ম্যাডামের সাথে প্রেম

আম্মু: আলামিন আলামিন ওঠ বাবা,দেখ কত সকাল হয়েছে কলেজ যাবি না??

আমি: এইতো মা আর মাত্র ১০ মিনিট ।তারপর আমার মনে হলো বৃষ্টি হচ্ছে আমি বিছানা থেকে ওঠে দেখি না। আমার আম্মু আমার ওপর পানি ঢেলে দিছে। আমি আম্মু কে জিজ্ঞাসা করলাম এটা কী হলো?

আম্মু: ওঠ বলছি না হলে আরেক বালতি ঢেলে দিব কিন্তু । যা ফ্রেশ হয় আয়।

আমি : আচ্ছা যাচ্ছি।
( ওহ আপনাদের তো আমার পরিচয় দেই আমি আল আমিন ইসলাম। আমি ইন্টার ২য় বর্ষে পরি। আমরা দুই ভাই। আপনাদের সাথে কথা বলতে ভুলেই গেছি আমার কলেজ যেতে হবে। )

আব্বু: Good Morning আলামিন

আমি: Good Morning আব্বু
আব্বু দেখি মুচকি মুচকি হাসছে । আমি আববুকে বললাম আব্বুও তুমি ও হাসছো

আব্বু: কী করবো বল তোর আবস্থা দেখে হাসি আসছে

আমি: হ্যা হাসো( বিরক্তি নিয়ে ) আচ্ছা আব্বু তুমি আম্মুর সাথে কীভাবে থাকো 😂
আসতে বল আবার শুনতে পাবে।
পিছনে আম্মু বলে ওঠলো কী শুনবো?

আমি: আরে আমি বলছিলাম তুমি কত ভালো আমারে কত আদর করো হিহিহি

আম্মু: হয়েছে আমাকে আর মন ভোলাতে হবে না তারাতারি নাস্তা করে কলেজ যা।

আমি: যাচ্ছি।

আম্মু: আচ্ছা দেখে যাস।

আমি : আচ্ছা।
আমি বাসা থেকে বের হয়ে মিশালকে কল করলাম।

আমি: হ্যালো মিশাল কই তুই??

মিশাল: আমি তো কলেজের সামনে তুই কই ??

আমি: সালা তুই আমাকে রেখে চলে গেলি ??

মিশাল: আচ্ছা sorry তুই কলেজ এ আয় কোর সাথে তখন কথা বলবো।

আমি: ওকে।
১৫ মিনিট হাটার পর আমি কলেজ এ আসলাম। আসার পর দেখি মিশাল আর বাকি সবাই বসে আছে।

মিশাল:তাহলে আসছেন আপনি মহারাজ??

আমি: হারামখোর তুই আমাকে রেখে এসে পরছিস।

মিশাল: কী করবো বল তোর তো ৮ টার আগে ষুম ঙাজ্ঞে না তাই আর তোকে ফোন দেই নাই।

আমি: আচ্ছা কালকে কল করবি কিন্তু।

মিশাল: আচ্ছা।

আমি আমার বন্ধু দের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম এমন সময় আমার চোখ গেটে আটকে গেলো আমি মনে হয় কোনো পরিকে দেখলাম…তার কী সুন্দর চুল টানাটানা দুটি চোখ এক কথায় বলা যায় আমি ঐ মেয়ের প্রেমে পরে গেছি। আমি মিশালকে বললাম কেরে মেয়েটা ?

মিশাল: চিনি নারে প্রথম দেখলাম।

আমি: আচ্ছা
ভাগ্য ক্রমে মেয়েটা আমাদের কাছে আসলো বললো প্রিন্সিপালের রুম টা কোন দিকে?

আমি: সামনে গেলে বামে একটা রুম পাবেন ঐটাই ।
মেয়েটা আমাকে বললো ধন্যবাদ ও চলে গেলো প্রিন্সিপালের রুমের দিকে। আমি মুগ্ধ নয়নে তার যাওয়ার দিকে চেয়ে আছি।
একটু পরে মিশাল বললো

মিশাল: কিরে আলামিন ক্লাসে যাবি না চল অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।

আমি: আচ্ছা চল
আমি প্রথম ক্লাস করার পর প্রিন্সিপাল স্যার আসলেন এবং বললেন বাচ্চারা ইনি হচ্ছেন মিস:নীলিমা ইনি তোমাদের কে বাংলা পরাবেন।

আমি তো প্রিন্সিপাল স্যারের কথা শোনার পর অবাক হয়ে গেলাম শেষমেশ ম্যাডামের প্রেমে পড়লাম।
তারপর সে আমাদের ক্লাস নেয়া শুরু করলেন । আমি ক্লাস বাদ দিয়ে শুধু তাকেই দেখলাম। তার কন্ঠ এত মধুর যে তার কন্ঠের ওপর আবার আমি ক্রাস খাইলাম।
সেই দিনের মতো কলেজ শেষ করে বাইরে এসে দেখলাম ম্যাম মানে নীলিমা রিক্সার জন্য দাড়িয়ে আছে আমি পিছনে থেকে

আমি: আসসালামু আলাইকুম।

ম্যাম: ওয়ালাইকুম আসল্লাম।

আমি:কেমন আছেন ম্যাডাম?

ম্যাম: ভালো,তুমি?

আমি: ভালো, ম্যাম কোথায় যাবেন ?
ম্যাম যা বললো তা শোনার জন্য আমি প্রস্তত ছিলাম না

আমি: ভালো, ম্যাম কোথায় যাবেন ?
ম্যাম যা বললো তা শোনার জন্য আমি প্রস্তত ছিলাম না

ম্যাম: আমি সামনেই যাবো ।আমি এই জায়গায় যোগ দেয়ার আগে একটা বাসা ভাড়া নিয়েছি। তারপর ম্যাম জায়গাটার নাম বললো।

আমি: জায়গার নাম শুনে আমার লুজ্ঞি ড্যান্স দেয়ার ইচ্ছা হচ্ছিল ।কারণ জায়গাটা আমাদের বসার সামনের ফ্লাটে।

ম্যাম: তুমি কোথায় যাবে?

আমি: ম্যাম আমি আপনি যে জায়গায় যাবেন আমিও ঐ জায়গায় যাব ।আপনার সামনের বাসার পাশেই আমার বাসা।

ম্যাম: ও তাহলে চলো আমার সাথেই যাই।

আমি রিক্সা ডাক দিলাম।আমরা দুই জন পাশাপাশি বসলাম। আমার খুশিতে লুজ্ঞি ড্যান্স দেয়ার অবস্থা।

ম্যাম: আচ্ছা তোমার বাসায় কে কে আছে??

আমি: আমি,আমার আব্বু আছে, আমার আম্মু আছে , আর আমার এক ছোট ভাই আছে।
আমি ম্যামকে প্রশ্ন করলাম

আমি: ম্যাম আপনার বাসায় কে আছে?

ম্যাম: আমার বাসায় আমি আর আমার মা আছে।

আমি: আপনার বাবা??

