি)
–না.. এখনি তারাতাড়ি উঠ…নাহলে তোর আব্বুকে ডাকছি…(আম্মু)
–এইতো উঠে গেছি আব্বু কে ডাকা লাগবে না..(আমি আবার আব্বুকে খুব ভয় পাই)
এখন আমি বৃষ্টি এক সাথেই থাকি প্রায় সময়..একসাথে ভাসির্টি যাওয়া-আসা.. বিকেলে ছাদে বসে আড্ডা দেওয়া…এর ভিতর কখন যে আমাদের মন আদান-প্রদান হয়ে গেছে আমরা নিজেই যানি না….তকে আমরা কেউ কাউকে কখনো বলিনি যে ভালোবাসি…
রাতে আব্বু আম্মুর সাথে খেতে বসে আব্বুর কথা শুনেতো আমি অবাক..
–রাতুল আমি আর তোর আম্মু একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি(আম্মু)
–কি সিদ্ধান্ত আব্বু(আমি)
–আমরা জানি যে তুই কখনো আমাদের মতের বাইরে যাবি না..তাই আমরা ও কথা পাকা করে দিয়েছি..(আম্মু)
–কি সিদ্ধান্ত?? কিসের কথা পাকা করেছো??(আমি)
–সামনে শুক্রবার তোর বিয়ে.. (আব্বু)
–মানে??(আমি অবাক হয়ে)
–মানে আবার কি..সামনে শুক্রবার তোর বিয়ে..তোর ফ্রেন্ডদের দাওয়াত দিস..(আব্বু)
–আব্বু আমি এখন বিয়ে করতে চাই না..(আমি)
–যেইটা বললাম মনে থাকে যেন..(বলেই আব্বু উঠে চলে গেল)
আমি এখন কি করবো.. খুব চিন্তাই পরে গেলাম..আমি বৃষ্টিকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না..আমি বৃষ্টিকে ভালোবাসি..কিন্তু এখনো যানি না যে বৃষ্টি আমাকে ভালোবাসে কিনা.. .বিকেলে আমি বৃষ্টিকে ছাদে ডাকলাম..
–কি হলো আমাকে ডাকলে কেন??( বৃষ্টি)
–আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করেছে..😭(আমি)
–ভালোতো বিয়ে করে নেউ..অনেক দিন বিয়ে খাওয়া হইনি..( বৃষ্টি)
–কিন্তু আমি যে তোমাকে ভালোবাসি..(আমি)
–আমিতো ভালোবাসি না..আর তোমার আব্বু আম্মু যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাহলে অবশ্যই খারাপ সিদ্ধান্ত নেবেন না৷ তারা সবসময় তোমার ভালো চাইবে.আমি এখন যাই.. আমার অনেক কাজ আছে( বৃষ্টি ছাদে থেকে নেমে গেল)
আমি কি করবো এখন.. যাকে ভালোবাসি সেই বলে কিনা বিয়ে করে নিতে… আমি ও রাগে রাগে বিয়েতে রাজি হিয়ে গেলাম..আর কখনো আব্বুর কথার অমত হইনি এখনো হলাম না..
দেখতে দেখতে বিয়ের দিনের আর এক দিন বাকি… এখন মনে হচ্ছে রাজি হয়ে ভুল করেছি.. আমি স্ত্রী হিসেবে বৃষ্টিকে ছাড়া অন্য কাউকে মানতে পারবো না..আমি বৃষ্টির বাড়িতে গেলাম কিন্তু বাড়িতে দেখছি তালা দেওয়া..আম্মু জিজ্ঞেস করতে আমি বলে..
–আম্মু বৃষ্টিদের বাড়িতে তালা দেওয়া দেখলাম.. ওরা কি বাড়িতে নেই??(আমি)
— বৃষ্টির নানু নাকি অসুস্থ তাই তাকে দেখতে গেছে সবাই..(আম্মু ও চলে গেলো)
আমি বার বার বৃষ্টির নাম্বারে ফোন দিচ্ছি বাট ফোন সুইচ অফ বলছে..আমি ভাবছি আব্বুকে বলদি যে আব্বু আমি এই বিয়ে করতে পারবো না। আমি বৃষ্টিকে ভালোবাসি..কিন্তু ভয় হচ্ছে যদি আব্বু আমার ওপর রেগে যাই..রাতে আম্মুকে বলতে গেলাম কিন্তু আম্মু না শুনেই চলে গেলো..
আমি চিন্তা করতে করতেই বিয়েটা হয়ে গেলো…আব্বু আম্মুকেও বলার সাহস পেলাম না..আর বৃষ্টির সাথেতো যোগাযোগ করতেই পারিনি..
বিয়ের দিন রাতে।। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি.. আব্বু আসে বলে গেল বউ ঘরে একলা বসে আছে তুই তারাতারি ঘরে যা.. আমার বন্ধুরাও সবাই একেকটা হারামি..আমি মরছি আমরা চিন্তাই আর সালারা আমাকে জোড় করে ভিতরে ঢুকিয়ে দিল..
ভিতরে গিয়ে দেখি বউ আমার ঘুমটা দিয়ে বসে আছে..আমি কাছে জেতেই আমাকে সালাম করলো..আমি তাকে দার করিয়ে ঘুমটা সরাতেই আমি আবাক হয়ে গেলাম..এ আমি কাকে দেখছি..(বিয়ের সময় একবারও বউ দেখিনি..) বউ সেজে আছে সয়ং বৃষ্টি.. আমার প্রথম carsh, আমার প্রথম ভালোবাসা..
–তুমি এখানে??(আমি)
–তো অন্য কাওকে ভেবেছিলেন??( বৃষ্টি)
–তুমি এখানে কিভাবে??? তুমিনা তোমার নানি বাড়িতে ছিলে???(আমি)
–হ্যা, ওখানেই ছিলাম..ওখান থেকেইতো আমাদের বিয়ে হলো.( বৃষ্টি)
–মানে??? আমি কিছু বুজলাম না..(আমি)
–আসলে তোমার বিয়ে আমার সাথে ঠিক হয়েছিল..কিন্তু তোমাকে সারপ্রাইজ দেব বলে বলতে নিষেধ করেছিলাম….তুমি আমাকে ভালোবাসো কিন্তু বলতে পারোনি..আমিও কখনো বলতে পারিনি..তাই আমার আব্বু আম্মুকে তোমার আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে বিয়ে ঠিক করেছি…তুমি কি রাগ করেছো??( বৃষ্টি)
–না, আমি আজ খুব খুশি৷ .. আমার ভালোবাসার মানুষটা আজ সমাজিক ভাবে আমার হলো..(আমি)
–তুমি কিন্তু এখনো আমাকে প্রপোজ করোনি..
আমি বৃষ্টির সামনে হাটু গেড়ে বসে বললাম..
— তুমি কি আমার প্রতিদিন বিকেলে গল্প করার সাথী হবা?? রোজ রাতে ছাদে বসে তারা গোনার পাশে থাকবা??? তুমি কি আমার হাশিগুলোর কারণ হবা?? কথা দিচ্ছি কখনো দুঃখ পেতে দেবনা…
I love You Bisty
Do u love me??
— i love u too pagol. (বলে জড়িয়ে ধর)
–শুধু তোমার পাগল..
— কখনো ছেড়ে যাবানা তো??
–জীবন থাকতে না..