ম্যাম: সে কয়েক বছর আগে এক দুর্টনায় মারা গেছে

আমি: ওহ sorry
তখন আমি তার দিকে একটু তাকালাম।তখন তাকে দেখতে অনেক মায়াবি দেখতে লাগলো। দেখতে দেখতে আমরা বাসার সামনে এসে গেলাম। আমি রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিতে যাব কিন্তু ম্যাম আমাকে ভাড়া দিতে দিবে না তাও আমি দিলাম।
ম্যামকে আমি বিদায় জানিয়ে বাসায় আসলাম। আসার পর আম্মু দরজা খুলে দিলো। দরজা খুলে দেয়ার পর আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম।

আম্মু: কীরে সূর্য কোন দিক দিয়ে উদিত হয়েছে? আজকে আমাকে হঠাৎ এত আদর করার কারণ কী?? টাকা শেষ নাকি??

আমি: আরে আম্মু আমি কী তোমাকে টাকার জন্যই আদর করি অন্য কিছুর জন্য আদর করি না কী( আহ্লাদি সুরে)

আম্মু : তা না কিন্তু আজকে একটু বেশিই আদর করছিস , কাহিনীটা কী?

আমি: তোমার ছেলে প্রেমে পরেছে ( আস্তে আস্তে বললাম)

আম্মু: কী বললি ??

আমি: কী বলব কিছুই বলি নাই । (আমতা আমতা করে)

আম্মু: না আমি মনে হয় কী শুনলাম ।

আমি: আরে না আম্মু কিছুই না।

আম্মু: যা ফ্রেশ হয়ে আয় খেতে দেই তোকে দুপুর অনেক হয়ছে।

আমি: আচ্ছা।
আমি ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসলাম খাওয়া শেষ করে। আমি লম্বা একটা ঘুম দিলাম।
ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙলো দেখি মিশাল কল করছে । আমি ফোন ধরলাম

আমি: হ্যালো।

মিশাল: হারামি কই তুই কয়টা বাজে দেখছিস ? মনে নাই আজকে আমাদের ক্রিকেট খেলার কথা। ( ধমক দিয়ে)

আমি: ও আচ্ছা আমি অাসছি ৫ মিনিট।
৫ মিনিট পর আমি মাঠে গেলাম মাঠ টা ছিল ম্যামের বাসার সামনে।

মিশাল: আসছিস। আরেকটু হলে তো খেলাটা শুরু হয়ে যেত ।

আমি: হয়নি তো চল শুরু করি।
আমরা ব্যাটিং নিলাম। এবং আমরা ম্যাচটা জিতলাম। আমরা হৈ চৈ করতে করতে আসছিলাম। আমি ওপরে তাকিয়ে দেখলাম ম্যাম আমার দিকে তাকে মুচকি মুচকি হাসছে।তারপর বাসায় এসে একটু পরতে বসলাম তারপর রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পরলাম।

সকালে

আম্মু: আলামিন ওঠ কলেজ যাবি না।

আমি: আম্মু যাব তো একটু পরে আরেকটু ঘুমাই ?

আম্মু: আমি কী আমার লাঠি টা আনবো ?

আমি: না না।
আমি তারাতারি করে তৈরি হয়ে কলেজ চলে আসলাম।

মিশাল: কীরে আজকে এত তারাতারি আসলি ?

আমি: হুম আসলাম কেন আসতে পারি না।

মিশাল: তা না তুইতো এত তারাতারি আসিস না তাই বললাম।
আমি মিশালের সাথে কথা বলতে বলতে চোখ গেল আমার কলেজ গেট আমি যা দেখলাম আমার চোখ কপালে উঠে গেছে। আমি মিশাল কে জিজ্ঞাস করলাম

আমি: মিশাল আমি যা দেখছি তুই ও কী তাই দেখছিস?

মিশাল: তা না তুইতো এত তারাতারি আসিস না তাই বললাম।
আমি মিশালের সাথে কথা বলতে বলতে চোখ গেল আমার কলেজ গেট আমি যা দেখলাম আমার চোখ কপালে উঠে গেছে। আমি মিশাল কে জিজ্ঞাস করলাম

আমি: মিশাল আমি যা দেখছি তুই ও কী তাই দেখছিস?
আমি দেখলাম ম্যাম ( নীলিমা) একটা খুবই সুন্দর দেখতে কালো রঙের শাড়ি পরেছে ।
আর চোখে একটু কাজল দিয়েছে। দেখতে ম্যামকে অনেক সুন্দর লাগছে। মনে হয় আকাশ থেকে কোনো পরি পৃথিবীতে চলে এসেছে। তখন আমি ম্যামকে দেখে আবার ক্রাশ খাইলাম।

মিশাল: ম্যাম কে দেখেছিস কত সুন্দর দেখা যাচ্ছে।

আমি: হুম। আবার নজর দিস না ভাবি লাগে তোর ।

মিশাল: ওহ তাই। আচ্ছা ক্লাস এ যাই ।

আমি: চল যাই।
ক্লাস শেষ করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম কলেজ ক্যামপাস এ। তখন দেখি লীলিমা কলেজ থেকে বের হয়েছে ।বাসায় যাওয়ার জন্য। তো আমিও আমার বন্ধুদেরকে বিদায় জানিয়ে আসলাম।
আমি আসলাম গেটের সামনে দেখি ম্যাম রিক্সার জন্য দাড়িয়ে আছে। আমি পাশে গিয়ে দাড়ালাম।

আমি: রিক্সা পেয়েছেন?
ম্যাম আমার দিকে তাকিয়ে

ম্যাম: ওহ আল আমীন। না এখন ও তো পেলাম না।

আমি: আচ্ছা তাহলে আমরা আর কিচ্ছু ক্ষন দেখি। যদি আমরা রিক্সা না পাই তাহলে হেটে যাবো।

ম্যাম: আচ্ছা।

তারপর অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর ও রিক্সা পেলাম না তাই আমি ম্যাডামকে বললাম

আমি: ম্যাম চলেন হেটে যাই মনে হয় রিক্সা পাবো না।

ম্যাম: হ্যা চল যাই।

আমি আর ম্যাম নিশ্বদে হেটে যাচ্ছি । তখন ম্যাম বলে ওঠলো আচ্ছা

ম্যাম: আল আমীন তোমার কী বৃষ্টি পছন্দ ??

আমি: ম্যাম কেন??

ম্যাম: দেখছো না আকাশটা কত মেঘলা, মনে হয় একটু পরেই বৃষ্টি নামবে…

ম্যাম এই কথা বলার কিচ্ছুক্ষন পরই বৃষ্টি নেমে পরল। বৃষ্টি নামার পর যখন সবাই বৃষ্টি থেকে বাচার চেষ্টা করছে। ম্যাম তখন বৃষ্টিতে ভিজছে। তখন ম্যামকে দেখে মনে হলো কোনো বাচ্চা বৃষ্টিতে খেলছে। আমি আর কী করবো আমি ও ম্যামের সাথে ভিজতে থাকলাম। তারপর ম্যামকে তার বাসার সামনে দিয়ে আমি ভিজতে ভিজতে বাসায় চলে আসলাম।

আম্মু: কীরে বৃষ্টিতে তো একে বারে ভিজেগেছিস। এখন যদি জ্বর আসে তখন কী করবি??

আমি: আরে আম্মু আসবে না জ্বর ।

আম্মু: আচ্ছা যা জামা কাপড় প্লাটে আয় খেতে দেই।

আমি: আচ্ছা ।
খেতে বসেছি তখন আম্মু আমার পাশের টেবিলে বসলো

আমি: আম্মু কী কিছু বলবে?

আম্মু: হ্যা ।

আমি: কী??

আম্মু: নীল তো এখন স্কুল এ যায়। ( নীল আমার ছোট ভাই) । ওকে তো আমি ঠিক মত সময় দিতে পারি না । আর তুই ও তো বাসায় থাকিস না তাই চিন্তা করছিলাম ওর জন্য একটা ম্যাডাম রেখে দেবো। ওকে ওর পড়া গুলো শিখিয়ে দিবে।

আমি: আচ্ছা রাখো।

আম্মু: তোর জানা কোনো এমন কেউ আছে নাকি??

আমি: আছে, কিন্তু সে কী পরানোর জন্য রাজি হবে নাকি তা জানি না…

আম্মু: কে রে??

আমি: আমাদের সামনের বাসায় থাকে, আমাদের ম্যাডাম..

আম্মু: আচ্ছা

আমি আম্মুর সাথে কথা বলে ও খাওয়া দাওয়া শেষ করে লম্বা একটা ঘুম দিলাম।
ঘুম থেকে ওঠে দেখি সন্ধা হয়ে গেছে। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি কেউ দরজায় কড়া নাড়ছে ।

আম্মু আমাকে খুলতে বলল

আমি দরজা খোলার পর যা দেখলাম……

আমি আম্মুর সাথে কথা বলে ও খাওয়া দাওয়া শেষ করে লম্বা একটা ঘুম দিলাম।
ঘুম থেকে ওঠে দেখি সন্ধা হয়ে গেছে। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি কেউ দরজায় কড়া নাড়ছে ।

আম্মু আমাকে খুলতে বলল

আমি দরজা খোলার পর দেখলাম ম্যাম আমাদের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।

আম্মু: কে এসেছে রে?

আমি: ম্যাডাম এসেছে।
আম্মু দরজার সামনে আসার পর

আম্মু: ওহ নীলিমা তুমি এসেছ। আস বসো।
ওই আলামীন ওকে ঢুকতে দে। আমার আম্মুর কথায় ঘোর কাটলো। আমি ম্যাম কে ঢুকতে দিলাম।

আম্মু: নীলিমা বসো,কিছু খাবে তুমি তোমার জন্য চা আনবো?

নীলিমা : থাক আন্টি এইসব কিছু করার দরকার নেই, তা আমার ছাএ কই?

আলামীন আলিফ কে একটু নিয়ে আয় তো,আমি আলিফ কে ওর রুমে থেকে নিয়ে আসলাম। তারপর নীলিমা আলিফকে পড়ানো শুরু করলো।আমি আড় চোখে তার দিকে তাকাতাম। কারণ আলিফকে নীলিমা যে রুম এ পড়াতো তা আমার ঐ রুমটা ড্রয়িং রুমের পাশেই। তো এইভাবে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ তার চোখে আমার চোখ পরে যায়। আমি খুব লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেলি
আলিফ কে পরানো শেষে ম্যাম চলে যায় বাসা থেকে এবং আমি মুগ্ধ নয়নে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। রাতে আমার ঘুম আসে না। শুধু নীলিমার কথা মনে পরে। রাতে আমাকে একটা প্রশ্ন আমার মনের মাঝে বার বার ওকি দেয়…নীলিমা হবে তো আমার নাকি চলে যাবে অন্য কারো কাছে?? এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমের দেশে পা বাড়ালাম।

সকালে,

আম্মু: এই আলামীন ওঠ দেখ কত দেরি হয়ে গেলো কলেজ যাবি না।

আমি: আম্মু আরেকটু ঘুমাই না।

আম্মু: আমি কী আমার ঝাটা টা আনবো?

আমি এক লাফে ওঠে বললাম থাক আম্মু ঝাটা আনার দরকার নেই আমি ওঠছি।
তারপর আমি ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে কলেজ এর জন্য রওনা দিলাম। কলেজ যাওয়ার পর দেখলাম আমার কিছু হারামি বন্ধুরা কলেজ ই আছে।

মিশাল: আরে দেখ কে এসেছে ….আমাদের মজনু

আমি: ঐ শালা আমি মজনু হলাম কীভাবে রে??

মিশাল: আরে রাগ করছিস ক্যান দ্বারা আমি বলতেছি……তুই নীলিমা ম্যামের এর প্রেমে যেভাবে হাবুডবু খাচ্ছিস….তাই মনে হলো তুই মজনু…..আর নীলিমা ম্যাম। লাইলি….

আমি: তবে রে

এই বলে আমি ওর পিছনে দৌড়াতে শুরু করলাম। তারপর একটু দৌড়ানোর পর আমি আর মিশাল ক্লাসে চলে গেলাম।
তারপর কলেজ করে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়েছি কিন্তু রিক্সা পাচ্ছি না। তারপর দেখি ম্যাম চলে এসেছে। তারপর ম্যাম বললো

ম্যাম: কী মিস্টার আলামীন রিক্সা পাচ্ছো না ?

আমি: না ম্যাম….

ম্যাম: থাক মন খারাপ করতে হবে না একটা রিক্সা পেলেই আমরা এক সাথেই যাবো।

আমি: এটাই তো আমি চেয়ে ছিলাম(আস্তে আস্তে)

ম্যাম : কী কিছু বললে?

আমি: না ম্যাম।

কিচ্ছুক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর একটা রিক্সা আসলো, রিক্সা চলছে কার আপন গতিতে। রিক্সা কিচ্ছুক্ষন যাওয়ার পর

ম্যাম আমাকে একটা প্রশ্ন করলো

এই প্রশ্ন টা আমি একদম ই আশা করি নি।

কিচ্ছুক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর একটা রিক্সা আসলো, রিক্সা চলছে কার আপন গতিতে। রিক্সা কিচ্ছুক্ষন যাওয়ার পর

ম্যাম আমাকে একটা প্রশ্ন করলো

এই প্রশ্ন টা আমি একদম ই আশা করি নি।

ম্যাম: আচ্ছা তোমার কী গার্লফ্রেন্ড আছে??

আমি: কী 😱😱😱??

ম্যাম: এত অবাক হচ্ছো কেনো ছোট্ট একটা প্রশ্ন করেছি ??

আমি কী বলবো বুঝতে ছি না ম্যাম কী বললো এটা ???

ম্যাম: কী হলো বলো??

আমি: না ম্যাম নেই ।

ম্যাম: কী বলো এত বড় হয়ে গেছো এখন ও গার্লফ্রেন্ড নাই।

আমি: না ম্যাম।😇😇😇

ম্যাম:হ্যা আমাকে কেনো বলবে ??

আমি: না সত্যি বলছি আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই।

ম্যাম: জানি আমি তুমি আমাকে বলবে না।(মনে মনে)

আমি: ম্যাম কী ভাবছেন এত??

ম্যাম: না কিছু না। এই মামা রিক্সা থামান।

আমি: কেন??

ম্যাম: আমি ফুচকা খাবো।

ম্যাম একে বারে পিচ্ছি দের মতো মুখ করে কথা টা বললো ।
আমি আর না করতে পারলাম না। তারপর আমি রিক্সা থামিয়ে ফুচকার দোকানে গেলাম।
তারপর আমি আর ম্যাম ফুচকার জন্য অর্ডার দিলাম। আমরা ফুচকা খেতে থাকি।

ম্যাম: ইসস ও এতো কিউট কেন?? ওকে দেখলেই এক অদৃশ্য মায়ায় পরে যাই। ওর হাসি টা পাগল করার মতো। (মনে মনে)
আমি দেখলাম ম্যাম খাচ্ছে না তারপর আমি ম্যাম কে ডাক দিলাম।

আমি: ম্যাম খাচ্ছেন না কেন??

ম্যাম: আমার আলামীনের কথায় হুশ ফিরলো।

আমি: ম্যাম কী দেখছেন?

ম্যাম: না কিছু না।
ইসস ও কী ভাবছে আমিও না।(মনে মনে)

তারপর আমি আর ম্যাম ফুচকা খেয়ে আবার বাসায় চলে আসলাম।
বাসায় আসার পর দপুরের খাবার খেয়ে একটু বিছানায় শুয়ে ছিলাম। তখন ম্যাডামের কথাই ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
তো এই ভাবে আমাদের দিন কাল ভালোই চলছিল। তো এক দিন আম্মু বলছিল

আম্মু: আলামীন নীলিমাকে একটু কল করতো।

আমি: কেন?

আম্মু: আজকে ওর আসার সময় হয়ে গেলো এখন ও আসলো না কেনো?

আমি: কেনো তুমি কল করো?

আম্মু: আমার মোবাইল এ একটু সমস্যা হয়েছে তুই একটু কল কর না ।

আমি: আমার কাছে তো নাম্বার নেই আমি কল করবো কীভাবে?

আম্মু: আমার কাছে নাম্বার আছে।

আমি: বলো

আম্মু: ০১৭………

আমি: এই নাও রিং হচ্ছে।

আম্মু ফোন নিলো। কারপর ম্যাম কল ধরলো।

ম্যাম: হ্যালো।

আম্মু: হ্যালো, নীলিমা।

ম্যাম: হ্যা, কে বলছেন?

আম্মু: আমি আলিফের আম্মু বলছি তুমি আজকে আসছো না কেন।

ম্যাম: আসলে আন্টি আমার আম্মুর অনেক জ্বর। তার কারণে আসতে পারতে ছিনা।

আম্মু: কী বলো অনেক জ্বর নাকি??😱😱

ম্যাম: না আন্টি বেশি জ্বর নেই। ডাক্তার এসে ছিলো বাসায় ঔষুধ দিয়ে গেছে বলছে তারাতারি সুস্থ হয়ে যাবে।

আম্মু: ওহ আচ্ছা, যদি কিছুর দরকার হয় আমাকে বলো ঠিক আছে।

ম্যাম: আচ্ছা আন্টি।

আম্মু: আচ্ছা ভালো থেকো।

ম্যাম: আচ্ছা আন্টি।

আমি: কী বললো আম্মু?

আম্মু: নীলিমার মা নাকি অসুস্থ তাই আজকে আসতে পারবে না।

আমি: ওহহ আচ্ছা।

আমি মোবাইল টা নিয়ে ম্যামের নাম্বার রেখে দিলাম। রাতে কল করবো বলে।
তো আমার যে কী খুশি লাগছে ম্যামের নাম্বার পেয়েছি দেখে আমার খুশির কোনো সিমা নেই। আমি আজকে রাত্রে ম্যাম কে কল দিব। আমার যেমন খুশি লাগছে তেমন ভয় করছে ম্যাম আবার রাগ করবে না তো। এই ভাবতে ভাবতে রাত হয়ে গেলো, আমি আমার হাতে মোবাইল এ ম্যামের নাম্বার বের করে বসে আছি কল করবো কী করবো না এইটার জন্য। না কল করবো যা হবে দেখা যাবে।
আমি কল দিলাম ম্যামের মোবাইল এ।

আমি:হ্যালো।

ম্যাম: হ্যালো কে?? কী হলো কথা বলছেন না কেনো??

আমি: কেমন আছেন??(ভয়ে ভয়ে)

ম্যাম: আলামীন কেমন আছো??

আমি: অ্যা এটা কী হলো ম্যাম আমাকে চিনলো কীভাবে??(মনে মনে)

ম্যাম: কী হলো আলামীন কথা বলছো না কেন??

আমি: আচ্ছা ম্যাম আপনি আমাকে চিনলেন কীভাবে ???

ম্যাম: আমি ঘুমের ঘোরে ছিলাম তো তাই নাম্বার দেখি নাই ,আর তোমার কন্ঠ টা আমার খুব চেনা।

আমি: ওহহ তাই ?

ম্যাম: হুম।

আমি: তাহলে তো মনে হয় ঘুম নষ্ট করলাম??

ম্যাম: আরে না। সমস্যা নেই।

আমি: কী করছিলেন?

ম্যাম: আম্মুর জ্বর তো তাই আম্মুর পাশে বসেছিলাম।

আমি: আন্টি কেমন আছেন এখন ?

ম্যাম: এখন একটু ভালো আম্মুর জ্বর এখন একটু কম। তা তুমি কী করছিলে?

আমি: ম্যাম আমি একটু পর ঘুমাবো।

ম্যাম: আচ্ছা আমার ম্যাম ম্যাম শুনতে শুনতে বোর হয়ে গেছি , আমাকে নীলিমা বলে ডাকো।

আমি: কিন্তু ম্যাম আপনি আমার বড়,আমি আপনাকে কীভাবে আমি নীলিমা বলবো…??

ম্যাম: আরে বোকা তোমার থেকে বয়সে খুব একটা বড় আমি না,তো তুমি আমারে নীলিমা বলে ডাকতে পারো।

আমার তো এই কথা শোনার পর নাচতে ইচ্ছা করছে

আমি:আচ্ছা ম্যাম।

ম্যাম: কী ???

আমি: না মানে নীলিমা।

নীলিমা: হুম ঠিক আছে।

আমি: তা কালকে কী তুমি ব্যাস্ত ??

নিলীমা: না কেন??

আমি: এই একটু ঘুরতে যেতাম,তাই আর কী??

নীলিমা: ওহ বাবা তাই??

আমি: হুম (ভয়ে ভয়ে)

নীলিমা: আচ্ছা ,যাবো।

আমি: আচ্ছা, কালকে বিকাল এ যাবো।

নীলিমা: আচ্ছা এখন ঘুম আসো অনেক রাত হয়েছে।

আমি: আচ্ছা,শুভ রাত্রি।

নীলিমা: শুভ রাত্রি।

তারপর ঘুমিয়ে গেলাম। নীলিমার ঐ মুখটা আমার চোখের সামনে ভাসছে।নীলিমার কথা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম
তো আজকে শুক্রবার । অনেক গেরিতে ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভাঙার পর দেখি ১২ টা বাজে আল্লাহ আজকে না জুম্মার নামাজ পরতে হবে।

তারপর গোসল করতে গেলাম। গোসল করে মসজিদে গেলাম । জুম্মার নামাজ পরে বাসায় গেলাম। তখন খেয়ে একটা ঘুম দিলাম। ঘুম থেকে ওঠ দেখি ৪ টা বাজে। ইসস পাঠকরা আপনারা একটু ডাক দিতে পারলেন না । দেখলেন তো কত দেরি হয়ে গেলো।

তারপর আমি তৈরি হয়ে নীলিমার বাসার সামনে গেলাম। কারপর নীলিমার বাসার সামনে যাওয়ার পর নীলিমা কে কল করলাম।

আমি: হ্যালো,কই ?

নীলিমা: এই তো আমি ১০ মিনিট এ কৈরি হয়ে আসছি ,দারাও।

আমি কিচ্ছুক্ষন পর দেখি পরি আমার সামনে দাড়িয়ে আছে, থুক্কু নীলিমা আমার সামনে দাড়িয়ে আছে।

নীলিমা: কেমন লাগছে আমাকে??

আমি: অপূর্ব, আমার মনে হচ্ছে কোনো পরি আমার সামনে দাড়িয়ে আছে(আনমনে)

নীলিমা: তাই☺️☺️ (কিছুটা লজ্জা পেয়ে)। আচ্ছা চলো এখন।

আপনাদের তো বলতে ভুলে গেছি,নীলিমা আজকে একটা কালো রঙের শাড়ি পড়েছে। আর কাকতালীয় ভাবে আমি একটা কালো রঙের পাজ্ঞাবি পরিছি। যে কেউ দেখলে বলবে আমার বয়ফ্রেন্ড র্গালফ্রেন্ড।

নীলিমা: এই রকম করে শুধু তাকিয়ে থাকবে নাকি ঘুরতে যাবে??🤨🤨

আমার ওর ডাকে ঘোর কাটলো।

আমি: ওহ, হ্যা চলো।

তারপর আমি একটা রিক্সা ডাক দিলাম।
তারপর আমরা রিক্সায় ওঠলাম।

নীলিমা: আচ্ছা আমরা যাচ্ছি কোথায়?

আমি: কেন?

নীলিমা: না আমার জানতে ইচ্ছা করছে।

আমি: সারপ্রাইজ।

নীলিমা: ওহ তাই নাকি?

আমি: হুম।

তারপর আমরা একটা নদীর পার এ আসলাম। আমি রিক্সাওয়ালাকে রিক্সা থামাতে বললাম। তারপর আমি রিক্সার ভাড়া দিয়ে নামলাম।

নীলিমা: এত সুন্দর জায়গা আমি কোথায় দেখি নাই। কুমি এই জায়গার ব্যাপ্যারে জানতা ।

আমি: হুম। চলো ঐ গাছটার নিছে বসি।

নীলিমা: হুম চলো।

আমি: আচ্ছা আমার সাথে তো আসলে আমি তো তোমার ক্ষতি ও করতে পারি ।😈😈

নীলিমা: না তুমি ঐ রকম কিছু করবে না।

আমি:এত বিশ্বাস?

নীলিমা: হুম জানো আলামীন আমি যখন ছোট তখন আমার আব্বু আমাকে নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতো।

আমি: আচ্ছা থাক এগুলা নিয়ে মন খারাপ করতে হবে না। ওকে।

নীলিমা: হুম। আমি ফুচকা খাবো।

আমি: আচ্ছা চলো। মামা গুই প্লেট ফুচকা দেন তো।

তারপর ফুচকা ওয়ালা দুই প্লেট ফুচকা দিল।
আমরা ফুচকা খেলাম তারপর আমরা একটা রিক্সায় করে বাসায় চলে আসলাম।

রিক্সা থেকে নামার পর

নীলিমা: Thanks

আমি: কেন?

নীলিমা: আমাকে এই রকম একটা বিরেল উপহার দেয়ার জন্য।

আমি: আচ্ছা।

তারপর আমি আমার বাসায় ও নীলিমা ওর বাসায় চলে গেলো। বাসায় যাওয়ার পর ফ্রেশ হয়ে । পরতে বসলাম কিন্তু পরবো কিভাবে ? পড়ায়তো মনই বসে না। মন তো আমার নীলিমার কাছে। তাও বসে থাকলাম। ওর কথা কথা ভাবতে ভাবতে দেখি ১১ টা বাজে। তারপর আমি পড়ার টেবিল থেকে ওঠে রাতের খাবার খেলাম। এখন আমি নীলিমাকে কল করবো দেখি কী করে??

আমি: হ্যালো।

নীলিমা: হ্যা বলো ,এত রাতে কল করলা কোনো সমস্যা হয়েছে নাকী??

আমি: আরে না সমস্যা হবে কেনো?

নীলিমা: তাহলে কল করলা কেনো?

আমি: এমনেই।

নীলিমা:ওহ।

আমি: কী করো?

নীলিমা: হুমায়ন আহেমেদ এর ফিহা সমীকরন পরছি।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফিহা সমীকরন বইটি আমার সবচেয়ে প্রিয় একটা বই,পারলে পরে দেখবেন)

আমি: ভালো।

নীলিমা: রাতের খাবার খেয়েছো?

আমি: হুম তুমি?

নীলিমা: আমিও।

আমি: আন্টি কেমন আছে?

নীলিমা: আম্মু ভালো আছে, তোমার আম্মু কেমন আছে?

আমি: হুম ভালো।

নীলিমা: আচ্ছা ঘুম আসো এখন অনেক রাত হয়ে গেছে,আর কালকে কলেজ আছে কিন্তু

আমি: হুম। শুভ রাত্রি।

নীলিমা: শুভ রাত্রি।

সকালে,

আম্মু: আলামীন ঘুম থেকে ওঠ কয়টা বাজে দেখছিস ? কলেজ যাবি না??

আমি: হুম যাবো , আর একটু আম্মু ঘুমাই। (ঘুমের ঘোরে)

আম্মু: আমি আনবো আমার ঝাটা টা?

আমি: আরে আম্মু কী যে বলো না। থাক ঝাটা আনতে হবে না । আমি ওঠছি।

তারপর আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে গেলাম।

আম্মু: রাতে কী চুরি করতে যাস নাকি এত দেরি হয় কেনো ঘুম থেকে ওঠতে?

আমি: কী যে বলো না আম্মু?

আলিফ: আম্মু ভাইয়া না অনেক রাত পর্যন্ত কার সাথে যেনো কথা বলে….।

আম্মু: কী ? আলামীন কী বললো আলিফ??

আমি: আরে আম্মু আমি গানের সাথে তাল মিলিয়ে গান গাইছ্লাম হয়তো তখন ও শুনেছে ।

আম্মু: সত্যি কী তাই নাকি কোনো প্রেম করিস??

আমি: ধুর কী যে বলো না আমি প্রেম করবো, তুমি এটা বিশ্বাস করতে পারলা??

আম্মু: বলাতো যায় না।

আমি: হয়েছে ,আচ্ছা আম্মু যাই, কলেজ এর জন্য লেট হয়ে যাচ্ছে।

আম্মু: আচ্ছা সাবধানে যাস।

বাসায় থেকে বের হয়ে দেখি নীলিমা নাই , হয়তো চলে গেছে , তই আমি ও তারাতারি করে একটা রিক্সায় করে কলেজ চলে আসলাম। এসে দেখি মিশাল কলেজ এসে বসে আছে।

মিশাল: কেমন আছিস?

আমি: ভালো তুই?

মিশাল: সিনজ্ঞেলদের আবার ভালো।

আমি: আহারে চিন্তা করিস না তুই ও তোর মনের মানুষ পেয়ে যাবি।

মিশাল: হুম, আচ্ছা তোর আর ম্যামের সর্ম্পকের কী হলো ?

আমি: কী হবে আর আমি তো এখন ও বলতেই পারলাম না। 😔😔😔

মিশাল: চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে।

আমি: হুম,চল এখন ক্লাসে যাই।

মিশাল: হুম চল।

তারপর কলেজ ছুটি হওয়ার পর কলেজ গেট এসে দাড়ালাম। ১৫ মিনিট হয়ে গেলো কিন্তু নীলিমা আসলো না । আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। তারপর আমি একাই বাসায় চলে আসলাম। বাসায় আসার পর আমি নীলিমারে ম্যাসেজ করলাম

আমি: নীলিমা তুমি কী আজকে আমার সাথে দেখা করতে পারবা?

এই ম্যাসেজ দেওয়ার পর আমি ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে , শুয়ে শুয়ে গেম খেল ছিলাম। তখন একটা ম্যাসেজ আসলো ।

নীলিমা: হ্যা পারবো।

আমি: আচ্ছা আমি আজকে ৪ টার সময় তোমাদের বাসার সামনে থাকবো।

নীলিমা:আচ্ছা।

তারপর আমি কিচ্ছুক্ষন আমার বন্ধুদের সাথে কথা বলার পর আমি দেখলাম ৪ টা বাজতে ৫ মিনিট আছে।

আমি: Oh shit.

তারপর আমি তারাতারি তৈরি হয়ে নীলিমার বাসার সামনে গেলাম। তারপর আমি নীলিমাকে কল করলাম।

আমি: হ্যালো।

নীলিমা: হ্যা আসছি, তুমি একটু দাড়াও?

আমি: আচ্ছা।

তার কিচ্ছুক্ষন পর নীলিমা আসলো , নীলিমাকে দেখার পর আমি বড় সড় একটা ক্রাস খেলাম। নীলিমা আমার সামনে আসার পর আমাকে বলছে

নীলিমা: অ্যাই কী দেখছো??

আমি: কী যে দেখছি ঐটা আমি নিজেও জানি না। এত সুন্দর মানুষ হয় । (আন মনে)

নীলিমা: হয়েছে হয়েছে চলো এখন (হাসতে হাসতে)

আমি: হুম চলো।

আমি একটা রিক্সা ডাক দিলাম

আমি: মামা যাবেন?

রিক্সাওয়ালা: হুম যাবো।

আমি: চলেন।

রিক্সা চলছে তার আপন গতিতে ।

আমি: আজকে কলেজ ছুটি হওয়ার পর আমি তোমার জন্য দাড়িয়ে ছিলাম তুমি তখন আসলে না কেন?

নীলিমা: তুমি তো জানো আমাদের কলেজ এ ম্যাধমিক প্রথম বর্ষের ছেলে মেয়ে আসবে, ওই প্রথম বর্ষের ছেলে মেয়ে দের জন্য একটা মিটিং ছিল, তাই একটু লেট হয়েছে।

আমি: হুম ভালো।

তারপর আমরা এক পার্ক এসে থামলাম।
রিক্সার ভাড়া দিয়ে আমরা পার্কের ভেতর গেলাম। আমরা একটা খালি জায়গায় বসলাম।

বসার পর আমি দেখলাম এক বৃদ্ধ তার স্ত্রী র সাথে বসে আছে ।

আমি: কী সুন্দর তাই না?

নীলিমা: কী সুন্দর?

আমি: ঐ যে আমাদের সামনে এত সুন্দর একটা জুটি বসে আছে,ঐ টা?

নীলিমা: আচ্ছা, ঐ জুটিতে কী সুন্দর দেখলে?

আমি: ঐ জুটিতে সুন্দর হলো, এইটাই যে তাদের এত বয়স হয়ে গেছে তাও তারা একজন আরেক জনের পাশে আছে,এর চেয়ে বেশি সুন্দর আর কী আছে।

লীলিমা: তাই।

আমি: হুম ,জানো আমার ও ইচ্ছা আছে, আমার সাথে এমন একজন থাকবে যে সারা জীবন আমার পাশে থাকবে আমার সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতে সে আমাকে ছেরে চলে যাবে না। আমার ভুল হলে সে ভুল ধরিয়ে দেবে , আমার সাথে বসে রাতে চাঁদ দেখবে। আরো অনেক ইচ্ছা আছে।

নীলিমা: তা পেয়েছো এমন কাউকে?

আমি: না, এখন পাই নি।

নীলিমা: সমস্যা নেই পেয়ে যাবে।

আমি: হুম দোয়া করো।

নীলিমা: হুম, চলো একটু হাটি ।

আমি: চলো।

আমি আর নীলিমা পাশাপাশি হাটছি, হঠাৎ আমাদের সামনে একটা আইসক্রিমের দোকান আসলো ,

নীলিমা: আমি আইসক্রিম খাবো।(বাচ্চাদের মতো করে)

আমি: আচ্ছা,চলো।
তারপর আমি আর নীলিমা দুইটা আইসক্রিম কিনলাম।
নীলিমা একে বারে বাচ্চাদের মতো করে খাচ্ছে,নীলিমার গালে মুখে লেগে একে বারে বাচ্চার মতো লাগছে।
আমি দেখছি আর হাসছি।

নীলিমা: এই হাসো ক্যান??

তারপর আমি আমার মোবাইল বের করে ওর একটা পিক তুললাম,তারপর আমি ওকে দেখালাম।

নীলিমা: এই পিক এখনি ডিলিট করো।

আমি: করবো না কী করবে?

তারপর শুরু হলো অত্যাচার। আমার বুকে ঘুষি মারতে মারতে আমার বুক ব্যাথা করে ফেললো।

আমি: আচ্ছা, আমি এখনি ডিলিট করছি।

নীলিমা: হুম করো।

তারপর আমি আর নীলিমা হাটছি এমন সময় নীলিমার কাছে একটা কল আসলো। নীলিমা কল ধরার পর কিচ্ছুক্ষন পর নীলিমা তার হাত থেকে মোবাইল ফেলে দিল।

আমি: কী হয়েছে নীলিমা?

নীলিমা: আমার দাদু আজকে মারা গেছে আমাকে এখন গ্রামের বাড়ি শেতে হবে।😭

আমি: আন্টি কই?

নীলিমা: আম্মু সব রেডি করে ফেলেছে,আম্মু আমাকে এখন বাস টার্মিনাল এ যেতে বলেছে।

আমি: আচ্ছা চলো আমিও যাবো।

তারপর আমি আর নীলিমা বাস টার্মিনাল এ গেলাম । দেখি আন্টি দাড়িয়ে আছে। নীলিমার চোখের কোনে জল গড়িয়ে পরছে একটু হলেই পরবে।

আমি: আন্টি আর দেরি করা ঠিক হবে না বাস ছেরে দিবে। আপনারা যান।

আন্টি : আচ্ছা বাবা, তুমিও সাবধানে যেও।

আমি: আচ্ছা।

তারপর আমি নীলিমাদের বাস এ উঠ্য়ে দিয়ে বাসায় চলে, আসলাম।

বাসায় এসে দেখলাম…..

বাসায় আসার পর বেল বাজ্জাচ্ছি কিন্তু দরজা খুলছে না,আরো দুই বার বাজানোর পর দরজা খুলার পর কেউ আমাকে দেখি জরিয়ে ধরেছে। আমি তাকিয়ে দেখি নিশু, নিশু হলো আমার চাচাতো বোন,

নিশু: কীরে ভাইয়া তুই আমাকে ভুলে গেছিস নাকি?

আমি: আরে কী বলিস তোকে আমি ভুলতে পারি , এখন ঢুকতে দে??

নিশু: না আগে চকলেট দিতে হবে ঘরে ঢুকতে চাইলে….

আমি: আরে আমি তো জানতাম না তুই আসবি ১৭জানলে চকলেট নিয় আসতাম।পরের বার নিয়ে আসবো। ঠিক আছে।

নিশু: হুম মনে থাকে যেন।

আমি: হুম থাকবে।

নিশু: হুম আসো।

তারপর আমি আমার রুমে গেলাম । তারপর ফ্রেশ হলাম। রাতে খাবার সময়

আম্মু: আলামীন এখন থেকে নিশু আমাদের সাথে থাকবে , আর ও তোদের কলেজ এ পরবে।

আমি: আচ্ছা ঠিক আছে।

তারপর আমি রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে শুয়ে নীলিমার কথা ভাবতে লাগলাম, তখন আমার মনে হলো নীলিমাকে কল করা উচিত, না থাক ও এখন ওকে কল করা ঠিক হবে না। তাই আমি নীলিমাকে কল না করে ওর কথা ভাবতে লাগলাম, ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে আমি কলেজ এ গেলাম। আজকে কলেজটা অনেক ফাকা ফাকা লাগতেছে, কারণ আজকে আমার নীলিমা নেই, তাই আমার এত ভালো লাগছে না। তাও কোনো রকমে কলেজ শেষ দিয়ে বাসায় আসলাম। বাসায় আসার পর ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে
ঘরে বসে আছি, তখন মিশাল কল করলো

মিশাল: আলামীন কই তুই??

আমি: আমি তো বাসায়। কেন কী হয়েছে??

মিশাল : আজকে ক্রিকেট খেলবি না?

আমি: না রে দোস্ত ভালো লাগছে না?

মিশাল: আমি কিচ্ছু জানি না , তোকে আসতে হবে আমি বাসায় আসছি তুই থাক।

আমি: হুম, আয়।

মিশাল আমাদের বাসার দড়জার সামনে এসে কলিং বেল বাজ্জাচ্ছে।

আম্মু: নিশু দেখতো কে এসেছে?

নিশু: হুম দেখছি।

নিশু দরজা খোলার পর ,

নিশু: কাকে চাই?

মিশাল নিশুর দিকে তাকিয়ে আছে হা করে

নিশু: কী দেখেন হা করে কখনো মেয়ে দেখেন নাই?

মিশাল: হুম মেয়ে দেখেছি কিন্তু পরি দেখি নাই।(আনমনে)

নিশু: ওহ তাই।(হাসি দিয়ে)

মিশাল: হুম। আলামীন আছে ।

নিশু: হুম ঘরে।

মিশাল আমার রুমে আসলো

মিশাল: মেয়ে টা কেরে ?

আমি: কেন?

মিশাল: আগে বল না , প্লিজ।

আমি: মেয়েটা হলো নিশু আমার বড় চাচার মেয়ে। কেন প্রেমে পরলি নাকি ??

মিশাল: হুম প্রেমেই পরছি। (আনমনে)

আমি: কী বললি।

মিশাল: ন…না কিছু না। (আমতা আমতা করে)

আমি: হুম হয়েছে বুঝতে পারছি।

মিশাল: বুঝেই যখন গেছিস তাহলে একটু সাহায্য কর না প্লিজ।

আমি: আচ্ছা দেখি কী করা যায়।

মিশাল: হুম চল এখন চল দেখি এখন কী করা যায়।

তারপর আমি আর মিশাল খেলতে চলে গেলাম। খেলা শেষ করে রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পরলাম। শুয়ে শুয়ে ওর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম।

সকালে
ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে কলেজ গেলাম। ক্লাস করে বাসায় এসে পরলাম। তারপর আম্মু ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে বললো।
আমি খাবার খেয়ে আমার রুমে শুয়ে আছি তখন নিশু রুমে আসলো,

নিশু: ভাইয়া আমি একটু শপিং যাবো, চল না যাই।

আমি: আচ্ছা, চল।

তারপর আমি মিশালকে কল করলাম,

আমি: হ্যালো, মিশাল।

মিশাল: হুম বল ।

আমি: একটু শপিং এ যাবো আয় তো।

মিশাল: আচ্ছা দাড়া আসছি।

তারপর মিশাল বাড়ির সামনে এসে আমাকে কল করলো,

মিশাল : কই তুই?

আমি: আসছি দাড়া।

আমি: নিশু তুই তৈরি হয়েছিস।

নিশু: হুম ভাইয়া চল।

গেটের সামনে আসার পর দেখি মিশাল নিশুর দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে।
আর নিশুও।

আমি ছোট একটা কাশি দিলাম। মিশাল আর নিশুর ঘোর কাটার পর

মিশাল: এত দেরি হয় আসতে, আর আমি তো মনে করছিলাম তুই একা যাবি। তাই মোটর সাইকেল নিয়ে আসলাম।

আমি: আচ্ছা কোনো সমস্যা নেই।

তারপর আমি আর নিশু একটা রিক্সায় করে শপিং মলে চলে গেলাম। আর মিশাল আমাদের পেছন পেছন আসছে।

আমি আর নিশু শপিং মলে চলে আসলাম তারপর আমি নিশু আর মিশাল শপিং করলাম। তারপর আমি মিশাল কে বললাম তুই ওর সাথে থাক আমি আসছি। তারপর আমি নিশু জন্য চকলেট আর নীলিমার জন্য একটা নীল শাড়ি কিনলাম। তারপর আমি নিশুর কাছে গেলাম। নিশুকে চকলেট দিলাম। চকলেট দেয়ার সাথে সাথে সাথে নিশু আমারে জরিয়ে ধরলো

নিশু: থ্যাংস ভাইয়া।

আমি ও নিশুকে জরিয়ে ধরলাম।
তখন আমার মনে হলো আমি নীলিমাকে দেখলাম। কিন্তু ভালোভাবে দেখার আগেই চলো গেলো। আমিও মনে মনে বললাম নীলিমা তো ওর গ্রামের বাড়ি ও এখানে আসবে কী করে । আমি হয়তো ভুল করেছি। তাই আর ঐ বিষয় নিয়ে ভাবলাম না। কারপর আমি মিশালকে বললাম তুই নিশু কে নিয়ে বাসায় যা আমি আসছি আমার কিছু কাজ আছে। মিশাল খুব খুশি হয়েছে আমার কথা শুনে ওকে দেখলেই বুঝা যাচ্ছে।

মিশাল:ওকে তুই আয়।

তারপর মিশাল আর নিশু শপিং মল থেকে চলে গেলো। যাওয়ার পর,

মিশাল : বসো ভালোভাবে ধরো না হলে পরে যাবে।(হাসতে হাসতে)

নিশু: এহহ চলেন।

নিশু বাইকে ওঠার পর মিশাল বাইক চালানো শুরু করলো।

মিশাল যত স্পিড বাড়াচ্ছে নিশু তত ওকে জরিয় ধরছে । তাই ও অনেক স্পিড এ বাইক চালাতে শুরু করলো, নিশু কোনো উপায় না পেয়ে ওকে শক্ত জরিয়ে ধরলো।
তারপর মিশাল আর নিশু বাসায় চলে আসলো।বাসার সামনে আসার পর

নিশু: এখন থেকে এত জুরে বাইক চালাবেন না।

মিশাল: ওকে ।

তারপর মিশাল স্পিড এ বাইক স্টার্ট দিয়ে সামনে চলে যায়। কিন্তু নিশু হঠাৎ মিশালকে পেছন থেকে ডাক দেয় ।মিশাল নিশুর ডাক শুনে খুব তারাতারি ব্রেক করার করানে মিশাল বাইকের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে ,তখন মিশাল পরে যায়। নিশু মিশালকে পরতে দেখে তারাতারি মিশালের কাছে যায়।

নিশু: এত হার্ড ব্রেক কেউ করে। কিছু হয়ে গেলে তখন কী হতো?

মিশাল: তুমি আছো না আমার কিছু হবে না।

মিশালের হাতের অনেক জায়গায় কেটে গেছে। নিশুর রুমাল দিয়ে মিশালের কাটা জায়গা বেধে দেয়।

নিশু: আপনার নাম্বারটা দিন।

মিশাল: কেন দিব?

নিশু: দিতে বলেছি দিন।

মিশাল: ০১৯……..

নিশু: হুম দেখে যাবেন আর কোনো মেয়েদের দিকে তারাবেন না, ঠিক আছে।

আমি বাসায় এসে দেখলাম নিশু আগেই বাসায় এসে গেছে। আমি বাসায় রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম না আর গেরি করা যাবে না নীলিমাকে যখন দেখা হবে তখনই আমি বলে দিব। কারপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

তারপরের দিন ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে কলেজ চলে গেলাম। আমি তো কলেজ যাওয়ার পর অবাক হয়ে গেলাম। কারণ নীলিমা চলে এসেছে। আমি আজকে নীলিমাকে আমার মনের কথা বলবেই কাই আমি নীলিমাকে ম্যাসেজ করলাম

আমি: নীলিমা কলেজ শেষ করে আমার সাথে কলেজের পেছনে একটু দেখা করবে ?

নীলিমা: আচ্ছা।

তারপর আমি একটা ক্লাস করে বাইরে এসে পরলাম তারপর আমি একটা গোলাপ কিনলাম। তারপর ক্লাস শেষ করে নীলিমা কলেজ এ পেছনে আসলো।

নীলিমা: কী বলবা?

আমি হাটু গেড়ে ওর সামনে ফুল নিয়ে বললাম। নীলিমা আমি তোমাকে ভালো বাসি।
বলার সাথে সাথে ঠাসসসস, ঠাসসস।
দুইটা চড় মারলো। আমার কান দিয়ে মনে হয় ধুমা বের হওয়া শুরু করলো।

নীলিমা: আমি তোকে বন্ধু ভাবতাম আর তুই কী করলি? আর তুই আমাকে ভালোবাসিস তাহলে ঐ দিন ওই মেয়েকে জরিয়ে ধরেছিলি কেন? তুই কখনো আমার সামনে আসবি না আর। (রেগে)

নীলিমার এই কথা শোনার পর আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম না। আমার চোখ দিয়ে পানি পরা শুরু করলো। আমি আর ঐ জায়গায় না দাড়িয়ে ঐ খান থেকে চলে আসলাম। আর বললাম কখনো ওর সামনে যাবো না। বাসায় আসার পর আমি ঘরে শুয়ে পরলাম।

আজকে প্রায় ৪ দিন ধরে কলেজ যাই না। কিন্তু এখন নিশু প্রত্যেকদিন কলেজ যায়। একদিন নীলিমা নিশুরে ডাক দিল

নীলিমা: এই তোমাকে কোথাও দেখেছি তুমি আলামীনের গার্লফ্রেন্ড না ?

নিশু: কী বলছেন আমি আলামীনের গার্লফ্রেন্ড হতে যাবো কেন? আমি তো ওর চাচাতো বোন।

নীলিমা: তাহলে ঐ দিন যে তুমি ওকে জরিয়ে ধরেছিলে?

নিশু: আলামীন ভাইয়া আমার জন্য চকলেট নিয়ে আসছিলো তাই ভাইয়াকে জরিয়ে ধরেছিলাম।

নীলিমা: আচ্ছা আলামীন কলেজ এ আসে না কেন??

নিশু: তা তো ম্যাম জানি না ভাইয়া সারাদিন দরজা বন্ধ করে দিয়ে ঘরে বসে থাকে। আর কারো সাথে কথাও বলে না।

নীলিমা: আচ্ছা তুমি যাও।

এখন নীলিমা ওর ভুল বুঝতে পারলো। তখন ও আলামীনকে কল করলো কিন্তু আলামীনের ফোন অফ ।
এইভাবে চলে গেলো ১৫ দিন এখন আমি নিজেকে অনেক টা সামলিয়ে নিয়ছি।
আর দেখতে দেখতে আমার পরীক্ষা চলে এলো। তাই পরীক্ষার তাগিদে কলেজ গেলাম। যাওয়ার পর দেখি নীলিমা আমাকে ডাকছে কিন্তু আমি না শোনার মতো করে চলে আসলাম। পরীক্ষা দেয়ার পর তাড়াতাড়ি বের হয়ে চলে আসলাম।
এভাবে চলে গেলো ৩ দিন কিন্তু ৪ দিনের মাথায় কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় নীলিমার সাথে আমার দেখা হয়ে গেলো।

নীলিমা: আলামীন i am sorry আমি তোমাকে ভুল বুঝেছি আমাকে ক্ষমা করে দেও। আমি তোমাকে হারিয়ে বুঝেছি তুমি রী ছিলে আমার জীবনে?

আমি : আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। এখন সরেন ।

নীলিমা: আলামীন সত্যি আমি তোমার ভালোবাসা বুঝতে পারি নি। এখন আমি তোমার ভালোবাসা বুঝতে পেরেছি আমাকে তুমি আপন করে নাও।

আমি: এটা সম্ভব না।

নীলিমা: তাহলে তুমি আমার মরা মুখ দেখবে।

নীলিমা এই কথা বলার সাথে সাথে চড় মারলাম।

আমি: আরেক বার এই কথা বললে আমি তোমাকে মেরে ফেলবো।

নীলিমা: হুম তাহলে বলো ভালোবাসি।

আমি: হুম ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি।
আচ্ছা আমি একটা কথা বলি ।

নীলিমা: কী?

আমি: মিস্টি খাবো।

নীলিমা: তাহলে খাও না করছে কে? দোকান থেকে কিনে আনো তারপর খাও।

আমি: না তোমার টা খাবো।

নীলিমা: ওলে বাবারে আমার বাবু নাকি মিষ্টি খাবে। চলো মিষ্টি দেই।

এই বলে আমাকে এক খালি ক্লাস এ নিয়ে আমাদের দুই জনের ঠোট এক করে দিল।

এই থেকে শুরু হলো এক নতুন সর্ম্পক।